ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

পটুয়াখালীতে ইউপি সচিব কণার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব কণার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী মশিউর রহমান ঈসা নামে একজন ব্যবসায়ী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউপি সচিব কণা বর্তমানে পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মশিউর রহমান ঈসা ট্রেড লাইসেন্স করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব কণা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরাতে থাকেন, একপর্যায়ে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, ইউপি সচিব কণা অভিযোগকারীর দাবি, তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও সেটির মেয়াদ আগে থেকেই উত্তীর্ণ ছিল। ফলে ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি সচিবকে জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজেও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং সংশোধনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সচিব কণার বিরুদ্ধে এসব কাজে ‘লিটন’ নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনিয়ম করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মনজুর ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ছোট একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সচিব কণা তা প্রত্যাখ্যান করেন। মশিউর রহমান ঈসা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়েছে। এবং অন্যথায় ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগের বিষয়ে সচিব কনার সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে ০১৭১৪৫৫৩৩৭৫ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ মিথ্যা এবং ভুয়া। এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই জেনে আপনাকে জানাতে পারবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

পটুয়াখালীতে ইউপি সচিব কণার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব কণার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা নিতে আসা মানুষদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী মশিউর রহমান ঈসা নামে একজন ব্যবসায়ী পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউপি সচিব কণা বর্তমানে পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মশিউর রহমান ঈসা ট্রেড লাইসেন্স করতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সচিব কণা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরাতে থাকেন, একপর্যায়ে লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, ইউপি সচিব কণা অভিযোগকারীর দাবি, তার কাছ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৪ হাজার টাকা নেওয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তাকে একটি ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও সেটির মেয়াদ আগে থেকেই উত্তীর্ণ ছিল। ফলে ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্সের বিষয়টি সচিবকে জানালে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজেও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। দুই শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং সংশোধনের জন্য ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সচিব কণার বিরুদ্ধে এসব কাজে ‘লিটন’ নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনিয়ম করা হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মনজুর ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার ছোট একটি দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা কম দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সচিব কণা তা প্রত্যাখ্যান করেন। মশিউর রহমান ঈসা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাকে বিভিন্ন ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের দিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়েছে। এবং অন্যথায় ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত সচিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া অভিযোগের বিষয়ে সচিব কনার সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে ০১৭১৪৫৫৩৩৭৫ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ মিথ্যা এবং ভুয়া। এবিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই জেনে আপনাকে জানাতে পারবো। তবে ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।