ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নতুন করে ১ লাখ এতিম শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়া হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী Logo আমার ছেলে সাঁতার জানতো, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: তাহসিফ সাউরির বাবা Logo জয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে মির্জা ফয়সল আমিন Logo তিন সংকটের বেড়াজালে পেঁয়াজচাষিরা, লাভের হিসাব কঠিন Logo রূপপুর প্রকল্পে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু Logo জাপানি বিনিয়োগে ৫ বছরে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা Logo সাগর-নদীতে কাক্সিক্ষত ইলিশ আহরণের প্রত্যাশায় ৫ লক্ষাধিক জেলে Logo কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক : চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি Logo এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পেল Logo এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

তিন সংকটের বেড়াজালে পেঁয়াজচাষিরা, লাভের হিসাব কঠিন

মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। শীতের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে এখন ব্যস্ত ফরিদপুরের কৃষকরা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। সার কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে, তবু মিলছে না চাহিদামতো। বেড়েছে জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিও।চাষিরা বলছেন, পেঁয়াজের গুটি কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে আবাদ করেও ন্যায্য লাভ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি। কোথাও জমি তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুটি সংগ্রহ ও রোপণ। আবার কোনো জমিতে চলছে পরিচর্যার কাজ। শীত মৌসুমে দেশের পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আগাম আবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বছরের যে সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকে, তখন ফরিদপুরের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসে।তবে এবার আবাদ শুরুর আগেই উৎপাদন ব্যয়ের চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার মিলছে না। অথচ সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ। জমি প্রস্তুত, সেচ, রোপণ থেকে ফসল তোলাÑপ্রতিটি ধাপেই বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।উৎপাদন খরচ বাড়ছে কয়েক গুণসারের বাড়তি দামই শুধু নয়, মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুটি কিনতেও এবার মণপ্রতি ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানির খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে আবাদ করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা লাগছে।ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর এলাকার পেঁয়াজচাষি রহিম মোল্লা, আবুল কালাম ও জাকির শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘উৎপাদনের উপকরণের দাম বাড়লেও কৃষিপণ্যের বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে বাড়তি বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কম হলে কিংবা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেলে লোকসানের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’একই উপজেলার আরেক চাষি সেকেন্দার আলী বলেন, কয়েক বছর আগে এক বিঘা (৫৫ শতক) জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হতো ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। এখন একই জমিতে কয়েক গুণ বেশি খরচ হচ্ছে। এবার এক বিঘা জমিতে কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে।বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর এলাকার পেঁয়াজচাষি দাউদ শেখ বলেন, মৌসুমের শুরুতেই ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানি সহজলভ্য করা এবং কৃষি উপকরণের বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় কৃষকের ন্যায্য বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।উৎপাদন ব্যাহত হলে প্রভাব পড়বে বাজারেওফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, চাষিরা প্রয়োজনের সময় সার, কীটনাশক ও আনুষঙ্গিক উপকরণ না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সারের বাজারব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো সার পান।ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ দেশের শীতকালীন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। ফরিদপুরে আগাম উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। ফলে এ ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারের সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে মুড়িকাটা বা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ, চাষিদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জমিতে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার ব্যবহারের বিষয়েও তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন করে ১ লাখ এতিম শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেওয়া হবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

তিন সংকটের বেড়াজালে পেঁয়াজচাষিরা, লাভের হিসাব কঠিন

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। শীতের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে এখন ব্যস্ত ফরিদপুরের কৃষকরা। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। সার কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে, তবু মিলছে না চাহিদামতো। বেড়েছে জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিও।চাষিরা বলছেন, পেঁয়াজের গুটি কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এতে আবাদ করেও ন্যায্য লাভ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি। কোথাও জমি তৈরি হচ্ছে, কোথাও চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুটি সংগ্রহ ও রোপণ। আবার কোনো জমিতে চলছে পরিচর্যার কাজ। শীত মৌসুমে দেশের পেঁয়াজের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই আগাম আবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বছরের যে সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকে, তখন ফরিদপুরের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসে।তবে এবার আবাদ শুরুর আগেই উৎপাদন ব্যয়ের চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দিয়েও চাহিদামতো সার মিলছে না। অথচ সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ। জমি প্রস্তুত, সেচ, রোপণ থেকে ফসল তোলাÑপ্রতিটি ধাপেই বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।উৎপাদন খরচ বাড়ছে কয়েক গুণসারের বাড়তি দামই শুধু নয়, মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুটি কিনতেও এবার মণপ্রতি ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানির খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে আবাদ করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা লাগছে।ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর এলাকার পেঁয়াজচাষি রহিম মোল্লা, আবুল কালাম ও জাকির শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘উৎপাদনের উপকরণের দাম বাড়লেও কৃষিপণ্যের বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে বাড়তি বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কম হলে কিংবা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেলে লোকসানের ঝুঁকি আরও বাড়বে।’একই উপজেলার আরেক চাষি সেকেন্দার আলী বলেন, কয়েক বছর আগে এক বিঘা (৫৫ শতক) জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হতো ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। এখন একই জমিতে কয়েক গুণ বেশি খরচ হচ্ছে। এবার এক বিঘা জমিতে কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে।বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর এলাকার পেঁয়াজচাষি দাউদ শেখ বলেন, মৌসুমের শুরুতেই ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি জ্বালানি সহজলভ্য করা এবং কৃষি উপকরণের বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় কৃষকের ন্যায্য বিক্রয়মূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।উৎপাদন ব্যাহত হলে প্রভাব পড়বে বাজারেওফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, চাষিরা প্রয়োজনের সময় সার, কীটনাশক ও আনুষঙ্গিক উপকরণ না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সারের বাজারব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো সার পান।ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ দেশের শীতকালীন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁয়াজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। ফরিদপুরে আগাম উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। ফলে এ ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারের সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান বলেন, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে মুড়িকাটা বা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৫ হেক্টর। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ, চাষিদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জমিতে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার ব্যবহারের বিষয়েও তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।