ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

বড়লেখায় উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ভূমি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের খাজনা প্রদানে অনলাইনে বেশি টাকা এন্ট্রি দিয়ে পরে উৎকোচ নিয়ে কম টাকার রশিদ প্রদান, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ি, ব্রিকফিল্ড মালিক ও ট্রাক/ট্রাক্টর মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কৃষি জমির উর্বরি (টপ সয়েল) মাটি পাচার সহ নানা অনিয়ন-দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগিরা অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (সমন্বিত হবিগঞ্জ জেলা), বড়লেখা ইউএনও ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভূমি মালিক মতিলাল দাস, মো. কুরেশীয়া, রহিম বক্ত মুসা, মুরাদ হোসাইন, রেজাউর রহমান, দিলিপ দাস, মো.হাসু মিয়া, মছন আলী, আব্দুল কাইয়ুম, সবু মিয়া, মো. জুনেদ আহমদ, কয়েছ আহমদ, বাবুল হোসেন, সামছুল হক প্রমুখ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগি স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি তহসিলদার (ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকার অত্র অফিসের পুর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খাজনা আদায়ে ভূমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগিরা দক্ষিণভাগ দক্ষিণ তহসিল অফিসে প্রতিবছরই জমির খাজনা পরিশোধ করেন। এই তহসিল অফিসের আওতাধীন এলাকার অধিকাংশ মানুষ অর্ধশিক্ষিত/প্রবাসী হওয়ায় অনেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে তেমন বুঝেন না। বিগত বছরের জমির খাজনা তহসিল অফিসে গিয়ে যতটুকু ভূমি ভোগদখল করতেন ততটুকুর খাজনা পরিশোধ করতে পারতেন। কিন্তু ইদানিং জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশীষ কুমার সরকার তহসিলদারের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিগত দিনের পরিশোধিত খাজনার রশিদ নিয়ে গেলে তিনি বলেন, এগুলো ভূয়া ও জাল। আমাদের মূল রশিদে ১৪২০ বাংলা পর্যন্ত পরিশোধিত। কারো ১৪১৪ বাংলা, কারো ১৪২৫, ১৪২৯ বাংলা পরিশোধিত সত্ত্বেও তিনি ১৩৭৯ইং সন থেকে বকেয়া দেখিয়ে সব টাকা অনলাইনে পরিশোধের চাপ দেন। পরে তিনি হিসাব করে অনলাইনে আমাদের আইডিতে ২০ হাজার, ৩০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লক্ষ টাকা এন্ট্রি করে দেন। বিরাট অঙ্কের খাজনা দেখে যোগাযোগ করলে সিস্টেমে আসলে তিনি কমিয়ে দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন। পরবর্তীতে ১০ হাজার, ২০ হাজার নিয়ে ১১২ টাকার খাজনা রশিদ দেন। যাহা তার ইউজার আইডি ও নোটিশ জারির কপি যাচাই করলে সত্যতা মিলবে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার বিভিন্ন সময়ে খাজনা পরিশোধের জন্য এলাকায় মাইকিং করিয়ে জনসাধারণকে অফিসে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আইন কানুন শুনিয়ে/ভয়ভীতি দেখান। বারবার ধর্না দিলে একপর্যায়ে যার যত টাকার খাজনা নোটিশে লিখেন তার অর্ধেক দিলে তিনি পরিশোধ করে দিতে পারবেন বলে জানান। কিন্তু উক্ত অর্ধেক টাকা দিলে তিনি যৎসামন্য অর্থ্যাৎ ১১২/- বা ১০০০/- থেকে ১৫০০/- টাকার রশিদ প্রদান করেন। কম টাকার রসিদ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নাকি তাকে টাকা দিতে হয়। বেশি কথা বললে রাগান্বিত হয়ে উক্ত রশিদ বাতিল এবং সার্টিফিকেট মামলা দিয়ে উক্ত ভূমি সরকারি খাস খতিয়ানে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগিরা আরো বলেন, অনলাইনে ভূমির নামজারী আবেদন করলে এসিল্যান্ড হতে তার কাছে প্রতিবেদন চাইলে তিনি সবাইকে ফোন দিয়ে অফিসে ডাকেন। অফিসে গেলে জমির সীমানা নাই, জমির তফশীল সঠিক নয়, মোহরির ভুল করছে, হিস্যার মিল নেই, নামে ও আবেদনে ভুল আছে ইত্যাদি বলে নামজারী হবে না জানিয়ে ভুক্তভোগিদের ভয়ভীতি দেখান। পরে বিশেষভাবে ম্যানেজ করার