ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

উপকূলজুড়ে নদীভাঙনের তান্ডব

উপকূলীয় জেলা বরগুনা উন্নয়নের দিক থকে পিছিয়ে পড় জনপদ। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বরগুনা জেলার বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বামনা উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাজারো মানুষের বসতভিটা। উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদামটি বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত, যেখানে ২০০০ থেকে ৩০০০ টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুদামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের কোটি টাকার ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। খাদ্যগুদামের পাশেই সরকারের নির্মিত ভূমিহীনদের আবাসন প্রকল্পে শতাধিক হিন্দু-মুসলিম পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙনের ফলে এসব পরিবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। নদী তীরবর্তী গ্রামের শতাধিক মানুষের দিন কাটছে ভাঙন আতঙ্কে। চেঁচান, কলাগাছিয়া সংলগ্ন পূর্ব সফিপুর এলাকায় প্রায় ৭ হাজার ৩৬৫ মানুষের বসবাস। একইসঙ্গে বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বামনা সদর আর রশিদ ফাযিল মাদ্রাসা, ১২নং বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, ৩নং রামনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বহু পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে সর্বশান্তÍ হয়ে পড়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও বিষখালী নদীর ভাঙন পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই বসতঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীতে বিলীন হচ্ছে। ফলে হাজারো মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বামনা লঞ্চঘাট, কলগাছিয়া খাদ্যগুদাম, আবাসন থেকে দক্ষিণ রামনা ও চলাভাংঙ্গা এলাকা। ইতিমধ্যেই বাঁধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা বা টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন ও বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রুহিতা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, প্রতিবছর আমাদের জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগ ছয় মাসও টেকেনি, নদীর প্রবল স্রোতে সব নদীগর্ভে ভেসে গেছে, এ যাবত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব রুহুল আমিন শরিফ বলেন, নদীভাঙন এখন উপকূলবাসীর নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। তিনি আরও বলেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার জনগনের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে ভাঙ্গন রোধে কাজ করার জন্য জাতীয় সংসদের চীপ হুইপ ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি ইতিমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড মন্ত্রনালয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ সরকারের প্রতিদৃষ্টি আকর্ষন করেন। বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকাত আরা বলেন, আমি কয়েক দফায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করেছি।যেহেতু বর্ষা মৌসুম নদীর পানি বেড়েছে তার সাথে তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুনঃরায় বিষয়টি অবহিত করা হবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, দক্ষিণ রামনা ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং এর কাজ চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, নতুন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থায়ী ব্লক স্থাপনের বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

উপকূলজুড়ে নদীভাঙনের তান্ডব

আপডেট সময় ০২:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

উপকূলীয় জেলা বরগুনা উন্নয়নের দিক থকে পিছিয়ে পড় জনপদ। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বরগুনা জেলার বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বামনা উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাজারো মানুষের বসতভিটা। উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদামটি বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত, যেখানে ২০০০ থেকে ৩০০০ টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুদামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের কোটি টাকার ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। খাদ্যগুদামের পাশেই সরকারের নির্মিত ভূমিহীনদের আবাসন প্রকল্পে শতাধিক হিন্দু-মুসলিম পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙনের ফলে এসব পরিবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। নদী তীরবর্তী গ্রামের শতাধিক মানুষের দিন কাটছে ভাঙন আতঙ্কে। চেঁচান, কলাগাছিয়া সংলগ্ন পূর্ব সফিপুর এলাকায় প্রায় ৭ হাজার ৩৬৫ মানুষের বসবাস। একইসঙ্গে বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বামনা সদর আর রশিদ ফাযিল মাদ্রাসা, ১২নং বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, ৩নং রামনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বহু পরিবার সহায়-সম্বল হারিয়ে সর্বশান্তÍ হয়ে পড়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও বিষখালী নদীর ভাঙন পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই বসতঘর, ফসলি জমি, সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীতে বিলীন হচ্ছে। ফলে হাজারো মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বামনা লঞ্চঘাট, কলগাছিয়া খাদ্যগুদাম, আবাসন থেকে দক্ষিণ রামনা ও চলাভাংঙ্গা এলাকা। ইতিমধ্যেই বাঁধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা বা টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন ও বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রুহিতা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, প্রতিবছর আমাদের জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগ ছয় মাসও টেকেনি, নদীর প্রবল স্রোতে সব নদীগর্ভে ভেসে গেছে, এ যাবত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সদস্য ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব রুহুল আমিন শরিফ বলেন, নদীভাঙন এখন উপকূলবাসীর নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। তিনি আরও বলেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার জনগনের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে ভাঙ্গন রোধে কাজ করার জন্য জাতীয় সংসদের চীপ হুইপ ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মণি ইতিমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ড মন্ত্রনালয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ সরকারের প্রতিদৃষ্টি আকর্ষন করেন। বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকাত আরা বলেন, আমি কয়েক দফায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করেছি।যেহেতু বর্ষা মৌসুম নদীর পানি বেড়েছে তার সাথে তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পুনঃরায় বিষয়টি অবহিত করা হবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান বলেন, দক্ষিণ রামনা ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং এর কাজ চলমান রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, নতুন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থায়ী ব্লক স্থাপনের বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।