বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মানুষের ইনকাম বাড়েনি কিন্তু খরচ তিনগুন বেড়েছে। ইন্ড্রাস্ট্রি চলেনা, গ্যাস নাই, আমাদের দেশের গার্মেন্টেসের অর্ডার অন্যদেশে চলে যাচ্ছে। বিজেএমই নেতারা বলেছেন এখন গার্মেন্টেসের ৭৮% ইন্ডাস্ট্রির অর্ডার নিম্নগামী, তারমানে এই শিল্পকারখানা বন্ধ হতে যাচ্ছে গ্যাসের সংকটের কারণে। তেলের তেলেসমাতি আপনারা দেখেছিলেন, বিএনপি নেতারা গোয়ালঘরেও স্টক করেছিল। সিন্ডিকেট করে উচু দামে বিক্রি করার জন্য। আমরা যখন সংসদে দাবি করেছি, কমিটি গঠন হয়েছে তখনই এ জাতি মুক্তি পেলো। তিনি মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন পেট্রোল পাম্পে এখন লাইন আছে? প্রতি উত্তরে সবাই বলেন নাই। তিনি বলেন কেন নাই ? বিরোধীদল দাবি করেছে এখন তারা সজাগ হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল থানার উদ্যোগে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫.৩০টায় মগবাজার চৌরাস্তায় ঢাকা টু রংপুর লং মার্চ উপলক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলির পূর্বে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার, হাতিরঝিল অঞ্চল টিম সদস্য মোঃ ইউছুফ আলী মোল্লা, হাতিরঝিল পূর্ব থানা আমীল অ্যাডভোকেট মোঃ জিল্লুর রহমান আযামী, হাতিরঝিল পূর্ব থানা সেক্রেটারী খন্দকার মোঃ রুহুল আমিন, হাতিরঝিল পশ্চিম থানা সেক্রেটারী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ প্রমুখ।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সবাই মিলে আমরা এই সংকট নিরসনে মাঠে নেমেছি। সারাদেশে সার নাই, কৃষক উৎপাদন করতে পারবে না তাহলে আপনি খাদ্য পাবেন কোথায়? কৃষক যদি সার না পায় ধান উৎপাদন হবে? আপনি চাল খাবেন কিভাবে?এর কারণে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিবে অচিরেই। সার কারখানা ৭টি আছে তার মধ্যে ৬টিই বন্ধ। বাংলাদেশের যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, এই সরকারকে আর কেউ বিশ্বাস করেনা। আমরা চাই জনগণের এই সংকট নিরসন হোক।
তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রত্যেকটি জিনিস বাজার থেকে কয়েকগুন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। একদিকে জনগণের দুর্দশা, ইনকাম বাড়েনি, খরচ তিনগুণ বেড়ে গেছে। জনগণকে এখান থেকে মুক্তি দেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনার দলের নেতাকর্মীরা বাজার সিন্ডিকেট করে রেখেছে এগুলো বন্ধ করে দেন। তাহলে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থানে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। কালকে দেখলাম কেরানীগঞ্জে এক মাছ বিক্রেতাকে কুপাইতাছে কিশোর গ্যাং। রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে খুন করে ফেলা হয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়ত খুন খারাপি বাড়তেছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আর অন্যদিকে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ঘরের খবর রাখে না সবখানে ছড়ি ঘুরায়। জনগণ বলেন উনি হলেন সর্বমন্ত্রী। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। খাদ্যের নিরাপত্তা জানমালের নিরাপত্তা দিবে সরকার কিন্তু সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সারাদেশে দূর্ণীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধ করতে হবে। ফ্যাসিবাদিরা যখন ছিল তখন চাঁদাবাজি করতো, এখন হকারদের কাছে গেলে বলে স্যার চাঁদা তো বাইরা গেছে। শুধু লোকের পরিবর্তন হয়েছে।
খবরপত্র 





