ইঙ্গিত দেন। ৫ হাজার/১০ হাজার টাকা দিলে আবেদন রিপোর্ট পক্ষে দেন। টাকা দিলে সমাধান হয়, না হলে বিভিন্ন আইন-কানুন দেখিয়ে নামজারি আবেদন বাতিলের প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। দিনে ও রাতে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে ট্রাক-ট্রাক্টরে বিভিন্ন ভিটা ভরাটে ও ইটভাটায় পরিবহন করায় এলাকার রাস্তাঘাটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রাস্তাঘাটে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগি এলাকাবাসি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে তার কাছে গেলে তিনি ব্যবস্থা নেন না। ইট ভাটা/অবৈধ মাটি ব্যবসায়ি ও পরিবহণ মালিকদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ায় অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি তা বন্ধ করেননি। বিভিন্ন কৃষিজমিতে অবৈধ মাটি কাটায় রাস্তাঘাটের ক্ষতি, পরিবেশ বিপর্যয় রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসি সহকারি কমিশনার (ভূমি)’র কাছে অভিযোগ দেন। তখন সহকারি কমিশনার তাকেই সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বললে তিনি অবৈধ মাটি কাটার কোনো স্পট পাননি বলে মিথ্যা তথ্য দেন। এছাড়া সুজানগর ও দক্ষিণভাগ এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার খবর পেয়ে এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্ট করতে অফিস থেকে বের হতেই তহসিলদার আশিষ কুমার সরকার অবৈধ মাটি ব্যসায়িদের আগাম খবর দিয়ে দেন। এতে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অসাধূরা ট্রাক/ট্রাক্টর ও শ্রমিকদের সরিয়ে ফেলে। আমরা এসিল্যান্টকে অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে বারবার অভিযোগ করলে তিনি বলেন স্থানীয় তহসিলদারকে আমি পাঠাচ্ছি। কিন্তু উক্ত তহসিলদার সেখানে গিয়ে মাটির গাড়ির মালিকের কাছ থেকে ২০/৩০ হাজার টাকা নিয়ে এসিল্যান্টকে বলেন কোন গাড়ি পাইনি, মাটি কাটা হচ্ছে না। ফলে, এলাকাবাসি একাধিকবার ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে অবগত করেও প্রতিকার পাননি। আশীষ কুমার সরকার ২০২৪ সালে এই তহসিল অফিসে যোগদানের পর পরিবেশ বিপর্যয়কারি অসাধু চক্র তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন টিলা ও ফসলি জমির মাটি পাচার করেছে। উপজেলা ভূমি অফিসে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে ওই অফিসে থাকা তার সহযোগিরা অভিযোগের কাগজপত্র গায়েব করে ফেলে। যার কারণে এসিল্যান্ড তার অনিয়ম-দুর্নীতির কিছুই জানতেন না। ভুক্তভোগি মতিলাল দাস বলেন, খাজনা দিতে গেলে তহশিলদার আশীষ কুমার সরকার প্রথমে তাকে ৩,৮৩,৩৯০/- টাকা খাজনা আসছে বলে জানান। পুরাতন রশিদ দেখালে সেটি ভূয়া বলে নতুন করে অনলাইনে সম্পূর্ণ খাজনা পরিশোধ করতে বলেন। কোনোভাবে খাজনা কমানোর সুযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে অনেকক্ষণ হিসাব-নিকাশ করে বলেন, সব মিলিয়ে ১,২৫০০০ টাকা দিবেন।
তবে রশিদ পাবেন ৫০ হাজার টাকার। এভাবে চুক্তিবদ্ধ না হলে তিনি জমির খাজনা আদায়ে বিভিন্ন অযৌক্তিক ইস্যু দেখিয়ে জনসাধারণকে খাজনা পরিশোধে নিরুৎসাহী করেন। ভূক্তভোগীরা আরোও জানান, যোগদানের পর ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি/সেক্রেটারীকে সাথে নিয়ে অফিসে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করতো। দম্ভ করে বলতেন তিনি নাকি কলেজে পড়াকালীন কলেজ ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ছিলেন। অভিযাগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেকটা ধমকের স্বরে তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার বলেন, ‘এসব অভিযাগ মিথ্যা-বানোয়াট। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে নিউজ করতে পারেন। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পর অভিযোগটি তদন্তে পাঠাবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

