ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা কয়েক সপ্তাহ পর সবজির দামে স্বস্তি

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছিল সবজি। ১০০ থেকে ১২০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে এখন সবজির দামে সামান্য স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কিছু সবজির দাম এখনও ১০০ টাকার ঘরে রয়েছে।
অন্যদিকে মাছ, মুরগি, ডিম ও মাংসের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ছুঁয়ে গেলেও বর্তমানে তা কমে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির সময় খেত থেকে ঠিকমতো সবজি উঠেনি, তাই বাজারেও সরবরাহ কম ছিল। সে কারণে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, বাজারে সবজিও বেশি আসছে। তাই বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে কিছু সবজির মৌসুম না থাকায় সেগুলোর দাম এখনও একটু বেশি।’
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী বেলাল হোসাইন বলেন, ‘আজ বাজারে এসে দেখলাম আগের চেয়ে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সব ধরনের সবজি এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি। অনেক সবজির দাম কমলেও কিছু সবজি এখনো ১০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।’
ডিম ও মাংসের বাজার
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস, ডিম ও মুরগির বাজারে ভোগান্তি কমেনি। বর্তমানে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না ব্রয়লার মুরগি ও অধিকাংশ মাছ। ডিমের দামও বেড়ে ডজনপ্রতি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে। তবে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায় সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা মোখলেস মিয়া বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এ দাম বেড়েছে। তবে সোনালি মুরগির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ব্রয়লারের দামও আবার কমে আসবে বলে আশা করছি।’
মাছের বাজার
মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও বড় আকারের কিছু সামুদ্রিক মাছ কিনতে হলে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
রায় সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘পুকুরে চাষ করা মাছের দামও এখন আগের চেয়ে বেশি। আমরা আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে বাজারও স্বাভাবিক হবে।’
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়াই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা। এসব পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ব্যয় কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাজারের চাপ এখনও বহাল রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

টানা কয়েক সপ্তাহ পর সবজির দামে স্বস্তি

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছিল সবজি। ১০০ থেকে ১২০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে এখন সবজির দামে সামান্য স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কিছু সবজির দাম এখনও ১০০ টাকার ঘরে রয়েছে।
অন্যদিকে মাছ, মুরগি, ডিম ও মাংসের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ছুঁয়ে গেলেও বর্তমানে তা কমে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির সময় খেত থেকে ঠিকমতো সবজি উঠেনি, তাই বাজারেও সরবরাহ কম ছিল। সে কারণে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, বাজারে সবজিও বেশি আসছে। তাই বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে কিছু সবজির মৌসুম না থাকায় সেগুলোর দাম এখনও একটু বেশি।’
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী বেলাল হোসাইন বলেন, ‘আজ বাজারে এসে দেখলাম আগের চেয়ে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সব ধরনের সবজি এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি। অনেক সবজির দাম কমলেও কিছু সবজি এখনো ১০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।’
ডিম ও মাংসের বাজার
সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস, ডিম ও মুরগির বাজারে ভোগান্তি কমেনি। বর্তমানে ২০০ টাকার নিচে মিলছে না ব্রয়লার মুরগি ও অধিকাংশ মাছ। ডিমের দামও বেড়ে ডজনপ্রতি ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে। তবে সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায় সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা মোখলেস মিয়া বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এ দাম বেড়েছে। তবে সোনালি মুরগির দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ব্রয়লারের দামও আবার কমে আসবে বলে আশা করছি।’
মাছের বাজার
মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও বড় আকারের কিছু সামুদ্রিক মাছ কিনতে হলে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।
রায় সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ‘পুকুরে চাষ করা মাছের দামও এখন আগের চেয়ে বেশি। আমরা আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে বাজারও স্বাভাবিক হবে।’
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়াই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা। এসব পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ব্যয় কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাজারের চাপ এখনও বহাল রয়েছে।