ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা

চুল ত্বকেরই একটি বিশেষ অংশ। মাথার চুল ঝরে দিন দিন টাক পড়ে যাচ্ছে বা চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, এমন লোকের সংখ্যা অনেক। প্রতিদিন ১০০টির বেশি চুল পড়লে মাথা ফাঁকা হতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা এর বিভিন্ন কারণের কথা বলে থাকেন।
অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দায়ী:
১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: পুরুষের শরীরে যখন টেস্টোস্টেরন হরমোন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’-এ রূপান্তর হয়, তখন তা চুলের ফলিকলগুলোকে ছোট করে ফেলে। এ কারণে চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়া শুরু করে।
২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা: পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের জন্য দৌড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক জটিলতা সৃষ্টি করে। এ কারণে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ চুল পড়া শুরু হয়।
৩. পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের অভাবের পাশাপাশি শহরের ধুলাবালি ও শক্ত পানি চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়।
অল্প বয়সে টাক পড়া রোধে করণীয়
১. সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন
ঘন ঘন চুল ধোয়ার জন্য সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। চুল ধোয়ার পর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল কিছুটা গরম করে মাথায় মাসাজ করে নিতে পারেন। যা স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
২. ডায়েটে আনুন পরিবর্তন
চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিনে তৈরি হয়। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম, মাছ, সোয়াবিন, পালং শাক ও বাদাম রাখুন। কারণ, বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
৩. ডার্মারোলার ব্যবহার
ত্বক বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া যতেœ ডার্মারোলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটি মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা নতুন চুল গজাতে সহায়ক।
৪. ডিএইচটি ব্লকার খাবার
কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি ও আমলকী প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবার হিসেবে কাজ করে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
৫. ধূমপান পরিহার ও পর্যাপ্ত ঘুম
ধূমপানের কারণে চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায়। তাই চুল পড়া রোধে ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের মধ্যেই শরীরের কোষগুলো মেরামত হয়।
চিকিৎসা
চুল পড়া রোধে এর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আর চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। তাই চুলের পুষ্টি সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে, ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে।
রোগীভেদে চিকিৎসক খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন, শ্যাম্পু ইত্যাদি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে মেসোথেরাপি ও পিআরপি। এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা করতে বেশ কয়েকটি সেশন ও সময় লাগে। অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের জন্য এটি একটি কার্যকরী চিকিৎসা। চুলের চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদে নিতে হয়। তাই ধৈর্য প্রয়োজন এবং লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কাম্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ ও চিকিৎসা

আপডেট সময় ১০:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল ত্বকেরই একটি বিশেষ অংশ। মাথার চুল ঝরে দিন দিন টাক পড়ে যাচ্ছে বা চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, এমন লোকের সংখ্যা অনেক। প্রতিদিন ১০০টির বেশি চুল পড়লে মাথা ফাঁকা হতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা এর বিভিন্ন কারণের কথা বলে থাকেন।
অল্প বয়সে চুল পড়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ দায়ী:
১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: পুরুষের শরীরে যখন টেস্টোস্টেরন হরমোন ‘ডাই-হাইড্রোটেস্টোস্টেরন’-এ রূপান্তর হয়, তখন তা চুলের ফলিকলগুলোকে ছোট করে ফেলে। এ কারণে চুল পাতলা হয়ে ঝরে পড়া শুরু করে।
২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিদ্রা: পড়ালেখা ও ক্যারিয়ারের জন্য দৌড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ নামক জটিলতা সৃষ্টি করে। এ কারণে হঠাৎ প্রচুর পরিমাণ চুল পড়া শুরু হয়।
৩. পুষ্টির অভাব ও দূষণ: প্রোটিন, বায়োটিন ও আয়রনের অভাবের পাশাপাশি শহরের ধুলাবালি ও শক্ত পানি চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়।
অল্প বয়সে টাক পড়া রোধে করণীয়
১. সঠিক শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচন
ঘন ঘন চুল ধোয়ার জন্য সালফেট ও প্যারাবেনমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। চুল ধোয়ার পর প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ক্যাস্টর অয়েল বা নারকেল তেল কিছুটা গরম করে মাথায় মাসাজ করে নিতে পারেন। যা স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
২. ডায়েটে আনুন পরিবর্তন
চুল মূলত ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিনে তৈরি হয়। এ জন্য প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম, মাছ, সোয়াবিন, পালং শাক ও বাদাম রাখুন। কারণ, বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
৩. ডার্মারোলার ব্যবহার
ত্বক বিশেষজ্ঞরা ঘরোয়া যতেœ ডার্মারোলার ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটি মাথার ত্বকে সূক্ষ্ম ছিদ্র তৈরি করে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায় এবং হেয়ার সিরাম বা ওষুধের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা নতুন চুল গজাতে সহায়ক।
৪. ডিএইচটি ব্লকার খাবার
কুমড়োর বীজ, গ্রিন টি ও আমলকী প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার খাবার হিসেবে কাজ করে। এসব খাবার নিয়মিত খেলে হরমোনজনিত চুল পড়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
৫. ধূমপান পরিহার ও পর্যাপ্ত ঘুম
ধূমপানের কারণে চুলের ফলিকলে রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায়। তাই চুল পড়া রোধে ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন, কারণ ঘুমের মধ্যেই শরীরের কোষগুলো মেরামত হয়।
চিকিৎসা
চুল পড়া রোধে এর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। আর চুলের পুষ্টি আসে হেয়ার বালবের শিরা-উপশিরা থেকে। তাই চুলের পুষ্টি সঞ্চালন করতে হলে হেয়ার ফলিকলের নিচে, ত্বকের গভীরে হেয়ার বালবে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে হবে।
রোগীভেদে চিকিৎসক খাওয়ার ওষুধ, চুল ঝরা বন্ধের লোশন, শ্যাম্পু ইত্যাদি প্রেসক্রাইব করে থাকেন। আধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে মেসোথেরাপি ও পিআরপি। এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা করতে বেশ কয়েকটি সেশন ও সময় লাগে। অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া বা বংশগত টাকের জন্য এটি একটি কার্যকরী চিকিৎসা। চুলের চিকিৎসা দীর্ঘ মেয়াদে নিতে হয়। তাই ধৈর্য প্রয়োজন এবং লাইফস্টাইল ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন কাম্য।