ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

লালমোহনে কালুতে আকর্ষণ

ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে গবাদি পশু কোরবানি দেবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ঈদকে সামনে রেখে ভোলার লালমোহন উপজেলার খামারিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন খামারে চলছে গবাদিপশুর পরিচর্যা ও বাজারজাতের শেষ প্রস্তুতি। আশানুরূপ দাম পেতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন গবাদিপশুর মালিকরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলো। তবে এরমধ্যে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু সবার নজর কেড়েছে। গ্রামীণ পরিবেশে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পরম যতেœ লালন-পালন করা ওই গরুটির নাম ‘কালু’ রেখেছেন মালিক। গরুটির ওজন অন্তত ১৫ মণ। গরুটি উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. বাবুলের। কুচকুচে কালো রঙ, সুঠাম দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে এবারের ঈদুল আজহায় লালমোহনের আকর্ষণ গরুটি। মালিক গরুটির দাম হেঁকেছেন ৫ লাখ টাকা। ওই গরুর মালিক মো. বাবুল জানান, প্রায় চার বছর আগে মাত্র আট মাস বয়সে ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি কিনে আনি। গরুটির গায়ের রঙ কালো হওয়ায় নাম দিয়েছি ‘কালু’। বর্তমানে গরুটির ওজন ১৫ মনের মতো। গম-ডালের ভূষি, খড়, চিটাগুড়সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে পরম যতেœ লালন-পালন করে গরুটিকে বড় করেছি। যার জন্য গরুটির প্রতি ভীষণ মায়া জন্মে গেছে। তিনি আরও বলেন, তবে এখন হঠাৎ করে আর্থিক সংকট দেখা দেওয়ায় আর স্ত্রী অসুস্থ্য থাকায় গরুটি এবারের কোরবানিতে বিক্রি করে দেবো। তাই গরুটি কয়েকটি হাটে তুলেছি। গরুটির দাম দিয়েছি ৫ লাখ টাকা, তবে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দাম বলেছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে দামে বনিবনা হলে আরও কিছুটা কম মূল্যে গরুটি বিক্রি করে দেবো। অপরদিকে, এ বছরের ঈদুল আজহায় লালমোহনে ১৬ হাজার ৭৪১টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে- ষাঁড় ৫ হাজার ৫৫০টি, বলদ ৩ হাজার ৭৭০টি, গাভী ১ হাজার ১০০টি, মহিষ ৬৭৫টি, ছাগল ৪ হাজার ৯৫৫টি, ভেড়া ৬৯১টি। তবে উপজেলায় এ বছর কোরবানিতে চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৭৪০টি পশুর। লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, কোরবানি উপলক্ষ্যে কেউ যেন অসাধু উপায়ে পশুকে মোটাতাজার লক্ষে স্টেরয়েড ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। যার জন্য উপজেলার প্রতিটি পশুর হাট নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

লালমোহনে কালুতে আকর্ষণ

আপডেট সময় ০৩:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে গবাদি পশু কোরবানি দেবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ঈদকে সামনে রেখে ভোলার লালমোহন উপজেলার খামারিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন খামারে চলছে গবাদিপশুর পরিচর্যা ও বাজারজাতের শেষ প্রস্তুতি। আশানুরূপ দাম পেতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন গবাদিপশুর মালিকরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলো। তবে এরমধ্যে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু সবার নজর কেড়েছে। গ্রামীণ পরিবেশে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পরম যতেœ লালন-পালন করা ওই গরুটির নাম ‘কালু’ রেখেছেন মালিক। গরুটির ওজন অন্তত ১৫ মণ। গরুটি উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. বাবুলের। কুচকুচে কালো রঙ, সুঠাম দেহ আর শান্ত স্বভাবের কারণে এবারের ঈদুল আজহায় লালমোহনের আকর্ষণ গরুটি। মালিক গরুটির দাম হেঁকেছেন ৫ লাখ টাকা। ওই গরুর মালিক মো. বাবুল জানান, প্রায় চার বছর আগে মাত্র আট মাস বয়সে ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি কিনে আনি। গরুটির গায়ের রঙ কালো হওয়ায় নাম দিয়েছি ‘কালু’। বর্তমানে গরুটির ওজন ১৫ মনের মতো। গম-ডালের ভূষি, খড়, চিটাগুড়সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে পরম যতেœ লালন-পালন করে গরুটিকে বড় করেছি। যার জন্য গরুটির প্রতি ভীষণ মায়া জন্মে গেছে। তিনি আরও বলেন, তবে এখন হঠাৎ করে আর্থিক সংকট দেখা দেওয়ায় আর স্ত্রী অসুস্থ্য থাকায় গরুটি এবারের কোরবানিতে বিক্রি করে দেবো। তাই গরুটি কয়েকটি হাটে তুলেছি। গরুটির দাম দিয়েছি ৫ লাখ টাকা, তবে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দাম বলেছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে দামে বনিবনা হলে আরও কিছুটা কম মূল্যে গরুটি বিক্রি করে দেবো। অপরদিকে, এ বছরের ঈদুল আজহায় লালমোহনে ১৬ হাজার ৭৪১টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে- ষাঁড় ৫ হাজার ৫৫০টি, বলদ ৩ হাজার ৭৭০টি, গাভী ১ হাজার ১০০টি, মহিষ ৬৭৫টি, ছাগল ৪ হাজার ৯৫৫টি, ভেড়া ৬৯১টি। তবে উপজেলায় এ বছর কোরবানিতে চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৭৪০টি পশুর। লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, কোরবানি উপলক্ষ্যে কেউ যেন অসাধু উপায়ে পশুকে মোটাতাজার লক্ষে স্টেরয়েড ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি। যার জন্য উপজেলার প্রতিটি পশুর হাট নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।