ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

ফিটনেস অ্যাপেই বাড়ছে স্ট্রেস? মুক্তির সহজ উপায়

বর্তমানে ফিটনেস ট্র্যাকিং অনেকটাই নির্ভর করছে বিভিন্ন অ্যাপ ও ডিভাইসের ওপর। প্রতিদিন কত পা হাঁটলেন, কত ক্যালোরি পোড়ালেন, কতক্ষণ ঘুমালেন এগুলো এখন সংখ্যায় পরিণত হচ্ছে। প্রথমদিকে এই তথ্যগুলো মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। লক্ষ্য পূরণ হলে ভালো লাগে, নিজেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু ধীরে ধীরে অনেকের ক্ষেত্রেই এই সংখ্যাগুলোই চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একদিন টার্গেট পূরণ না হলে অপরাধবোধ কাজ করে, মনে হয় যেন নিজের প্রতি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা হয়নি। ফলে ফিটনেসের লক্ষ্য যেখানে ছিল সুস্থ থাকা, সেখানে তা হয়ে যায় একটি মানসিক চাপের উৎস।
সংখ্যার পেছনে দৌড়ানোর বিপদ
ফিটনেস অ্যাপগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে দেয়-যেমন প্রতিদিন ১০ হাজার স্টেপ হাঁটা। কিন্তু বাস্তবে সবার শরীর, জীবনযাপন এবং প্রয়োজন এক নয়।
অনেকে এই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে নিজের শরীরের সীমা ভুলে যান। ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও শুধু টার্গেট পূরণের জন্য হাঁটা বা ব্যায়াম চালিয়ে যান। এতে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং কখনো কখনো ইনজুরির ঝুঁকিও বাড়ে। এভাবে ধীরে ধীরে ফিটনেস একটি আনন্দদায়ক অভ্যাস না হয়ে বাধ্যতামূলক কাজ হয়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
স্বাস্থ্য সচেতনতা ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত সচেতনতা অনেক সময় উদ্বেগ তৈরি করে। প্রতিটি ক্যালোরি, প্রতিটি হার্টবিট বা ঘুমের সময় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে তা মানসিক চাপ বাড়ায়।
অনেকে রাতে ঘুমানোর আগেও ঘুমের স্কোর নিয়ে চিন্তা করেন, কত ঘণ্টা ঘুম হলো, কতটা গভীর ঘুম হলো। এতে ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে।
এই অবস্থাকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যাংজাইটি’ বলেও উল্লেখ করেন, যেখানে মানুষ নিজের স্বাস্থ্যের তথ্য নিয়েই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভোগে।
শরীরের কথা শোনা ভুলে যাচ্ছি?
অ্যাপ ও ট্র্যাকারের উপর নির্ভর করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজের শরীরের স্বাভাবিক সংকেতগুলো উপেক্ষা করি। ক্লান্ত লাগছে কি না, শরীর বিশ্রাম চাইছে কি না এইসব অনুভূতির চেয়ে অ্যাপের সংখ্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
কিন্তু বাস্তবে শরীরের নিজস্ব একটি বুদ্ধিমত্তা আছে। কখন বিশ্রাম দরকার, কখন কাজ করার শক্তি আছে সেগুলোর সংকেত আমাদের শরীরই দেয়।শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করে এই সংকেতগুলো বুঝতে শেখা জরুরি।
ভারসাম্যই আসল সমাধান
ফিটনেস অ্যাপ বা ট্র্যাকার পুরোপুরি খারাপ নয়। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এগুলো আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে সাহায্য করে। সমস্যা তখনই হয়, যখন আমরা এগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আন-ইনস্টল করে দিন। বেশিরভাগ অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন।
অ্যাপের রিমাইন্ডারের উপর নির্ভর না করে নিজের জীবনে একটি স্বাভাবিক রুটিন তৈরি করা বেশি কার্যকর। হাঁটা, জিম করা বা মেডিটেশন-এসবকে নির্দিষ্ট সময়ের অভ্যাসে পরিণত করলে আলাদা করে রিমাইন্ডারের প্রয়োজন পড়ে না।
সময়মতো ঘুমানো, সুষম আহার, শরীরচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে দৈনন্দিন যাপন উন্নত করার চেষ্টা করুন। তা হলে আর আলাদা করে ফিটনেস ট্র্যাকারের প্রয়োজন পড়বে না। সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। অ্যাপকে গাইড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু সেটিকে নিজের ওপর চাপ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মায়ো ক্লিনিক

