মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রভাবশালী পরিবহন শ্রমিক গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনা ও স্টেশন রোড এলাকায় রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়া এই সংঘর্ষের ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত ৩ জন সংবাদকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক খোলা কাগজের মৌলভীবাজার জেলার স্টাফ রিপোর্টার ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কেষাধ্যক্ষ মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির), দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিবেদক ইসমাইল মাহমুদ এবং দৈনিক ভোরের ডাকের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন বাচ্চু। ঘটনায় খবর পেয়ে বিকেলে আহত সাংবাদিকদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মহিউদ্দিন জারু, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি হাজী কামাল হোসেন, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ন সম্পাদক সৈয়দ সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ববিরোধ ও তুচ্ছ কথাকাটাকাটির জের ধরে হঠাৎ করেই উভয় পক্ষের শত শত শ্রমিক লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শুরু হয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শ্রীমঙ্গল শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে থাকেন এবং চৌমুহনা ও আশপাশের সমস্ত বিপণিবিতান ও দোকানপাট নিমেষেই বন্ধ হয়ে যায়। এই সংঘর্ষের প্রত্যক্ষ প্রভাবে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘ প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা যাবৎ সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে থাকে, যার ফলে দূরপাল্লার হাজারো সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এক তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ ও কঠোর অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মুন্না ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ তৎপরতায় বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে এবং এই সহিংসতার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সংঘর্ষের সময়কার ও আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংগ্রহ করা হচ্ছে; অপরাধী যে-ই হোক না কেন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, তিনি ইতোমধ্যেই শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং দ্রুত একটি ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। বারবার এই ধরনের শ্রমিক সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রীমঙ্গলের সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সমাধান ও কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক আহতদের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতার আনার দাবি জানান। নতুবা কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সংবাদ শিরোনাম
শ্রীমঙ্গলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পরিবহন শ্রমিক গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন সাংবাদিকসহ আহত-২০
-
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৬:০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- 108
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















