ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

সীমান্তে সরীসৃপ ছাড়ার ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিছু মৌলিক সমস্যার সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। সীমান্তরেখা নির্ধারণ, যৌথ নদীর পানি বণ্টন, অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত অপরাধসহ আরও কিছু বিষয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এসব ইস্যু নানা সময় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ফলে, বিশ্বে উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্তগুলোর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যত সংখ্যক মানুষ নিহত হয়, তা বিশ্বের অন্যান্য সীমান্তের তুলনায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সীমান্তে মানুষের জীবনের মূল্য উপেক্ষিত হয়। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো সীমান্তে ফেলানী হত্যাকা-।
তারপরও কাঁটাতারের বেড়া, ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক লাইট ও সরঞ্জামের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি ‘অনুপ্রবেশ’ রুখতে এবার সীমান্তবর্তী নদী ও জলাভূমিতে কুমির ও সাপ ছাড়ার ভাবনা এসেছে ভারত সরকারের মাথায়। বিষয়টি নিয়ে গত ৬ এপ্রিল বেশ কিছু জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুমির ও সাপ ছাড়ার চিন্তা করছেন অমিত শাহ। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ বাদ দিলেও দেখা যায়, বিগত পুরো সময়জুড়ে দুৎ দেশের সম্পর্ক বন্ধুপ্রতিম বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনা ঘটে এই সীমান্তে, যেখানে বাংলাদেশিদের পাখি শিকারের মতো করে গুলি করে হত্যা করা হয়। এমন একটি সীমান্তে সরীসৃপ অর্থাৎ কুমির ও সাপ ছাড়া নিকৃষ্টতম প্রতিহিংসার নামান্তর।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কর্মকর্তাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে যেখানে বেড়া দেওয়া যায়নি এবং যেসব এলাকায় অষ্টপ্রহর পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ ছাড়া যায় কি না, তা নিয়ে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কুমির ও সাপের ভয়ে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পারাপার করতে দশবার ভাববে। সাপ ও কুমিরের ভয়ে অনুপ্রবেশ কমবে। বিএসএফ সূত্রের মতে, শুধু অনুপ্রবেশই নয়, এই ব্যবস্থার ফলে ওইসব এলাকা দিয়ে চোরাচালানও বন্ধ হতে পারে। কমতে পারে অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকা-ও। তবে বিষয়টি এখনো চিন্তাভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো ধরনের সরকারি আদেশ এখনো জারি করা হয়নি।
দ্য হিন্দু লিখেছে, ভাবনাটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মস্তিষ্কপ্রসূত। গত ২৬ মার্চ বিএসএফের সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অমিত শাহর এই ভাবনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না এবং তা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে। কথিত বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশ’ ভারতের শাসক দল বিজেপির কাছে একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রভাব বিস্তারে, বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখা ও দখলের তাগিদে বিজেপি বারবার অনুপ্রবেশকে একটি বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরেছে। দুই রাজ্যেই এবারের ভোটে অনুপ্রবেশকারী বা ‘ঘুষপেটিয়া’ একটি বড় ইস্যু। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা আসাম নয়, মেঘালয়, ত্রিপুরা, বিহার ও ঝাড়খন্ডেও বিজেপি ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ প্রসঙ্গটি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে। বিহার ও ঝাড়খন্ডের নির্বাচনে তারা বলেছে, ঘুষপেটিয়ারা রাজ্যের অর্থনীতি চৌপাট করে দিচ্ছে এবং জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এবার সীমান্তে সরীসৃপ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি দু’দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যাক। প্রথমত, একজন ভারতীয় নাগরিকের জন্য এটি কতটুকু যৌক্তিক। দ্বিতীয়ত, একজন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এটি কতটা যৌক্তিক। আমি একজন সীমান্তঘেঁষা জনপদের মানুষ, যে জনপদে এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
