শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও নাওডোবা ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১ হাজার ২০২ কোটি টাকার তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলমান থাকা সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না নদীর গ্রাস। গত কয়েক দিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনে বেশ কিছু স্থাপনা ও রাস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ৩০০ পরিবার। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া, ফরাজীকান্দি এবং নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি ও আলম খারকান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গত সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনে কাথুরিয়া মাঝিরঘাট গ্রামীণ সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ এবং সাতটি দোকান নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ২৫টি পরিবার তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পটির কাজ চললেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি দৈনিক খবরপত্র’কে বলেন, পদ্মার ভাঙন থেকে মানুষের ভিটেমাটি রক্ষার জন্য সরকার ১২শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রকল্পের কাজ চললেও এর সুফল মিলছে না। আমাদের ধারণা প্রকল্পের কাজ ধীরগতি এবং অনিয়মের কারণেই এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চে পূর্ব নাওডোবার জিরো পয়েন্ট থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট থেকে উজানে আরও দুই কিলোমিটার এলাকা প্রকল্পের আওতায় যুক্ত করা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। ৩৯টি প্যাকেজে বিভক্ত এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পদ্মা সেতু এলাকার নাওডোবা মাঝিরঘাট থেকে ভাটিতে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ডান তীরে বর্তমানে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার জুড়ে এই তীর রক্ষা কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান দৈনিক খবরপত্র’কে জানান, প্রকল্পের ১২ নম্বর প্যাকেজে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। বর্তমানে জিওব্যাগ ফেলার কারণে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস নদী ভাঙনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং ভাঙনকবলিত পয়েন্টগুলোতে দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পরবর্তী শুকনো মৌসুমে প্রকল্পের স্থায়ী কাজ সম্পন্ন হলে ওই এলাকা পুরোপুরি ভাঙনমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ শিরোনাম
১২০০ কোটি টাকার তীর রক্ষা প্রকল্পে ধস: তীব্র ভাঙন আতঙ্কে শরীয়তপুরের ৩০০ পরিবার
-
মঞ্জুরুল ইসলাম রনি শরীয়তপুর : - আপডেট সময় ০৯:০৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- 53
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























