নীলফামারীর ডোমারে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ তামিলে গড়িমশির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুলিশের সামনেই বাদীর জমির ৬লক্ষ টাকার ধান ও ভূট্টা লুট করে নিয়ে গেলেও পুলিশ ছিল নিরব দর্শকের ভুমিকায়। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অপরদিকে আদালত ভূক্তভোগীর জমিতে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে উল্টো বিবাদকারীদের পক্ষ নেয়ার অভিযোগ ভূক্তভোগীর। সরেজমিন ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের ময়নুল ইসলামের পুত্র হাসেম আলী,সচিন চন্দ্র সহ কয়েক জনের নিকট দলিল মুলে মোট ৪একর ৮৬শতক জমি ক্রয় করে খাজনা ও খারিজ হাল নাগাদ করে ভোগদখল করে আসছে। তবে উক্ত জমি বাদীর বাড়ী থেকে প্রায় ৩কিলোমিটার দুরে এবং বিবাদীদের বাড়ীর নিকটে হওয়ায় দলিল দাতা সচিন চন্দ্রের পুত্র ধনেশ্বরের উক্ত জমিতে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তার নেতৃত্বে ও নির্দেশে স্থানীয় কিছু ভুমিদস্যু একত্রিত হয়ে, দাপট ও পেশীশক্তি বলে বাদীর ভোগ দখলীয় জমি বেদখল করার হুমকি দিতে থাকে। এবং জমি তাদের বর্গা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। বাদী পক্ষ এতে রাজি না হলে বিবাদীগন একাধিকবার উক্ত নালিশি জমির ফসল কেটে নেয়ার চেষ্টার করে এবং বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। বাদীকে নানাভাবে লাঞ্চিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাদী আদালতে মামলা করলে আদালত উভয় পক্ষের শুনানী অন্তে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদী পক্ষ নালিশী জোতে বে-আইনী অনুপ্রবেশ করিতে না পারে এবং বাদীপক্ষের শান্তিপূর্ণ ভোগদখল ও চাষাবাদে বাঁধা সৃষ্টি করতে না পারে ততমর্মে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। আদেশের কোন ব্যার্থতা বা শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরী হলে বাদীর অনুকুলে তাৎক্ষনিক ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য অফিসার ইনচার্জ ডোমার থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে বিবাদীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয় জ্ঞাত হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং বাদী হাসেম আলীর উক্ত জমিতে লাগানো ধান ও ভূট্টা বিবাদীরা কেটে নিয়ে যায়। এসময় তারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্ণিত জমি বেদখল করার চেষ্টা করে এবং বাদীর লোকজনকে পিটিয়ে ও ছুরি দিয়ে আহত করে। বাদী বিষয়টি প্রথমে থানায় জানিয়ে কোন সুরাহা না পেয়ে পরে ৯৯৯ ফোন দিলে ডোমার থানার পুলিশ বলে ঘটনাস্থলে এসে কি করবো? পারলে বিবাদীদের সাথে আপোষ করেন। পরে ঘটনা স্থলে পুলিশ আসলেও বিবাদীদের কেটে নেয়া ফসল উদ্ধার করে বাদীর নিকট হস্তন্তর না করে উল্টো তাদের জিম্মায় দিয়ে আসে। পরে বাদী হাসেম আলী বিবাদীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত ডোমার থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়নি বলে ভূক্তভোগীর অভিযোগ করেন। এবিষয়ে ভূক্তভোগী হাসেম আলী প্রতিবেদককে জানান, মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদী পক্ষ যেন নালিশী জোতে বে-আইনী অনুপ্রবেশ করিতে না পারে এবং বাদীপক্ষের শান্তিপূর্ণ ভোগদখল ও চাষাবাদে বাঁধা সৃষ্টি করতে না পারে তৎমর্মে আাদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। শুধু তাই নয় ,শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরী হলে আমার অনুকুলে তাৎক্ষনিক ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্যও অফিসার ইনচার্জ ডোমার থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু দঃুখের বিষয় আজকে ডোমার থানার পুলিশের এসআই আঙ্গুর মিয়া ও তার সঙ্গীয়ফোর্সের সামনেই আমার জমির ধান ও ভুট্রা কেটে লুট করে নিয়ে গেলেও তারা দ্বাড়িয়ে দ্বাড়িয়ে নিলর্জের মতো হাসছে। ইতিপূর্বে বিবাদীরা পুলিশের অগচরে ফসল কেটে নিলেও আজকে তাদের সামনে এমন ঘটনা ঘটায় বুঝতে বাকী নেই বিবাদীদের সাথে পুলিশ আমার জমির ফসল ভাগাভাগীর একটি গোপন চুক্তি করেছে। পুলিশের প্রত্যক্ষ মদদ না পেলে সন্ত্রাসীরা দিনেÑদুপুরে কিভাবে পুলিশের সামনে আমার জমির ফসল কেটে লুট করে? আমার পক্ষে আদালতের আদেশ থাকার পরও পুলিশের এমন গড়িমশিতে আমি হতভম্ভ।
নীলফামারী জেলা জজ আদালতের কৌশলী এ্যাডঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালত হাসেম আলীর অনুকুলে যে আদেশ ডোমার থানাকে দিয়েছেন তা প্রতিপালন করা পুলিশের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য। জনগনের জান ও মাল রক্ষায় রাষ্ট্রের দেয়া আদেশ অমান্য, শৈথিল্য বা গড়িমশি করলে আদালতে পুলিশকেও জবাব দিহি করতে হবে। এবিষয়ে ডোমার থানার এসআই আঙ্গুর মিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার সামনেই বিবাদীদের ফসল কেটে লুট করে নেয়ার বিষয় স্বীকার করে বলেন, বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
সংবাদ শিরোনাম
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা বাদীর জমির ৬ লক্ষ টাকার ভূট্টা লুটের অভিযোগ
-
আনিছুর রহমান মানিক (ডোমার) নীলফামারী - আপডেট সময় ০১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- 134
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















