ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

কাজের টেনশনই কি কাজ আরও পিছিয়ে দিচ্ছে?

দিন যায়, ডেডলাইন কাছে আসে, আর টেনশন আরও বাড়ে। তবে একে শুধু অলসতা বললে ভুল হবে। ছবি/এআই দিয়ে বানানো

কাজটা করতে হবে – জানেন। কিন্তু শুরু করতে গেলেই অদ্ভুত এক চাপ অনুভব করেন। মনে হয় কাজটা অনেক বড়, সময় কম, আর আপনি প্রস্তুত নন। ফলে শুরুই করা হয় না।
দিন যায়, ডেডলাইন কাছে আসে, আর টেনশন আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত কাজটি হয়তো শেষ হয়, কিন্তু সেই চাপের মধ্যে।
এই চক্রটি অনেকের কাছেই পরিচিত। একে শুধু অলসতা বললে ভুল হবে। বরং এর পেছনে কাজ করে মানসিক চাপ, ভয় এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কিছু প্রতিক্রিয়া।
কেন টেনশন কাজকে পিছিয়ে দেয়?
১. মস্তিষ্ক হুমকি হিসেবে ধরে নেয়
কোনো কাজকে যদি খুব কঠিন বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রতিক্রিয়া চালু হয়। এই অবস্থায় মনোযোগ কমে যায়, কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. ব্যর্থতার ভয়
ভুল হলে কী হবে? – এই চিন্তা অনেক সময় কাজ শুরু করতেই বাধা দেয়। কাজ না করলে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয় না, এমন এক অজান্ত মানসিক কৌশল কাজ করে।
৩. পারফেকশনিজমের চাপ
সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে – এই ধারণা থাকলে শুরুতেই চাপ তৈরি হয়। ফলে কাজটি পিছিয়ে যায়।
৪. মানসিক ক্লান্তি
একই সঙ্গে অনেক কিছু ভাবতে থাকলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন বড় কোনো কাজ শুরু করার শক্তি বা আগ্রহ থাকে না।
৫. কাজকে বড় মনে হওয়া
কাজটি যত বড় মনে হবে, ততই শুরু করতে ভয় লাগবে। ফলে আমরা ছোট, সহজ কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ি।
এই চক্রের প্রভাব কী?
>> কাজ জমে যায়
>> ডেডলাইনের আগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়
>> আত্মবিশ্বাস কমে যায়
>> দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ বাড়তে পারে
কীভাবে এই অবস্থা থেকে বের হবেন?
১. কাজকে ছোট অংশে ভাগ করুন: পুরো কাজের কথা না ভেবে প্রথম ছোট ধাপটি শুরু করুন।
২. শুরু করাই লক্ষ্য: প্রথম ১০-১৫ মিনিট কাজ শুরু করলেই অনেক সময় গতি চলে আসে।
৩. বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: একদিনেই সব শেষ করার চাপ না নিয়ে ধাপে ধাপে এগোন।
৪. নিজের সঙ্গে কথা বলার ধরন বদলান: পারব না – একথা না ভেবে ভাবুন, চেষ্টা করে দেখি।
৫. বিরতি নিন: মাঝে মাঝে ছোট বিরতি মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং কাজের গতি বাড়ায়।
মাথার ভেতরের টেনশন অনেক সময় কাজকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে আরও পিছিয়ে দেয়। তাই টেনশনকে চাপ হিসেবে না দেখে একটি সংকেত হিসেবে ধরুন। ছোট পদক্ষেপই বড় কাজের শুরু – এটি মনে রাখলেই কাজের প্রতি ভয় কমে যাবে, আর গতি নিজে থেকেই ফিরে আসবে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, মায়ো ক্লিনিক

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

কাজের টেনশনই কি কাজ আরও পিছিয়ে দিচ্ছে?

আপডেট সময় ০৩:২৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কাজটা করতে হবে – জানেন। কিন্তু শুরু করতে গেলেই অদ্ভুত এক চাপ অনুভব করেন। মনে হয় কাজটা অনেক বড়, সময় কম, আর আপনি প্রস্তুত নন। ফলে শুরুই করা হয় না।
দিন যায়, ডেডলাইন কাছে আসে, আর টেনশন আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত কাজটি হয়তো শেষ হয়, কিন্তু সেই চাপের মধ্যে।
এই চক্রটি অনেকের কাছেই পরিচিত। একে শুধু অলসতা বললে ভুল হবে। বরং এর পেছনে কাজ করে মানসিক চাপ, ভয় এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কিছু প্রতিক্রিয়া।
কেন টেনশন কাজকে পিছিয়ে দেয়?
১. মস্তিষ্ক হুমকি হিসেবে ধরে নেয়
কোনো কাজকে যদি খুব কঠিন বা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রতিক্রিয়া চালু হয়। এই অবস্থায় মনোযোগ কমে যায়, কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. ব্যর্থতার ভয়
ভুল হলে কী হবে? – এই চিন্তা অনেক সময় কাজ শুরু করতেই বাধা দেয়। কাজ না করলে ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয় না, এমন এক অজান্ত মানসিক কৌশল কাজ করে।
৩. পারফেকশনিজমের চাপ
সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে – এই ধারণা থাকলে শুরুতেই চাপ তৈরি হয়। ফলে কাজটি পিছিয়ে যায়।
৪. মানসিক ক্লান্তি
একই সঙ্গে অনেক কিছু ভাবতে থাকলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন বড় কোনো কাজ শুরু করার শক্তি বা আগ্রহ থাকে না।
৫. কাজকে বড় মনে হওয়া
কাজটি যত বড় মনে হবে, ততই শুরু করতে ভয় লাগবে। ফলে আমরা ছোট, সহজ কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ি।
এই চক্রের প্রভাব কী?
>> কাজ জমে যায়
>> ডেডলাইনের আগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়
>> আত্মবিশ্বাস কমে যায়
>> দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ বাড়তে পারে
কীভাবে এই অবস্থা থেকে বের হবেন?
১. কাজকে ছোট অংশে ভাগ করুন: পুরো কাজের কথা না ভেবে প্রথম ছোট ধাপটি শুরু করুন।
২. শুরু করাই লক্ষ্য: প্রথম ১০-১৫ মিনিট কাজ শুরু করলেই অনেক সময় গতি চলে আসে।
৩. বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: একদিনেই সব শেষ করার চাপ না নিয়ে ধাপে ধাপে এগোন।
৪. নিজের সঙ্গে কথা বলার ধরন বদলান: পারব না – একথা না ভেবে ভাবুন, চেষ্টা করে দেখি।
৫. বিরতি নিন: মাঝে মাঝে ছোট বিরতি মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং কাজের গতি বাড়ায়।
মাথার ভেতরের টেনশন অনেক সময় কাজকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে আরও পিছিয়ে দেয়। তাই টেনশনকে চাপ হিসেবে না দেখে একটি সংকেত হিসেবে ধরুন। ছোট পদক্ষেপই বড় কাজের শুরু – এটি মনে রাখলেই কাজের প্রতি ভয় কমে যাবে, আর গতি নিজে থেকেই ফিরে আসবে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, মায়ো ক্লিনিক