ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

পটুয়াখালীতে ইউপি সচিব কণার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব কণার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী মশিউর রহমান ঈসা নামে একজন ব্যবসায়ী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউপি সচিব কণা বর্তমানে পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মশিউর রহমান ঈসা ট্রেড লাইসেন্স করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব কণা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরাতে থাকেন, একপর্যায়ে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, ইউপি সচিব কণা অভিযোগকারীর দাবি, তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও সেটির মেয়াদ আগে থেকেই উত্তীর্ণ ছিল। ফলে ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি সচিবকে জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজেও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং সংশোধনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সচিব কণার বিরুদ্ধে এসব কাজে ‘লিটন’ নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনিয়ম করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মনজুর ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ছোট একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সচিব কণা তা প্রত্যাখ্যান করেন। মশিউর রহমান ঈসা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়েছে। এবং অন্যথায় ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগের বিষয়ে সচিব কনার সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে ০১৭১৪৫৫৩৩৭৫ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ মিথ্যা এবং ভুয়া। এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই জেনে আপনাকে জানাতে পারবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

পটুয়াখালীতে ইউপি সচিব কণার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব কণার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী মশিউর রহমান ঈসা নামে একজন ব্যবসায়ী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউপি সচিব কণা বর্তমানে পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মশিউর রহমান ঈসা ট্রেড লাইসেন্স করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব কণা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরাতে থাকেন, একপর্যায়ে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, ইউপি সচিব কণা অভিযোগকারীর দাবি, তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও সেটির মেয়াদ আগে থেকেই উত্তীর্ণ ছিল। ফলে ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি সচিবকে জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজেও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং সংশোধনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সচিব কণার বিরুদ্ধে এসব কাজে ‘লিটন’ নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনিয়ম করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মনজুর ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ছোট একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সচিব কণা তা প্রত্যাখ্যান করেন। মশিউর রহমান ঈসা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়েছে। এবং অন্যথায় ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগের বিষয়ে সচিব কনার সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে ০১৭১৪৫৫৩৩৭৫ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ মিথ্যা এবং ভুয়া। এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই জেনে আপনাকে জানাতে পারবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।