মধুপুরে এককালের প্রমত্তা বংশাই নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে জোরকদমে চলছে নদী পুনঃখননের কাজ। দীর্ঘদিনের পলি ভরাট, অবৈধ দখল ও অবহেলার কারণে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল ঐতিহ্যবাহী এই বংশাই নদীটি। গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, ১৮০৫ সালের দিকে সংঘটিত কোনো বড় ভূমিকম্পের ফলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এই বংশাই নদীর সৃষ্টি হয়। বাঁশ বা বংশী থেকে ‘বংশাই’ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আবার কারো মতে, নদীর মৃদু ও মধুর স্রোতের ধ্বনি বাঁশির মতো হওয়ার কারণে এর নাম বংশী বা বংশাই রাখা হয়েছে। এই নদী পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে উৎপন্ন হয়ে জামালপুর হয়ে মধুপুর উপজেলায় প্রবেশ করে। এরপর বানার ও ঝিনাই নদীর শাখার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে গেছে। এটি টাঙ্গাইল, সখিপুর, বাসাইল, মির্জাপুর ও কালিয়াকৈর অতিক্রম করে তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মধুপুর উপজেলা সদরের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর দক্ষিণ তীরে (মধুপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ এলাকা) পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বহু নিরীহ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিত। তাদের স্মরণে পরবর্তীতে সেখানে মধুপুর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। একসময়ের স্রোতস্বিনী বংশাই নদী বর্তমানে অবৈধ দখল, বাড়িঘর নির্মাণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে সংকুচিত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর দুই তীর দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এবং ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় এর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সঠিকভাবে ড্রেসিং এবং দুপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলে আগেকার সেই প্রমত্তা বংশাই নদী তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পাবে বলে আশা করেন বিজ্ঞ মহল।
সংবাদ শিরোনাম
মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ
-
আব্দুল জলিল (মধুপুর) টাঙ্গাইল - আপডেট সময় ০৮:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- 5
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


















