ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

কালীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতার কাজে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, মশক নিধনে একসঙ্গে মাঠে

সাধারণত মাঠে নামেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আর তাদের কাজ তদারক করেন কর্মকর্তারা। কালীগঞ্জে শনিবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালের চিত্রটা ছিল একটু অন্যরকম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে একই মাঠে দেখা গেল উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের। পরিচ্ছন্নতার কাজে নিজেও হাত লাগালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম কামরুল ইসলাম। কেউ পরিষ্কার করছেন ময়লা-আবর্জনা, কেউ দেখছেন কোথায় জমে আছে পানি, আবার কোথাও চলছে মশক নিধন। সব মিলিয়ে একসঙ্গে চলেছে পরিচ্ছন্নতা ও মশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ড, মূলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হয় এ কার্যক্রম। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলও পরিষ্কার করা হয়। কর্মসূচিতে ইউএনও এ. টি. এম কামরুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজওয়ানা রশীদ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার। এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। অভিযানে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার বলেন, পরিচ্ছন্নতা একটি সামাজিক দায়িত্ব। শুধু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে হবে না। প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে মশার বংশবিস্তারের জায়গাগুলো যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ইউএনও এ. টি. এম কামরুল ইসলাম বলেন, পরিচ্ছন্নতার কাজ শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হলে এর সুফল স্থায়ী হবে না। এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মশক নিধনে শুধু ওষুধ প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। এ কারণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কালীগঞ্জের শনিবারের কর্মসূচির দৃশ্যটি তাই একটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের চেয়ে কিছুটা আলাদা। কারণ এখানে বার্তাটি ছিল শুধু ময়লা পরিষ্কারের নয়-নিজের চারপাশের পরিবেশের দায়িত্ব নিজেকেও নিতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

কালীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতার কাজে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, মশক নিধনে একসঙ্গে মাঠে

আপডেট সময় ০৭:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাধারণত মাঠে নামেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আর তাদের কাজ তদারক করেন কর্মকর্তারা। কালীগঞ্জে শনিবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালের চিত্রটা ছিল একটু অন্যরকম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে একই মাঠে দেখা গেল উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের। পরিচ্ছন্নতার কাজে নিজেও হাত লাগালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম কামরুল ইসলাম। কেউ পরিষ্কার করছেন ময়লা-আবর্জনা, কেউ দেখছেন কোথায় জমে আছে পানি, আবার কোথাও চলছে মশক নিধন। সব মিলিয়ে একসঙ্গে চলেছে পরিচ্ছন্নতা ও মশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ড, মূলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হয় এ কার্যক্রম। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলও পরিষ্কার করা হয়। কর্মসূচিতে ইউএনও এ. টি. এম কামরুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজওয়ানা রশীদ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার। এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। অভিযানে অংশ নিয়ে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার বলেন, পরিচ্ছন্নতা একটি সামাজিক দায়িত্ব। শুধু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলে হবে না। প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে মশার বংশবিস্তারের জায়গাগুলো যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ইউএনও এ. টি. এম কামরুল ইসলাম বলেন, পরিচ্ছন্নতার কাজ শুধু একটি দিনের কর্মসূচি হলে এর সুফল স্থায়ী হবে না। এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলবে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মশক নিধনে শুধু ওষুধ প্রয়োগের ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাই কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। এ কারণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কালীগঞ্জের শনিবারের কর্মসূচির দৃশ্যটি তাই একটি সাধারণ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের চেয়ে কিছুটা আলাদা। কারণ এখানে বার্তাটি ছিল শুধু ময়লা পরিষ্কারের নয়-নিজের চারপাশের পরিবেশের দায়িত্ব নিজেকেও নিতে হবে।