ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়ায় অবৈধ কটেজে উচ্ছেদ করলো প্রশাসন

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পরিবেশ সংকটাপন্ন (ঊঈঅ) ঘোষিত সোনাদিয়া দ্বীপে অবশেষে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কটেজ ও স্থাপনা উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার। অভিযানে বন বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সদস্যরা অংশ গ্রহন করেছেন। অভিযানে প্রথম ধাপে দ্বীপের ঝাউবন কেটে এবং বন বিভাগের খাসজমি দখল করে নির্মিত বেশ কয়েকটি কটেজ, বাঁশ–কাঠের শেড ও টিনশেড স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। পর্যটকদের জন্য তৈরি কিছু অস্থায়ী কটেজের সৌর বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ সংকটাপন্ন এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়ি ঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়- “দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা সোনাদিয়ায় রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে। অপরদিকে কটেজ মালিকদের একাংশ বলছেন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনায় না এনেই একতরফা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া সোনাদিয়া রক্ষা সম্ভব নয়। তারা আরো বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাদিয়ায় সব ধরনের নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও পুরোনো অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করে দ্বীপটিকে প্রকৃতি–নির্ভর টেকসই পর্যটন বা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের এ উচ্ছেদ শেষে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ কটেজ, চিংড়ি ও কাঁকড়া ঘের এবং বন দখলকারী স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে দূর থেকে জমি কিনে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে কাঠামো তুলে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ–সংবেদনশীল এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়িঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল। জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার জানান, দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়ায় অবৈধ কটেজে উচ্ছেদ করলো প্রশাসন

আপডেট সময় ০১:২৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পরিবেশ সংকটাপন্ন (ঊঈঅ) ঘোষিত সোনাদিয়া দ্বীপে অবশেষে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কটেজ ও স্থাপনা উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার। অভিযানে বন বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সদস্যরা অংশ গ্রহন করেছেন। অভিযানে প্রথম ধাপে দ্বীপের ঝাউবন কেটে এবং বন বিভাগের খাসজমি দখল করে নির্মিত বেশ কয়েকটি কটেজ, বাঁশ–কাঠের শেড ও টিনশেড স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। পর্যটকদের জন্য তৈরি কিছু অস্থায়ী কটেজের সৌর বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ সংকটাপন্ন এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়ি ঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘ দিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়- “দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা সোনাদিয়ায় রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে। অপরদিকে কটেজ মালিকদের একাংশ বলছেন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনায় না এনেই একতরফা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া সোনাদিয়া রক্ষা সম্ভব নয়। তারা আরো বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনাদিয়ায় সব ধরনের নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ ও পুরোনো অবৈধ কাঠামো উচ্ছেদ করে দ্বীপটিকে প্রকৃতি–নির্ভর টেকসই পর্যটন বা সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি দীর্ঘদিনের। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের এ উচ্ছেদ শেষে তালিকাভুক্ত সব অবৈধ কটেজ, চিংড়ি ও কাঁকড়া ঘের এবং বন দখলকারী স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। একই সঙ্গে দূর থেকে জমি কিনে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে কাঠামো তুলে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ–সংবেদনশীল এ দ্বীপে কটেজ ব্যবসা চলছিল। এতে একদিকে বন বিভাগের প্যারাবন ও প্রাকৃতিক ঝাউবন ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির পরও এসব স্থাপনা সরানো না হওয়ায় অবশেষে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। সোনাদিয়া দ্বীপকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ম্যানগ্রোভ বন, উপকূলীয় বনভূমি, সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার স্থান, বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিংড়িঘের, কাঁকড়া–চাষ ও কটেজ নির্মাণের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপ থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছিল। জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার জানান, দ্বীপের পরিবেশ ও সরকারী জমি রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্সে যাচ্ছি। কোনো অবৈধ কটেজ, ঘের বা স্থাপনা রাখা হবে না। সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে এ অভিযান চলমান থাকবে।