ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

থমকে গেছে শিশু খালেদার পৃথিবী

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়–য়া শিশু খালেদা আক্তার। কিছুদিন আগেও ভীষণ চঞ্চলতায় ছুটে চলতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে। মাতিয়ে রাখতো, স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী আর সহপাঠীদের। সেই শিশুই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। মাত্র মাসখানেকের ব্যবধানে থমকে গেছে শিশু খালেদার পৃথিবী। এখন বিছানায় শুয়ে-বসে অসহনীয় যন্ত্রণায় দিন পার করছে সে। তার অবুঝ চাহনিতে কেবল বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা। শিশু খালেদা আক্তার ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজছকিনা এলাকার সরকারি একটি আবাসনের বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। এছাড়া স্থানীয় উত্তর লেজছকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী খালেদা আক্তার। সে লিভার ও ফুসফুস জটিলতায় ভুগছে। ছোট্ট কন্যাশিশুর এমন করুণ পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা। মেয়ের অসুস্থতায় চরম দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে তাকে। আব্দুল খালেক বলেন, আমার মোট পাঁচ সন্তান। তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে, একজন ছেলে। মেয়েদের মধ্যে সবার ছোট খালেদা আক্তার। গত এক মাস আগে হঠাৎ স্কুল থেকে এসে পেট ব্যথা করছে বলে জানায় সে। এরপর তাকে লালমোহন সদরে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। সেখানের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন খালেদাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে। চিকিৎসকের কথা মতো কয়েকদিনের মধ্যে তাকে ঢাকার শহীদ সোহ?রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ১৫ দিন থেকে খালেদার চিকিৎসা করাই। এতে খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকার মতো। এইসব টাকা মানুষের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে জোগাড় করেছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খালেদার ফুসফুস ও লিভারে সমস্যা রয়েছে। যার জন্য তার ফুসফুসে পানি জমেছে আর পেট ফুলে গেছে। এ জন্য খালেদাকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা করাতে হবে। যার জন্য লাগবে তিন লক্ষাধিক টাকা। তিনি আরও বলেন, এখন আমি কী করবো তা-ই বুঝতে পারছি না, কারণ আমি দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। এখন এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না। আর টাকা জোগাড় করতে না পারলে মেয়েটা হয়তো চোখের সামনেই ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে। তাই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে খালেদাকে বাঁচাতে পারবো। সুস্থ্য হয়ে সে আবারও শুরু করতে পারবে লেখাপড়া। কেউ খালেদার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭০৯১৩০১৮৯ (নগদ-বিকাশ) নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি। শিশু খালেদা আক্তার জানায়, আমার বাবা গরীব, তার কাছে টাকা নাই। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসার চালান। এখন আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছি। আমার চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে। আমার বাবা কিভাবে এত টাকা জোগাড় করবেন? তবে সবাই সাধ্যমতো সাহায্য করলে আমি বাঁচতে পারবো, সুন্দরভাবে আবারও পড়তে পারবো। পড়ালেখা করে বড় হয়ে বাবা-মাসহ ভাইবোনকে নিয়ে সুন্দর করে বাঁচতে পারবো। উত্তর লেজছকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বশির উল্যাহ বলেন, শিশু খালেদা আমাদের বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। পঞ্চম শ্রেণিতে তার রোল নং: ৩। পড়ালেখার প্রতি খালেদার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে, তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে এখন অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান। তার পক্ষে খালেদার চিকিৎসা করানো সম্ভব না। তাই আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খালেদার চিকিৎসার জন্য কিছুটা সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে আমাদের এই সামান্য সহযোগিতায় খালেদার সম্পূর্ণ চিকিৎসা করানো কখনই সম্ভব হবে না। তাই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের মেধাবী শিক্ষার্থী খালেদার চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

থমকে গেছে শিশু খালেদার পৃথিবী

আপডেট সময় ০২:২৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়–য়া শিশু খালেদা আক্তার। কিছুদিন আগেও ভীষণ চঞ্চলতায় ছুটে চলতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে। মাতিয়ে রাখতো, স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী আর সহপাঠীদের। সেই শিশুই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। মাত্র মাসখানেকের ব্যবধানে থমকে গেছে শিশু খালেদার পৃথিবী। এখন বিছানায় শুয়ে-বসে অসহনীয় যন্ত্রণায় দিন পার করছে সে। তার অবুঝ চাহনিতে কেবল বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা। শিশু খালেদা আক্তার ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজছকিনা এলাকার সরকারি একটি আবাসনের বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। এছাড়া স্থানীয় উত্তর লেজছকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী খালেদা আক্তার। সে লিভার ও ফুসফুস জটিলতায় ভুগছে। ছোট্ট কন্যাশিশুর এমন করুণ পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বাবা। মেয়ের অসুস্থতায় চরম দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে তাকে। আব্দুল খালেক বলেন, আমার মোট পাঁচ সন্তান। তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে, একজন ছেলে। মেয়েদের মধ্যে সবার ছোট খালেদা আক্তার। গত এক মাস আগে হঠাৎ স্কুল থেকে এসে পেট ব্যথা করছে বলে জানায় সে। এরপর তাকে লালমোহন সদরে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। সেখানের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন খালেদাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে। চিকিৎসকের কথা মতো কয়েকদিনের মধ্যে তাকে ঢাকার শহীদ সোহ?রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ১৫ দিন থেকে খালেদার চিকিৎসা করাই। এতে খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকার মতো। এইসব টাকা মানুষের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে জোগাড় করেছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খালেদার ফুসফুস ও লিভারে সমস্যা রয়েছে। যার জন্য তার ফুসফুসে পানি জমেছে আর পেট ফুলে গেছে। এ জন্য খালেদাকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা করাতে হবে। যার জন্য লাগবে তিন লক্ষাধিক টাকা। তিনি আরও বলেন, এখন আমি কী করবো তা-ই বুঝতে পারছি না, কারণ আমি দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। এখন এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না। আর টাকা জোগাড় করতে না পারলে মেয়েটা হয়তো চোখের সামনেই ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে। তাই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে খালেদাকে বাঁচাতে পারবো। সুস্থ্য হয়ে সে আবারও শুরু করতে পারবে লেখাপড়া। কেউ খালেদার চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৭০৯১৩০১৮৯ (নগদ-বিকাশ) নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করছি। শিশু খালেদা আক্তার জানায়, আমার বাবা গরীব, তার কাছে টাকা নাই। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের সংসার চালান। এখন আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছি। আমার চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা লাগবে। আমার বাবা কিভাবে এত টাকা জোগাড় করবেন? তবে সবাই সাধ্যমতো সাহায্য করলে আমি বাঁচতে পারবো, সুন্দরভাবে আবারও পড়তে পারবো। পড়ালেখা করে বড় হয়ে বাবা-মাসহ ভাইবোনকে নিয়ে সুন্দর করে বাঁচতে পারবো। উত্তর লেজছকিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বশির উল্যাহ বলেন, শিশু খালেদা আমাদের বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। পঞ্চম শ্রেণিতে তার রোল নং: ৩। পড়ালেখার প্রতি খালেদার প্রচুর আগ্রহ রয়েছে, তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে এখন অসুস্থ্য হয়ে শয্যাশায়ী। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান। তার পক্ষে খালেদার চিকিৎসা করানো সম্ভব না। তাই আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে খালেদার চিকিৎসার জন্য কিছুটা সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে আমাদের এই সামান্য সহযোগিতায় খালেদার সম্পূর্ণ চিকিৎসা করানো কখনই সম্ভব হবে না। তাই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের মেধাবী শিক্ষার্থী খালেদার চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।