খরার উপর মরার ঘা আর সেই বানী চির সত্যে আবারও প্রমাণ হলো মিয়ারহাট বাজারে। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক এগারোটার দিকে মিয়ারহাট বাজারের নদী সংলগ্ন সার বীজ দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ব্যাবসায়ীরা মনে করেন। শনিরদশা পিছু ছাড়ছে না মিয়ারহাট বাজারের ব্যাবসায়ীদের। প্রতি বছরের মতো এবারও আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছে ব্যাবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান।গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের সার ও কীটনাশক গলির একটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের সুতা-দড়ি, প্লাস্টিক ও কাপড়ের পাইকারি দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।অভিযোগ উঠেছে, মালিক পক্ষের খামখেয়ালীতে বাজারের ব্যাবসায়ীরা এক ধরনের জিম্মি। আইনের শাসন সহ কোন ধরনের বাজার কমিটি নেই বললেই চলে। মনে হয় সৌদি আরবের রাজতন্ত্র বিরাজ করছে মিয়ারহাট বাজারে। রাজতন্ত্রের শাসনই চূড়ান্ত হয় মিয়ারহাট বাজারে আইন কানুন প্রয়োগের ক্ষেত্রে। গণতন্ত্রের চর্চা নেই বললেই চলে। বিগত বহু বছর ধরে কোন নির্বাচিত বাজার কমিটি নেই। রাজতন্ত্রের শাসনই চূড়ান্ত হয় সাধারণ ব্যাবসায়ীদের উপর। সুপ্রিয় পাঠকদের জন্য বলছিলাম পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম জমজমাট মিয়ারহাট বাজারের কথা।সৃষ্টি থেকেই একক শাসন ছিল। বেঁচে থাকার তাগিদে সাধারণ ব্যাবসায়ীরা বরাবরই নতজানু হয়ে থাকতে হতো। বাকস্বাধীনতা ছিল না। বিগত শেখ হাসিনার শাসনামলের মতোন চলতো। হুটহাট করে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত ক্ষমতা ছিল না সাধারণ ব্যাবসায়ীদের। ছিল সৌদি আরবের রাজতন্ত্র মানে শেখ হাসিনা তন্ত্র । আর সেই সূত্র ধরেই প্রতিবছর সাধারণ ব্যাবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছে। অনেক ব্যাবসায়ী ব্যাংকের লোন নিয়ে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতো। কিন্তু প্রতি বছরের আগুনে পুড়ে ছারখার হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে দারুণ বেগ পেতে হয়। নেছারাবাদে ?এক বছরের ব্যবধানে ফের আগুন, মিয়ারহাট বাজারে পুড়ল বহু দোকান, দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। এব্যাপারে বন্দরের বহু ব্যাবসায়ীরা গণ মাধ্যম কর্মীদের বলেন, ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকা-ে অন্তত ১৯টি দোকান ও একটি পাকা ভবন সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত গতিতে আসার চেষ্টা করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সহ স্থানীয়দের প্রায় ৪ ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও এমন ভয়াবহ অগ্নিকা-ে তারা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর পরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে মিয়ারহাট বাজারের ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। এক বিবৃতিতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। এলাকাবাসী দাবি অতি দ্রুত আমাদের মিয়ারহাট বন্দরে ইন্দেরহাট মিয়ারহাট ব্রিজ পুনর্র্নিমাণ রাস্তাঘাট মেরামত সহ একটি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হোক।
সংবাদ শিরোনাম
কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছারখার! ব্যবসায়ীরা বিপাকে!
-
নিয়াজ মোর্শেদ (স্বরূপকাঠি) পিরোজপুর - আপডেট সময় ০৬:১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- 115
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