সীমান্তে সরীসৃপ ছেড়ে দিলে, তা কি শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সমগ্র অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে? যদি তা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানও করে, তারপরেও কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে প্রায় দেড়শ গজ পর্যন্ত কৃষিজমি রয়েছে, যা ভারতীয় নাগরিকদের মালিকানাধীন। ওইসব নাগরিক নিয়মিত তাদের জমিতে কাজ করে। যদি সীমান্ত এলাকায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে কৃষিকাজে বিঘœ ঘটতে পারে; এমনকি জীবননাশের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। জলাশয়ে যদি কুমির থাকে, তাহলে সেটি ভারতীয় নাগরিকদের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই সীমান্তে সরীসৃপ ছেড়ে দেওয়া মানে নিজ দেশের নাগরিকদেরই বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।
অপরদিকে, বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষিকাজ করতে হবে ভয়ভীতি নিয়ে, যেখানে জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। কুমিরসহ বিষধর সাপের ভয়ও বিরাজমান থাকবে। অনেক সময় কাজ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, ফলে সাপের ভয়ে কৃষক বা রাখালদের কাজে চরমভাবে বাধার সৃষ্টি হবে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দৈনন্দিন কাজে এর প্রভাব চরমভাবে লক্ষ্যণীয় হবে। এবার আসা যাক সীমান্তে চোরাকারবারিদের বিষয়টি নিয়ে। চোরাকারবারিরা কুমির বা সাপ দেখে খুব একটা ভয় পাবে বলে মনে হয় না। কারণ, যারা বন্দুকের গুলিকেও ভয় পায় না, তারা কীভাবে সাপ বা কুমিরকে ভয় পাবে? এছাড়াও, সন্ধ্যার পর থেকে ভারতীয় পাশে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা থাকে, যেখানে একটি সুতোও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে সাপ বা কুমির কতটা টিকে থাকতে পারবে, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। ওই পরিবেশ কি তাদের জন্য উপযোগী হবে?
ভারতের পাশে যদি আলো নাও থাকে, তবুও টর্চলাইট ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পার হতে সক্ষম হবে। কারণ, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীও ভয়ের কারণে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে পারবে না। আর সেই সুযোগ নিয়েই চোরাকারবারিরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে। ফলে, যে উদ্দেশ্যে ভারতীয় সরকার এ ধরনের চিন্তা করছে, তা হিতে বিপরীত হবে।
লেখক: ব্যাংকার ও কলামিস্ট aktarrofikul@gmail.com

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

সীমান্তে সরীসৃপ ছাড়ার ভাবনা

আপডেট সময় ০৩:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কিছু মৌলিক সমস্যার সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। সীমান্তরেখা নির্ধারণ, যৌথ নদীর পানি বণ্টন, অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত অপরাধসহ আরও কিছু বিষয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এসব ইস্যু নানা সময় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ফলে, বিশ্বে উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্তগুলোর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যত সংখ্যক মানুষ নিহত হয়, তা বিশ্বের অন্যান্য সীমান্তের তুলনায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সীমান্তে মানুষের জীবনের মূল্য উপেক্ষিত হয়। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো সীমান্তে ফেলানী হত্যাকা-।
তারপরও কাঁটাতারের বেড়া, ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক লাইট ও সরঞ্জামের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি ‘অনুপ্রবেশ’ রুখতে এবার সীমান্তবর্তী নদী ও জলাভূমিতে কুমির ও সাপ ছাড়ার ভাবনা এসেছে ভারত সরকারের মাথায়। বিষয়টি নিয়ে গত ৬ এপ্রিল বেশ কিছু জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুমির ও সাপ ছাড়ার চিন্তা করছেন অমিত শাহ। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ বাদ দিলেও দেখা যায়, বিগত পুরো সময়জুড়ে দুৎ দেশের সম্পর্ক বন্ধুপ্রতিম বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনা ঘটে এই সীমান্তে, যেখানে বাংলাদেশিদের পাখি শিকারের মতো করে গুলি করে হত্যা করা হয়। এমন একটি সীমান্তে সরীসৃপ অর্থাৎ কুমির ও সাপ ছাড়া নিকৃষ্টতম প্রতিহিংসার নামান্তর।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কর্মকর্তাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদী ও জলাভূমি অঞ্চলে যেখানে বেড়া দেওয়া যায়নি এবং যেসব এলাকায় অষ্টপ্রহর পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে কুমির ও সাপের মতো সরীসৃপ ছাড়া যায় কি না, তা নিয়ে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কুমির ও সাপের ভয়ে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পারাপার করতে দশবার ভাববে। সাপ ও কুমিরের ভয়ে অনুপ্রবেশ কমবে। বিএসএফ সূত্রের মতে, শুধু অনুপ্রবেশই নয়, এই ব্যবস্থার ফলে ওইসব এলাকা দিয়ে চোরাচালানও বন্ধ হতে পারে। কমতে পারে অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকা-ও। তবে বিষয়টি এখনো চিন্তাভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো ধরনের সরকারি আদেশ এখনো জারি করা হয়নি।