বড়লেখায় উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ভূমি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের খাজনা প্রদানে অনলাইনে বেশি টাকা এন্ট্রি দিয়ে পরে উৎকোচ নিয়ে কম টাকার রশিদ প্রদান, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ি, ব্রিকফিল্ড মালিক ও ট্রাক/ট্রাক্টর মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কৃষি জমির উর্বরি (টপ সয়েল) মাটি পাচার সহ নানা অনিয়ন-দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগিরা অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (সমন্বিত হবিগঞ্জ জেলা), বড়লেখা ইউএনও ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভূমি মালিক মতিলাল দাস, মো. কুরেশীয়া, রহিম বক্ত মুসা, মুরাদ হোসাইন, রেজাউর রহমান, দিলিপ দাস, মো.হাসু মিয়া, মছন আলী, আব্দুল কাইয়ুম, সবু মিয়া, মো. জুনেদ আহমদ, কয়েছ আহমদ, বাবুল হোসেন, সামছুল হক প্রমুখ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগি স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি তহসিলদার (ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকার অত্র অফিসের পুর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খাজনা আদায়ে ভূমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগিরা দক্ষিণভাগ দক্ষিণ তহসিল অফিসে প্রতিবছরই জমির খাজনা পরিশোধ করেন। এই তহসিল অফিসের আওতাধীন এলাকার অধিকাংশ মানুষ অর্ধশিক্ষিত/প্রবাসী হওয়ায় অনেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে তেমন বুঝেন না। বিগত বছরের জমির খাজনা তহসিল অফিসে গিয়ে যতটুকু ভূমি ভোগদখল করতেন ততটুকুর খাজনা পরিশোধ করতে পারতেন। কিন্তু ইদানিং জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশীষ কুমার সরকার তহসিলদারের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিগত দিনের পরিশোধিত খাজনার রশিদ নিয়ে গেলে তিনি বলেন, এগুলো ভূয়া ও জাল। আমাদের মূল রশিদে ১৪২০ বাংলা পর্যন্ত পরিশোধিত। কারো ১৪১৪ বাংলা, কারো ১৪২৫, ১৪২৯ বাংলা পরিশোধিত সত্ত্বেও তিনি ১৩৭৯ইং সন থেকে বকেয়া দেখিয়ে সব টাকা অনলাইনে পরিশোধের চাপ দেন। পরে তিনি হিসাব করে অনলাইনে আমাদের আইডিতে ২০ হাজার, ৩০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লক্ষ টাকা এন্ট্রি করে দেন। বিরাট অঙ্কের খাজনা দেখে যোগাযোগ করলে সিস্টেমে আসলে তিনি কমিয়ে দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন। পরবর্তীতে ১০ হাজার, ২০ হাজার নিয়ে ১১২ টাকার খাজনা রশিদ দেন। যাহা তার ইউজার আইডি ও নোটিশ জারির কপি যাচাই করলে সত্যতা মিলবে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার বিভিন্ন সময়ে খাজনা পরিশোধের জন্য এলাকায় মাইকিং করিয়ে জনসাধারণকে অফিসে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আইন কানুন শুনিয়ে/ভয়ভীতি দেখান। বারবার ধর্না দিলে একপর্যায়ে যার যত টাকার খাজনা নোটিশে লিখেন তার অর্ধেক দিলে তিনি পরিশোধ করে দিতে পারবেন বলে জানান। কিন্তু উক্ত অর্ধেক টাকা দিলে তিনি যৎসামন্য অর্থ্যাৎ ১১২/- বা ১০০০/- থেকে ১৫০০/- টাকার রশিদ প্রদান করেন। কম টাকার রসিদ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নাকি তাকে টাকা দিতে হয়। বেশি কথা বললে রাগান্বিত হয়ে উক্ত রশিদ বাতিল এবং সার্টিফিকেট মামলা দিয়ে উক্ত ভূমি সরকারি খাস খতিয়ানে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগিরা আরো বলেন, অনলাইনে ভূমির নামজারী আবেদন করলে এসিল্যান্ড হতে তার কাছে প্রতিবেদন চাইলে তিনি সবাইকে ফোন দিয়ে অফিসে ডাকেন। অফিসে গেলে জমির সীমানা নাই, জমির তফশীল সঠিক নয়, মোহরির ভুল করছে, হিস্যার মিল নেই, নামে ও আবেদনে ভুল আছে ইত্যাদি বলে নামজারী হবে না জানিয়ে ভুক্তভোগিদের ভয়ভীতি দেখান। পরে বিশেষভাবে ম্যানেজ করার ইঙ্গিত দেন। ৫ হাজার/১০ হাজার