ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

মা-বাবার খেদমতে যেভাবে গড়ে উঠে সন্তানের ভবিষ্যৎ

মানুষের জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার, আর সেই শিক্ষালয়ের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন মা-বাবা। সন্তানের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
ইসলামে মা-বাবার খেদমতকে শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মহান ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যে সন্তান আন্তরিকভাবে মা-বাবার সেবা করে, তাদের সম্মান করে এবং তাদের দোয়া অর্জন করে, তার জীবন আল্লাহ তাআলা বরকতময় করে দেন। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর বহু সফল ব্যক্তি তাদের সাফল্যের পেছনে মা-বাবার দোয়া ও খেদমতের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই মা-বাবার খেদমত কেবল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ নয়; বরং এটি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দুনিয়ার সফলতা এবং আখিরাতের মুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তারা একজন বা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ বল না এবং তাদের ধমক দিও না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা-বাবার খেদমত আদব, সম্মান এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সঙ্গে একত্র করে ফরজ করেছেন। মহান আল্লাহর ইবাদত করা যেমন প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ, তেমনি মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাও ফরজ।
মহান আল্লাহ সন্তানকে তার মা-বাবার কাছে এতটা ঋণী করেছেন যে পৃথিবীর সব কিছু দিয়ে হলেও কোনো সন্তানই তার মা-বাবার ঋণ শোধ করতে পারবে না।
এ কারণে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের শুকরিয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেন, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, কোনো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করল, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বলেন, সময় হলে নামাজ পড়া। সে আবার প্রশ্ন করল, এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার। (মুসলিম, আয়াত : ৮৫)
মা-বাবা যদি অমুসলিমও হন, তবু তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। তাদের আদর-আপ্যায়ন করতে হবে। আসমা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমার জননী মুশরিকা। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাকে আদর-আপ্যায়ন করা জায়েজ হবে কি? তিনি বলেন, ‘তোমার জননীকে আদর-আপ্যায়ন কর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৩)
তবে তারা যদি এমন কাজ করতে আদেশ করেন, যা করলে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করতে হয়, বা কুফরি করতে হয়, তবে সেই কাজ করার অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিচ্ছি তার মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার ওপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত : ৮)
আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন, ‘তোমার মা-বাবা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করেন আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মেনো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সৎভাবে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৫)
অর্থাৎ যার মা-বাবা অমুসলিম এবং তাকেও অমুসলিম হওয়ার আদেশ করেন, এ ব্যাপারে তাদের আদেশ পালন করা জায়েজ নয়, কিন্তু দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। বলা বাহুল্য, আয়াতে ‘মারুফ’ বলে তাদের সঙ্গে আদর-আপ্যায়নমূলক ব্যবহার বোঝানো হয়েছে।
মা-বাবার খেদমত এমন একটি আমল, যার ফল মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই লাভ করে। তাদের সন্তুষ্টির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর তাদের দোয়ার মধ্যে রয়েছে জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। যে সন্তান মা-বাবার সেবা করে, তাদের কষ্ট লাঘব করে এবং সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে বরকত, কল্যাণ ও সম্মান দান করেন।
পক্ষান্তরে মা-বাবার অবাধ্যতা মানুষের জীবনে অশান্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত মা-বাবার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের খেদমত করা এবং মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া ও সাদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করা। কারণ মা-বাবার খেদমতের মাধ্যমেই একজন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ, উত্তম চরিত্র এবং প্রকৃত সফলতার ভিত্তি রচিত হয়। তাই মা-বাবার যথাযথ সম্মান করা, যথাসম্ভব তাদের খিদমত করা এবং তাদের জন্য সর্বদা দোয়া করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

মা-বাবার খেদমতে যেভাবে গড়ে উঠে সন্তানের ভবিষ্যৎ

আপডেট সময় ১০:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মানুষের জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার, আর সেই শিক্ষালয়ের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন মা-বাবা। সন্তানের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
ইসলামে মা-বাবার খেদমতকে শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মহান ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যে সন্তান আন্তরিকভাবে মা-বাবার সেবা করে, তাদের সম্মান করে এবং তাদের দোয়া অর্জন করে, তার জীবন আল্লাহ তাআলা বরকতময় করে দেন। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর বহু সফল ব্যক্তি তাদের সাফল্যের পেছনে মা-বাবার দোয়া ও খেদমতের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই মা-বাবার খেদমত কেবল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ নয়; বরং এটি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দুনিয়ার সফলতা এবং আখিরাতের মুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তারা একজন বা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ বল না এবং তাদের ধমক দিও না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা-বাবার খেদমত আদব, সম্মান এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সঙ্গে একত্র করে ফরজ করেছেন। মহান আল্লাহর ইবাদত করা যেমন প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ, তেমনি মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাও ফরজ।
মহান আল্লাহ সন্তানকে তার মা-বাবার কাছে এতটা ঋণী করেছেন যে পৃথিবীর সব কিছু দিয়ে হলেও কোনো সন্তানই তার মা-বাবার ঋণ শোধ করতে পারবে না।
এ কারণে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের শুকরিয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেন, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, কোনো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করল, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বলেন, সময় হলে নামাজ পড়া। সে আবার প্রশ্ন করল, এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার। (মুসলিম, আয়াত : ৮৫)
মা-বাবা যদি অমুসলিমও হন, তবু তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। তাদের আদর-আপ্যায়ন করতে হবে। আসমা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমার জননী মুশরিকা। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাকে আদর-আপ্যায়ন করা জায়েজ হবে কি? তিনি বলেন, ‘তোমার জননীকে আদর-আপ্যায়ন কর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৩)
তবে তারা যদি এমন কাজ করতে আদেশ করেন, যা করলে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করতে হয়, বা কুফরি করতে হয়, তবে সেই কাজ করার অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিচ্ছি তার মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার ওপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত : ৮)
আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন, ‘তোমার মা-বাবা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করেন আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মেনো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সৎভাবে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৫)
অর্থাৎ যার মা-বাবা অমুসলিম এবং তাকেও অমুসলিম হওয়ার আদেশ করেন, এ ব্যাপারে তাদের আদেশ পালন করা জায়েজ নয়, কিন্তু দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। বলা বাহুল্য, আয়াতে ‘মারুফ’ বলে তাদের সঙ্গে আদর-আপ্যায়নমূলক ব্যবহার বোঝানো হয়েছে।
মা-বাবার খেদমত এমন একটি আমল, যার ফল মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই লাভ করে। তাদের সন্তুষ্টির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর তাদের দোয়ার মধ্যে রয়েছে জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। যে সন্তান মা-বাবার সেবা করে, তাদের কষ্ট লাঘব করে এবং সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে বরকত, কল্যাণ ও সম্মান দান করেন।
পক্ষান্তরে মা-বাবার অবাধ্যতা মানুষের জীবনে অশান্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত মা-বাবার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের খেদমত করা এবং মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া ও সাদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করা। কারণ মা-বাবার খেদমতের মাধ্যমেই একজন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ, উত্তম চরিত্র এবং প্রকৃত সফলতার ভিত্তি রচিত হয়। তাই মা-বাবার যথাযথ সম্মান করা, যথাসম্ভব তাদের খিদমত করা এবং তাদের জন্য সর্বদা দোয়া করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।