ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীনগর-রাধিকা মহাসড়কে দুর্ঘটনা ১৭ মাসে ৬৪ জন প্রাণ হারাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-রাধিকা মহাসড়কের (১৩/০৫/২৫) ধনাশী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি গরুকে বাঁচাতে গিয়ে কোমল পানীয় (সফট ড্রিংকস) বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ সামনে চলে আসা একটি গরুকে বাঁচাতে গিয়ে চালক ব্রেক করলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং উল্টে যায়। এই ঘটনায় একটি গরু প্রাণ হারিয়েছে। ট্রাকচালক এবং তার সহকারী (হেল্পার) গুরুতর আহত হয়েছেন । ট্রাকটি কোমল পানীয়র বোতল বোঝাই ছিল। গাড়িটি উল্টে যাওয়ায় বস্তায় ও কার্টন ছিঁড়ে প্রচুর মালামাল রাস্তার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনায় ট্রাকটির সামনের অংশ ও বডি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর পর স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পথচারীরা ভিড় করেন। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। রাস্তার ওপর তেল বা জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় সাবধানে যান চলাচলের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এদিকে নবীনগর-রাধিকা সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। দিন হোক কিংবা গভীর রাতÍএই সড়কে চলাচল মানেই যেনমুত্যু ঝুঁকি নিয়ে পথচলা। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ১৭ মাসে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতি, অবৈধ পার্কিং, সড়কের পাশে বালুর স্তূপ এবং অদক্ষ চালকদের কারণেই দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে সড়কটি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট। অনেক স্থানে সড়কের পাশে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে বিঘœন সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রাতের বেলায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কিছু এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনাও ঘটে থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সড়কের দুই পাশে থাকা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সামনে নেই কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নেই স্পিড ব্রেকার কিংবা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার করছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্পিড ব্রেকারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগর-রাধিকা মহাসড়কে দুর্ঘটনা ১৭ মাসে ৬৪ জন প্রাণ হারাল

আপডেট সময় ০১:৫১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-রাধিকা মহাসড়কের (১৩/০৫/২৫) ধনাশী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি গরুকে বাঁচাতে গিয়ে কোমল পানীয় (সফট ড্রিংকস) বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ সামনে চলে আসা একটি গরুকে বাঁচাতে গিয়ে চালক ব্রেক করলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং উল্টে যায়। এই ঘটনায় একটি গরু প্রাণ হারিয়েছে। ট্রাকচালক এবং তার সহকারী (হেল্পার) গুরুতর আহত হয়েছেন । ট্রাকটি কোমল পানীয়র বোতল বোঝাই ছিল। গাড়িটি উল্টে যাওয়ায় বস্তায় ও কার্টন ছিঁড়ে প্রচুর মালামাল রাস্তার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনায় ট্রাকটির সামনের অংশ ও বডি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর পর স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পথচারীরা ভিড় করেন। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। রাস্তার ওপর তেল বা জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় সাবধানে যান চলাচলের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এদিকে নবীনগর-রাধিকা সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের আরেক নাম। দিন হোক কিংবা গভীর রাতÍএই সড়কে চলাচল মানেই যেনমুত্যু ঝুঁকি নিয়ে পথচলা। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ১৭ মাসে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতি, অবৈধ পার্কিং, সড়কের পাশে বালুর স্তূপ এবং অদক্ষ চালকদের কারণেই দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে সড়কটি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট। অনেক স্থানে সড়কের পাশে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে বিঘœন সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রাতের বেলায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কিছু এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনাও ঘটে থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সড়কের দুই পাশে থাকা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সামনে নেই কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নেই স্পিড ব্রেকার কিংবা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার করছে শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্পিড ব্রেকারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।