টাকা দিলে আবেদন রিপোর্ট পক্ষে দেন। টাকা দিলে সমাধান হয়, না হলে বিভিন্ন আইন-কানুন দেখিয়ে নামজারি আবেদন বাতিলের প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। দিনে ও রাতে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে ট্রাক-ট্রাক্টরে বিভিন্ন ভিটা ভরাটে ও ইটভাটায় পরিবহন করায় এলাকার রাস্তাঘাটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রাস্তাঘাটে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগি এলাকাবাসি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে তার কাছে গেলে তিনি ব্যবস্থা নেন না। ইট ভাটা/অবৈধ মাটি ব্যবসায়ি ও পরিবহণ মালিকদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ায় অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি তা বন্ধ করেননি। বিভিন্ন কৃষিজমিতে অবৈধ মাটি কাটায় রাস্তাঘাটের ক্ষতি, পরিবেশ বিপর্যয় রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসি সহকারি কমিশনার (ভূমি)’র কাছে অভিযোগ দেন। তখন সহকারি কমিশনার তাকেই সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বললে তিনি অবৈধ মাটি কাটার কোনো স্পট পাননি বলে মিথ্যা তথ্য দেন। এছাড়া সুজানগর ও দক্ষিণভাগ এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার খবর পেয়ে এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্ট করতে অফিস থেকে বের হতেই তহসিলদার আশিষ কুমার সরকার অবৈধ মাটি ব্যসায়িদের আগাম খবর দিয়ে দেন। এতে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অসাধূরা ট্রাক/ট্রাক্টর ও শ্রমিকদের সরিয়ে ফেলে। আমরা এসিল্যান্টকে অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে বারবার অভিযোগ করলে তিনি বলেন স্থানীয় তহসিলদারকে আমি পাঠাচ্ছি। কিন্তু উক্ত তহসিলদার সেখানে গিয়ে মাটির গাড়ির মালিকের কাছ থেকে ২০/৩০ হাজার টাকা নিয়ে এসিল্যান্টকে বলেন কোন গাড়ি পাইনি, মাটি কাটা হচ্ছে না। ফলে, এলাকাবাসি একাধিকবার ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে অবগত করেও প্রতিকার পাননি। আশীষ কুমার সরকার ২০২৪ সালে এই তহসিল অফিসে যোগদানের পর পরিবেশ বিপর্যয়কারি অসাধু চক্র তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন টিলা ও ফসলি জমির মাটি পাচার করেছে। উপজেলা ভূমি অফিসে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে ওই অফিসে থাকা তার সহযোগিরা অভিযোগের কাগজপত্র গায়েব করে ফেলে। যার কারণে এসিল্যান্ড তার অনিয়ম-দুর্নীতির কিছুই জানতেন না। ভুক্তভোগি মতিলাল দাস বলেন, খাজনা দিতে গেলে তহশিলদার আশীষ কুমার সরকার প্রথমে তাকে ৩,৮৩,৩৯০/- টাকা খাজনা আসছে বলে জানান। পুরাতন রশিদ দেখালে সেটি ভূয়া বলে নতুন করে অনলাইনে সম্পূর্ণ খাজনা পরিশোধ করতে বলেন। কোনোভাবে খাজনা কমানোর সুযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে অনেকক্ষণ হিসাব-নিকাশ করে বলেন, সব মিলিয়ে ১,২৫০০০ টাকা দিবেন।
তবে রশিদ পাবেন ৫০ হাজার টাকার। এভাবে চুক্তিবদ্ধ না হলে তিনি জমির খাজনা আদায়ে বিভিন্ন অযৌক্তিক ইস্যু দেখিয়ে জনসাধারণকে খাজনা পরিশোধে নিরুৎসাহী করেন। ভূক্তভোগীরা আরোও জানান, যোগদানের পর ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি/সেক্রেটারীকে সাথে নিয়ে অফিসে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করতো। দম্ভ করে বলতেন তিনি নাকি কলেজে পড়াকালীন কলেজ ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ছিলেন। অভিযাগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেকটা ধমকের স্বরে তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার বলেন, ‘এসব অভিযাগ মিথ্যা-বানোয়াট। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে নিউজ করতে পারেন। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পর অভিযোগটি তদন্তে পাঠাবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।