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

ফিটনেস অ্যাপেই বাড়ছে স্ট্রেস? মুক্তির সহজ উপায়

আপডেট সময় ১০:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমানে ফিটনেস ট্র্যাকিং অনেকটাই নির্ভর করছে বিভিন্ন অ্যাপ ও ডিভাইসের ওপর। প্রতিদিন কত পা হাঁটলেন, কত ক্যালোরি পোড়ালেন, কতক্ষণ ঘুমালেন এগুলো এখন সংখ্যায় পরিণত হচ্ছে। প্রথমদিকে এই তথ্যগুলো মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। লক্ষ্য পূরণ হলে ভালো লাগে, নিজেকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা জাগে। কিন্তু ধীরে ধীরে অনেকের ক্ষেত্রেই এই সংখ্যাগুলোই চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একদিন টার্গেট পূরণ না হলে অপরাধবোধ কাজ করে, মনে হয় যেন নিজের প্রতি দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা হয়নি। ফলে ফিটনেসের লক্ষ্য যেখানে ছিল সুস্থ থাকা, সেখানে তা হয়ে যায় একটি মানসিক চাপের উৎস।
সংখ্যার পেছনে দৌড়ানোর বিপদ
ফিটনেস অ্যাপগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে দেয়-যেমন প্রতিদিন ১০ হাজার স্টেপ হাঁটা। কিন্তু বাস্তবে সবার শরীর, জীবনযাপন এবং প্রয়োজন এক নয়।
অনেকে এই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে নিজের শরীরের সীমা ভুলে যান। ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও শুধু টার্গেট পূরণের জন্য হাঁটা বা ব্যায়াম চালিয়ে যান। এতে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং কখনো কখনো ইনজুরির ঝুঁকিও বাড়ে। এভাবে ধীরে ধীরে ফিটনেস একটি আনন্দদায়ক অভ্যাস না হয়ে বাধ্যতামূলক কাজ হয়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
স্বাস্থ্য সচেতনতা ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত সচেতনতা অনেক সময় উদ্বেগ তৈরি করে। প্রতিটি ক্যালোরি, প্রতিটি হার্টবিট বা ঘুমের সময় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে তা মানসিক চাপ বাড়ায়।
অনেকে রাতে ঘুমানোর আগেও ঘুমের স্কোর নিয়ে চিন্তা করেন, কত ঘণ্টা ঘুম হলো, কতটা গভীর ঘুম হলো। এতে ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে।
এই অবস্থাকে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যাংজাইটি’ বলেও উল্লেখ করেন, যেখানে মানুষ নিজের স্বাস্থ্যের তথ্য নিয়েই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভোগে।
শরীরের কথা শোনা ভুলে যাচ্ছি?
অ্যাপ ও ট্র্যাকারের উপর নির্ভর করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নিজের শরীরের স্বাভাবিক সংকেতগুলো উপেক্ষা করি। ক্লান্ত লাগছে কি না, শরীর বিশ্রাম চাইছে কি না এইসব অনুভূতির চেয়ে অ্যাপের সংখ্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
কিন্তু বাস্তবে শরীরের নিজস্ব একটি বুদ্ধিমত্তা আছে। কখন বিশ্রাম দরকার, কখন কাজ করার শক্তি আছে সেগুলোর সংকেত আমাদের শরীরই দেয়।শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর না করে এই সংকেতগুলো বুঝতে শেখা জরুরি।
ভারসাম্যই আসল সমাধান
ফিটনেস অ্যাপ বা ট্র্যাকার পুরোপুরি খারাপ নয়। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এগুলো আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে সাহায্য করে। সমস্যা তখনই হয়, যখন আমরা এগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আন-ইনস্টল করে দিন। বেশিরভাগ অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন।
অ্যাপের রিমাইন্ডারের উপর নির্ভর না করে নিজের জীবনে একটি স্বাভাবিক রুটিন তৈরি করা বেশি কার্যকর। হাঁটা, জিম করা বা মেডিটেশন-এসবকে নির্দিষ্ট সময়ের অভ্যাসে পরিণত করলে আলাদা করে রিমাইন্ডারের প্রয়োজন পড়ে না।
সময়মতো ঘুমানো, সুষম আহার, শরীরচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে দৈনন্দিন যাপন উন্নত করার চেষ্টা করুন। তা হলে আর আলাদা করে ফিটনেস ট্র্যাকারের প্রয়োজন পড়বে না। সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। অ্যাপকে গাইড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু সেটিকে নিজের ওপর চাপ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মায়ো ক্লিনিক