ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কয়লা বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের ভূমি ভরাটের জন্য মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের তা-ব চলছে। ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ১০ ও ১২ চাকার দানবীয় ড্রাম্পট্রাক দিয়ে এই বালু পরিবহনের ফলে দেবে ও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫ কিলোমিটারের চকরিয়া-কোনাখালী-বাগগুজুরা সড়ক। সেই সাথে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও মাতামুহুরী নদীর গাইড ওয়াল। গত এক সপ্তাহে অনবরত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ এই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধসে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরী উপজেলার ইলিশিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের ৩২ একর জমি ভরাটের জন্য প্রায় ৩ কোটি সিএফটি বালুর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ বালুর জোগান দিতে মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া অংশের বেতুয়াবাজার ব্রিজের নিচ এবং কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের নিকটবর্তী অংশ থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সরেজমিনে স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১০টা বাজলেই শুরু হয় বালু পরিবহনের মূল তা-ব। ১০ চাকা ও ১২ চাকার দৈত্যাকার ড্রাম্পট্রাকগুলো বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও কোনাখালী এলাকা থেকে বালু বোঝাই করে সারারাত ধরে চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সমন্বয়ক জিহান ও নাছির মেম্বারের নেতৃত্বে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং কোনাখালী এলাকার কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু সরবরাহের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে চকরিয়া-কোনাখালী সড়কের বেতুয়াবাজার থেকে কোনাখালী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক এখন সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও ছোট ছোট যানবাহনের চালকেরা। বালু উত্তোলন ও সরবরাহের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী। একই সাথে বালু ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পরিচালক পরিচয়দানকারী রুহুল আমিন। চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বলেন, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো সাধারণত সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ টনের ওজনের গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেখানে রাতভর ৩০ থেকে ৪০ টনের ওভারলোডেড ড্রাম্পট্রাক চলাচল করলে কোনো সড়কই টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। চকরিয়া-কোনাখালী সড়কের ১৫ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ধসে ও দেবে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বেতুয়াবাজার ব্রিজের নিচ থেকে বালু তোলার কারণে মূল ব্রিজের পিলার ও নদীর গাইড ওয়াল ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং সড়কের ক্ষতিসাধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করছি। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসক (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিএনপি নেতা হানিফ ও নজরুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু জেলা প্রশাসক পরিবেশ প্রতিবেশের চিন্তা করে অনুমতি দেন নাই।
তিনি আরো বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে ইজারা বহির্ভূত বা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং গ্রামীণ সড়কে ওভারলোডেড ট্রিপল এক্সেল ড্রাম্পট্রাক চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা প্রতিনিয়ত অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে বালু তোলার শ্যালো মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ ও ধ্বংস করছি। কোনাখালী সড়ক ও বেতুয়াবাজার ব্রিজ রক্ষায় বালু পরিবহনের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সরকারি সম্পদ নষ্ট করে যারা বালু লুটপাট ও অবৈধভাবে পরিবহন করছে, তাদের পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং শতকোটি টাকার সরকারি সড়ক ও বেতুয়াবাজার ব্রিজ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০১:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় কয়লা বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের ভূমি ভরাটের জন্য মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের তা-ব চলছে। ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ১০ ও ১২ চাকার দানবীয় ড্রাম্পট্রাক দিয়ে এই বালু পরিবহনের ফলে দেবে ও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫ কিলোমিটারের চকরিয়া-কোনাখালী-বাগগুজুরা সড়ক। সেই সাথে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও মাতামুহুরী নদীর গাইড ওয়াল। গত এক সপ্তাহে অনবরত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ এই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধসে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরী উপজেলার ইলিশিয়া এলাকায় নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের ৩২ একর জমি ভরাটের জন্য প্রায় ৩ কোটি সিএফটি বালুর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ বালুর জোগান দিতে মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া অংশের বেতুয়াবাজার ব্রিজের নিচ এবং কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের নিকটবর্তী অংশ থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সরেজমিনে স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১০টা বাজলেই শুরু হয় বালু পরিবহনের মূল তা-ব। ১০ চাকা ও ১২ চাকার দৈত্যাকার ড্রাম্পট্রাকগুলো বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও কোনাখালী এলাকা থেকে বালু বোঝাই করে সারারাত ধরে চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সমন্বয়ক জিহান ও নাছির মেম্বারের নেতৃত্বে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং কোনাখালী এলাকার কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু সরবরাহের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে চকরিয়া-কোনাখালী সড়কের বেতুয়াবাজার থেকে কোনাখালী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক এখন সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও ছোট ছোট যানবাহনের চালকেরা। বালু উত্তোলন ও সরবরাহের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপি সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী। একই সাথে বালু ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পরিচালক পরিচয়দানকারী রুহুল আমিন। চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বলেন, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো সাধারণত সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ টনের ওজনের গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেখানে রাতভর ৩০ থেকে ৪০ টনের ওভারলোডেড ড্রাম্পট্রাক চলাচল করলে কোনো সড়কই টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। চকরিয়া-কোনাখালী সড়কের ১৫ কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ধসে ও দেবে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বেতুয়াবাজার ব্রিজের নিচ থেকে বালু তোলার কারণে মূল ব্রিজের পিলার ও নদীর গাইড ওয়াল ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং সড়কের ক্ষতিসাধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করছি। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসক (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিএনপি নেতা হানিফ ও নজরুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু জেলা প্রশাসক পরিবেশ প্রতিবেশের চিন্তা করে অনুমতি দেন নাই।
তিনি আরো বলেন, মাতামুহুরী নদী থেকে ইজারা বহির্ভূত বা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং গ্রামীণ সড়কে ওভারলোডেড ট্রিপল এক্সেল ড্রাম্পট্রাক চালানো সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা প্রতিনিয়ত অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে বালু তোলার শ্যালো মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ ও ধ্বংস করছি। কোনাখালী সড়ক ও বেতুয়াবাজার ব্রিজ রক্ষায় বালু পরিবহনের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সরকারি সম্পদ নষ্ট করে যারা বালু লুটপাট ও অবৈধভাবে পরিবহন করছে, তাদের পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং শতকোটি টাকার সরকারি সড়ক ও বেতুয়াবাজার ব্রিজ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।