ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

মা-বাবার খেদমতে যেভাবে গড়ে উঠে সন্তানের ভবিষ্যৎ

মানুষের জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার, আর সেই শিক্ষালয়ের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন মা-বাবা। সন্তানের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
ইসলামে মা-বাবার খেদমতকে শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মহান ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যে সন্তান আন্তরিকভাবে মা-বাবার সেবা করে, তাদের সম্মান করে এবং তাদের দোয়া অর্জন করে, তার জীবন আল্লাহ তাআলা বরকতময় করে দেন। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর বহু সফল ব্যক্তি তাদের সাফল্যের পেছনে মা-বাবার দোয়া ও খেদমতের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই মা-বাবার খেদমত কেবল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ নয়; বরং এটি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দুনিয়ার সফলতা এবং আখিরাতের মুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তারা একজন বা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ বল না এবং তাদের ধমক দিও না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা-বাবার খেদমত আদব, সম্মান এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সঙ্গে একত্র করে ফরজ করেছেন। মহান আল্লাহর ইবাদত করা যেমন প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ, তেমনি মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাও ফরজ।
মহান আল্লাহ সন্তানকে তার মা-বাবার কাছে এতটা ঋণী করেছেন যে পৃথিবীর সব কিছু দিয়ে হলেও কোনো সন্তানই তার মা-বাবার ঋণ শোধ করতে পারবে না।
এ কারণে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের শুকরিয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেন, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, কোনো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করল, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বলেন, সময় হলে নামাজ পড়া। সে আবার প্রশ্ন করল, এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার। (মুসলিম, আয়াত : ৮৫)
মা-বাবা যদি অমুসলিমও হন, তবু তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। তাদের আদর-আপ্যায়ন করতে হবে। আসমা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমার জননী মুশরিকা। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাকে আদর-আপ্যায়ন করা জায়েজ হবে কি? তিনি বলেন, ‘তোমার জননীকে আদর-আপ্যায়ন কর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৩)
তবে তারা যদি এমন কাজ করতে আদেশ করেন, যা করলে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করতে হয়, বা কুফরি করতে হয়, তবে সেই কাজ করার অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিচ্ছি তার মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার ওপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত : ৮)
আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন, ‘তোমার মা-বাবা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করেন আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মেনো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সৎভাবে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৫)
অর্থাৎ যার মা-বাবা অমুসলিম এবং তাকেও অমুসলিম হওয়ার আদেশ করেন, এ ব্যাপারে তাদের আদেশ পালন করা জায়েজ নয়, কিন্তু দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। বলা বাহুল্য, আয়াতে ‘মারুফ’ বলে তাদের সঙ্গে আদর-আপ্যায়নমূলক ব্যবহার বোঝানো হয়েছে।
মা-বাবার খেদমত এমন একটি আমল, যার ফল মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই লাভ করে। তাদের সন্তুষ্টির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর তাদের দোয়ার মধ্যে রয়েছে জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। যে সন্তান মা-বাবার সেবা করে, তাদের কষ্ট লাঘব করে এবং সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে বরকত, কল্যাণ ও সম্মান দান করেন।
পক্ষান্তরে মা-বাবার অবাধ্যতা মানুষের জীবনে অশান্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত মা-বাবার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের খেদমত করা এবং মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া ও সাদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করা। কারণ মা-বাবার খেদমতের মাধ্যমেই একজন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ, উত্তম চরিত্র এবং প্রকৃত সফলতার ভিত্তি রচিত হয়। তাই মা-বাবার যথাযথ সম্মান করা, যথাসম্ভব তাদের খিদমত করা এবং তাদের জন্য সর্বদা দোয়া করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

