ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

মধুপুরে এককালের প্রমত্তা বংশাই নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে জোরকদমে চলছে নদী পুনঃখননের কাজ। দীর্ঘদিনের পলি ভরাট, অবৈধ দখল ও অবহেলার কারণে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল ঐতিহ্যবাহী এই বংশাই নদীটি। গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, ১৮০৫ সালের দিকে সংঘটিত কোনো বড় ভূমিকম্পের ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এই বংশাই নদীর সৃষ্টি হয়। বাঁশ বা বংশী থেকে ‘বংশাই’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আবার কারো মতে, নদীর মৃদু ও মধুর স্রোতের ধ্বনি বাঁশির মতো হওয়ার কারণে এর নাম বংশী বা বংশাই রাখা হয়েছে। এই নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে উৎপন্ন হয়ে জামালপুর হয়ে মধুপুর উপজেলায় প্রবেশ করে। এরপর বানার ও ঝিনাই নদীর শাখার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে গেছে। এটি টাঙ্গাইল, সখিপুর, বাসাইল, মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর অতিক্রম করে তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মধুপুর উপজেলা সদরের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর দক্ষিণ তীরে (মধুপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ এলাকা) পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বহু নিরীহ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিত। তাদের স্মরণে পরবর্তীতে সেখানে মধুপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। একসময়ের স্রোতস্বিনী বংশাই নদী বর্তমানে অবৈধ দখল, বাড়িঘর নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর দুই তীর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এবং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় এর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সঠিকভাবে ড্রেসিং এবং দুপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে আগেকার সেই প্রমত্তা বংশাই নদী তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পাবে বলে আশা করেন বিজ্ঞ মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মধুপুরে এককালের প্রমত্তা বংশাই নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে জোরকদমে চলছে নদী পুনঃখননের কাজ। দীর্ঘদিনের পলি ভরাট, অবৈধ দখল ও অবহেলার কারণে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল ঐতিহ্যবাহী এই বংশাই নদীটি। গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, ১৮০৫ সালের দিকে সংঘটিত কোনো বড় ভূমিকম্পের ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এই বংশাই নদীর সৃষ্টি হয়। বাঁশ বা বংশী থেকে ‘বংশাই’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আবার কারো মতে, নদীর মৃদু ও মধুর স্রোতের ধ্বনি বাঁশির মতো হওয়ার কারণে এর নাম বংশী বা বংশাই রাখা হয়েছে। এই নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে উৎপন্ন হয়ে জামালপুর হয়ে মধুপুর উপজেলায় প্রবেশ করে। এরপর বানার ও ঝিনাই নদীর শাখার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে গেছে। এটি টাঙ্গাইল, সখিপুর, বাসাইল, মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর অতিক্রম করে তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মধুপুর উপজেলা সদরের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর দক্ষিণ তীরে (মধুপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ এলাকা) পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বহু নিরীহ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিত। তাদের স্মরণে পরবর্তীতে সেখানে মধুপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। একসময়ের স্রোতস্বিনী বংশাই নদী বর্তমানে অবৈধ দখল, বাড়িঘর নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর দুই তীর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এবং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় এর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সঠিকভাবে ড্রেসিং এবং দুপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে আগেকার সেই প্রমত্তা বংশাই নদী তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পাবে বলে আশা করেন বিজ্ঞ মহল।