দ্য হিন্দু লিখেছে, ভাবনাটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মস্তিষ্কপ্রসূত। গত ২৬ মার্চ বিএসএফের সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অমিত শাহর এই ভাবনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না এবং তা কতটা কার্যকর হতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে। কথিত বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশ’ ভারতের শাসক দল বিজেপির কাছে একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রভাব বিস্তারে, বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখা ও দখলের তাগিদে বিজেপি বারবার অনুপ্রবেশকে একটি বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরেছে। দুই রাজ্যেই এবারের ভোটে অনুপ্রবেশকারী বা ‘ঘুষপেটিয়া’ একটি বড় ইস্যু। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা আসাম নয়, মেঘালয়, ত্রিপুরা, বিহার ও ঝাড়খন্ডেও বিজেপি ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ প্রসঙ্গটি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে। বিহার ও ঝাড়খন্ডের নির্বাচনে তারা বলেছে, ঘুষপেটিয়ারা রাজ্যের অর্থনীতি চৌপাট করে দিচ্ছে এবং জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এবার সীমান্তে সরীসৃপ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি দু’দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যাক। প্রথমত, একজন ভারতীয় নাগরিকের জন্য এটি কতটুকু যৌক্তিক। দ্বিতীয়ত, একজন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এটি কতটা যৌক্তিক। আমি একজন সীমান্তঘেঁষা জনপদের মানুষ, যে জনপদে এখনও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
সীমান্তে সরীসৃপ ছেড়ে দিলে, তা কি শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সমগ্র অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে? যদি তা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থানও করে, তারপরেও কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে প্রায় দেড়শ গজ পর্যন্ত কৃষিজমি রয়েছে, যা ভারতীয় নাগরিকদের মালিকানাধীন। ওইসব নাগরিক নিয়মিত তাদের জমিতে কাজ করে। যদি সীমান্ত এলাকায় বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে কৃষিকাজে বিঘœ ঘটতে পারে; এমনকি জীবননাশের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। জলাশয়ে যদি কুমির থাকে, তাহলে সেটি ভারতীয় নাগরিকদের জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই সীমান্তে সরীসৃপ ছেড়ে দেওয়া মানে নিজ দেশের নাগরিকদেরই বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।
অপরদিকে, বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের কৃষিকাজ করতে হবে ভয়ভীতি নিয়ে, যেখানে জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। কুমিরসহ বিষধর সাপের ভয়ও বিরাজমান থাকবে। অনেক সময় কাজ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়, ফলে সাপের ভয়ে কৃষক বা রাখালদের কাজে চরমভাবে বাধার সৃষ্টি হবে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দৈনন্দিন কাজে এর প্রভাব চরমভাবে লক্ষ্যণীয় হবে। এবার আসা যাক সীমান্তে চোরাকারবারিদের বিষয়টি নিয়ে। চোরাকারবারিরা কুমির বা সাপ দেখে খুব একটা ভয় পাবে বলে মনে হয় না। কারণ, যারা বন্দুকের গুলিকেও ভয় পায় না, তারা কীভাবে সাপ বা কুমিরকে ভয় পাবে? এছাড়াও, সন্ধ্যার পর থেকে ভারতীয় পাশে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা থাকে, যেখানে একটি সুতোও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে সাপ বা কুমির কতটা টিকে থাকতে পারবে, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ। ওই পরিবেশ কি তাদের জন্য উপযোগী হবে?
ভারতের পাশে যদি আলো নাও থাকে, তবুও টর্চলাইট ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পার হতে সক্ষম হবে। কারণ, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীও ভয়ের কারণে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে পারবে না। আর সেই সুযোগ নিয়েই চোরাকারবারিরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠবে। ফলে, যে উদ্দেশ্যে ভারতীয় সরকার এ ধরনের চিন্তা করছে, তা হিতে বিপরীত হবে।
লেখক: ব্যাংকার ও কলামিস্ট aktarrofikul@gmail.com