মা-বাবার খেদমতে যেভাবে গড়ে উঠে সন্তানের ভবিষ্যৎ

আপডেট সময় ১০:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

মানুষের জীবনের প্রথম শিক্ষালয় হলো পরিবার, আর সেই শিক্ষালয়ের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক হলেন মা-বাবা। সন্তানের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম।
ইসলামে মা-বাবার খেদমতকে শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মহান ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যে সন্তান আন্তরিকভাবে মা-বাবার সেবা করে, তাদের সম্মান করে এবং তাদের দোয়া অর্জন করে, তার জীবন আল্লাহ তাআলা বরকতময় করে দেন। ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর বহু সফল ব্যক্তি তাদের সাফল্যের পেছনে মা-বাবার দোয়া ও খেদমতের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই মা-বাবার খেদমত কেবল তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ নয়; বরং এটি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, দুনিয়ার সফলতা এবং আখিরাতের মুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তারা একজন বা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ বল না এবং তাদের ধমক দিও না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বল। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা-বাবার খেদমত আদব, সম্মান এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সঙ্গে একত্র করে ফরজ করেছেন। মহান আল্লাহর ইবাদত করা যেমন প্রতিটি মানুষের জন্য ফরজ, তেমনি মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাও ফরজ।
মহান আল্লাহ সন্তানকে তার মা-বাবার কাছে এতটা ঋণী করেছেন যে পৃথিবীর সব কিছু দিয়ে হলেও কোনো সন্তানই তার মা-বাবার ঋণ শোধ করতে পারবে না।
এ কারণে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের শুকরিয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেন, আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। কাজেই আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৪)
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, কোনো এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করল, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? তিনি বলেন, সময় হলে নামাজ পড়া। সে আবার প্রশ্ন করল, এরপর কোন কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার। (মুসলিম, আয়াত : ৮৫)
মা-বাবা যদি অমুসলিমও হন, তবু তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। তাদের আদর-আপ্যায়ন করতে হবে। আসমা (রা.) রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আমার জননী মুশরিকা। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তাকে আদর-আপ্যায়ন করা জায়েজ হবে কি? তিনি বলেন, ‘তোমার জননীকে আদর-আপ্যায়ন কর।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৩)
তবে তারা যদি এমন কাজ করতে আদেশ করেন, যা করলে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করতে হয়, বা কুফরি করতে হয়, তবে সেই কাজ করার অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিচ্ছি তার মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তবে ওরা যদি তোমার ওপর বল প্রয়োগ করে আমার সঙ্গে এমন কিছু শরিক করতে, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের মেনো না।’ (সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত : ৮)
আল্লাহ আরেক জায়গায় বলেন, ‘তোমার মা-বাবা যদি তোমাকে পীড়াপীড়ি করেন আমার সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তুমি তাদের কথা মেনো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে বসবাস করবে সৎভাবে।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ১৫)
অর্থাৎ যার মা-বাবা অমুসলিম এবং তাকেও অমুসলিম হওয়ার আদেশ করেন, এ ব্যাপারে তাদের আদেশ পালন করা জায়েজ নয়, কিন্তু দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে। বলা বাহুল্য, আয়াতে ‘মারুফ’ বলে তাদের সঙ্গে আদর-আপ্যায়নমূলক ব্যবহার বোঝানো হয়েছে।
মা-বাবার খেদমত এমন একটি আমল, যার ফল মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই লাভ করে। তাদের সন্তুষ্টির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, আর তাদের দোয়ার মধ্যে রয়েছে জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। যে সন্তান মা-বাবার সেবা করে, তাদের কষ্ট লাঘব করে এবং সম্মান রক্ষা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে বরকত, কল্যাণ ও সম্মান দান করেন।
পক্ষান্তরে মা-বাবার অবাধ্যতা মানুষের জীবনে অশান্তি ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত মা-বাবার জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের খেদমত করা এবং মৃত্যুর পরও তাদের জন্য দোয়া ও সাদকায়ে জারিয়ার ব্যবস্থা করা। কারণ মা-বাবার খেদমতের মাধ্যমেই একজন সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ, উত্তম চরিত্র এবং প্রকৃত সফলতার ভিত্তি রচিত হয়। তাই মা-বাবার যথাযথ সম্মান করা, যথাসম্ভব তাদের খিদমত করা এবং তাদের জন্য সর্বদা দোয়া করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।