ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

সিরাজগঞ্জে সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৮৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান

সাফল্যের স্বীকৃতি আর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সিরাজগঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৮৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সিরাজগঞ্জ পৌর ভাসানী মিলনায়তনে আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী মো. আব্দুস সাত্তার। অভিভাবকদের উদ্দেশে হাজী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, সন্তান শুধু ভালো ফলাফল করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে-এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে হবে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা, নৈতিকতা ও সৃজনশীল কর্মকা-ে মনোযোগী হওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, একটি ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। আজকের এই কৃতিত্ব যেন ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও সৎ পথে চলতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সায়াদুজ্জামান। কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন তোমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এটিই শেষ নয়, বরং সামনে আরও বড় পথ রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য এখন থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে। প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহার না করে যোগাযোগের জন্য বাটন ফোন ব্যবহারের অভ্যাস করা যেতে পারে। মোবাইল যেন শিক্ষার সহায়ক হয়, পড়াশোনার বাধা না হয়-সেদিকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জীবনে ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিদুল হাসান এবং সিরাজগঞ্জ বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (বনোয়ারী লাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৮৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর এমন আয়োজন করলে আমাদের জন্য ভালো হবে। ভালো ফলাফলের পর যখন সম্মাননা ও বৃত্তি দেওয়া হয়, তখন আমাদের মধ্যে আরও ভালো করার আগ্রহ তৈরি হয়। এই স্বীকৃতি শুধু আনন্দের নয়, ভবিষ্যতে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণাও জোগায়। তারা আরও বলেন, আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিক্ষার্থী যখন তার ভালো ফলাফলের জন্য সমাজের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায়, তখন তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন তৈরি হয়। প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হবে। অভিভাবকরাও এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সন্তানদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তারা নিজেদের অর্জন নিয়ে গর্ববোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। বৃত্তির অর্থও তাদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়ক হবে। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং সমাজে মেধাবী ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

সিরাজগঞ্জে সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৮৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান

আপডেট সময় ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাফল্যের স্বীকৃতি আর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা-এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সিরাজগঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৮৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সিরাজগঞ্জ পৌর ভাসানী মিলনায়তনে আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী মো. আব্দুস সাত্তার। অভিভাবকদের উদ্দেশে হাজী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, সন্তান শুধু ভালো ফলাফল করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে-এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে হবে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা, নৈতিকতা ও সৃজনশীল কর্মকা-ে মনোযোগী হওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, একটি ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। আজকের এই কৃতিত্ব যেন ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি হয়, সে জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও সৎ পথে চলতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সায়াদুজ্জামান। কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন তোমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে এটিই শেষ নয়, বরং সামনে আরও বড় পথ রয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য এখন থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট করে। প্রয়োজন ছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহার না করে যোগাযোগের জন্য বাটন ফোন ব্যবহারের অভ্যাস করা যেতে পারে। মোবাইল যেন শিক্ষার সহায়ক হয়, পড়াশোনার বাধা না হয়-সেদিকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জীবনে ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিদুল হাসান এবং সিরাজগঞ্জ বিএল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের (বনোয়ারী লাল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৮৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর এমন আয়োজন করলে আমাদের জন্য ভালো হবে। ভালো ফলাফলের পর যখন সম্মাননা ও বৃত্তি দেওয়া হয়, তখন আমাদের মধ্যে আরও ভালো করার আগ্রহ তৈরি হয়। এই স্বীকৃতি শুধু আনন্দের নয়, ভবিষ্যতে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণাও জোগায়। তারা আরও বলেন, আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিক্ষার্থী যখন তার ভালো ফলাফলের জন্য সমাজের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায়, তখন তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন তৈরি হয়। প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হবে। অভিভাবকরাও এ ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সন্তানদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তারা নিজেদের অর্জন নিয়ে গর্ববোধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। বৃত্তির অর্থও তাদের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়ক হবে। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং সমাজে মেধাবী ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।