ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা!

সালাফের চোখে জমজমের পানি

মক্কার বুকে অবস্থিত পবিত্র জমজম কূপ শুধু একটি পানির উৎস নয়; এটি ঈমান, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর বিশেষ রহমতের এক জীবন্ত নিদর্শন। হাজার বছর ধরে অসংখ্য নবী, সাহাবি, তাবেয়ি ও সালাফে সালেহিন এই পানির মর্যাদা ও বরকতের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন।
হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতিবাহী এই কূপ মুসলিম হৃদয়ে এক অনন্য আবেগ ও পবিত্রতার উৎস হয়ে আছে। সালাফে সালেহিন জমজমকে শুধু তৃষ্ণা নিবারণের পানি হিসেবে দেখেননি; বরং তারা একে শিফা, বরকত, দোয়া কবুলের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করতেন। তাই তারা অত্যন্ত আদব, ভক্তি ও আন্তরিকতার সাথে জমজম পান করতেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করতেন। হাসান ইবনে ঈসা (রহ.) বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে দেখলাম, তিনি জমজমের কূপে এসে এক বালতি পানি তুললেন।
এরপর কাবার দিকে মুখ করে বললেন, হে আল্লাহ! নবী কারীম (সা.) বলেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা পূরণ হয়’ (ইবনে মাজাহ হাদিস নং : ৩০৬২) তাই ‘হে আল্লাহ! আমি কিবয়ামতের দিন তৃষ্ণা মেটানোর উদ্দেশ্যে এটি পান করছি’। এরপর তিনি তা পান করলেন। (তাহজিবু তাহজিবুল কামাল, খন্ড : ৫, পৃষ্ঠা-২৮০)
একবার ইমাম ইবনে খুজাইমা (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হল যে, তিনি এই এত ইলম কোথা থেকে পেলেন? তখন তিনি বললেন, ‘আমি যখনই জমজমের পানি পান করেছি, আল্লাহর কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করেছি’। (তাজকিরাতুল হুফ্ফায, খন্ড : ২, পৃষ্ঠা-২০৮)
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, আমি যখন হাদিস শিখতে শুরু করি, তখন একবার জমজমের পানি পান করেছিলাম এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেন তিনি আমাকে হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে ইমাম জাহাবি (রহ.)-এর স্তরের হিফজ দান করেন।
এর বিশ বছর পর আমি যখন পুনরায় হজে গেলাম, তখন নিজের মাঝে সেই স্তরের চেয়েও উচ্চতর মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা অনুভব করলাম এবং আল্লাহর কাছে আরও বড় মর্যাদা প্রার্থনা করলাম। আশা করি আল্লাহ তা কবুল করবেন। (মাওয়াহিবুল জালিল…,খন্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১১৬)
ইবনুল কাইয়্যুম জাওজি (রহ.) বলেন, ‘যখন আমি মক্কায় অবস্থান করতাম, তখন মাঝে মধ্যে এমন তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা অনুভব করতাম যে আমার চলাফেরা করতে পারতাম না। বিশেষ করে তাওয়াফের সময়। তখন আমি দ্রুত সুরা ফাতিহা পাঠ করে ব্যথার স্থানে মাসাহ করতাম।
সাথে সাথে মনে হত যেন কোন পাথর পড়ে গেল (ব্যথা উধাও হয়ে যেত)। আমি এটি বহুবার পরীক্ষা করেছি। আমি এক পেয়ালা জমজম পানি নিতাম এবং তাতে বারবার সুরা ফাতিহা পড়ে পান করতাম। এর ফলে আমি এমন উপকার ও শক্তি অনুভব করতাম যা সাধারণ ওষুধে কখনো পাইনি।(মাদারিজুস সালেকিন, খন্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৮০)
সালাফে সালেহিন যেভাবে জমজমকে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন, তা আমাদের জন্যও অনুসরণীয় আদর্শ। তারা জমজমের মাধ্যমে শুধু শারীরিক তৃপ্তিই খুঁজেননি; বরং আল্লাহর রহমত, অন্তরের প্রশান্তি এবং দোয়া কবুলের আশা লালন করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া মননশীল রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা তৈরি হয় না:এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

সালাফের চোখে জমজমের পানি

আপডেট সময় ০৯:১৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মক্কার বুকে অবস্থিত পবিত্র জমজম কূপ শুধু একটি পানির উৎস নয়; এটি ঈমান, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর বিশেষ রহমতের এক জীবন্ত নিদর্শন। হাজার বছর ধরে অসংখ্য নবী, সাহাবি, তাবেয়ি ও সালাফে সালেহিন এই পানির মর্যাদা ও বরকতের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন।
হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতিবাহী এই কূপ মুসলিম হৃদয়ে এক অনন্য আবেগ ও পবিত্রতার উৎস হয়ে আছে। সালাফে সালেহিন জমজমকে শুধু তৃষ্ণা নিবারণের পানি হিসেবে দেখেননি; বরং তারা একে শিফা, বরকত, দোয়া কবুলের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করতেন। তাই তারা অত্যন্ত আদব, ভক্তি ও আন্তরিকতার সাথে জমজম পান করতেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করতেন। হাসান ইবনে ঈসা (রহ.) বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে দেখলাম, তিনি জমজমের কূপে এসে এক বালতি পানি তুললেন।
এরপর কাবার দিকে মুখ করে বললেন, হে আল্লাহ! নবী কারীম (সা.) বলেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা পূরণ হয়’ (ইবনে মাজাহ হাদিস নং : ৩০৬২) তাই ‘হে আল্লাহ! আমি কিবয়ামতের দিন তৃষ্ণা মেটানোর উদ্দেশ্যে এটি পান করছি’। এরপর তিনি তা পান করলেন। (তাহজিবু তাহজিবুল কামাল, খন্ড : ৫, পৃষ্ঠা-২৮০)
একবার ইমাম ইবনে খুজাইমা (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হল যে, তিনি এই এত ইলম কোথা থেকে পেলেন? তখন তিনি বললেন, ‘আমি যখনই জমজমের পানি পান করেছি, আল্লাহর কাছে উপকারী ইলম প্রার্থনা করেছি’। (তাজকিরাতুল হুফ্ফায, খন্ড : ২, পৃষ্ঠা-২০৮)
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, আমি যখন হাদিস শিখতে শুরু করি, তখন একবার জমজমের পানি পান করেছিলাম এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেন তিনি আমাকে হাদিস মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে ইমাম জাহাবি (রহ.)-এর স্তরের হিফজ দান করেন।
এর বিশ বছর পর আমি যখন পুনরায় হজে গেলাম, তখন নিজের মাঝে সেই স্তরের চেয়েও উচ্চতর মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা অনুভব করলাম এবং আল্লাহর কাছে আরও বড় মর্যাদা প্রার্থনা করলাম। আশা করি আল্লাহ তা কবুল করবেন। (মাওয়াহিবুল জালিল…,খন্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ১১৬)
ইবনুল কাইয়্যুম জাওজি (রহ.) বলেন, ‘যখন আমি মক্কায় অবস্থান করতাম, তখন মাঝে মধ্যে এমন তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা অনুভব করতাম যে আমার চলাফেরা করতে পারতাম না। বিশেষ করে তাওয়াফের সময়। তখন আমি দ্রুত সুরা ফাতিহা পাঠ করে ব্যথার স্থানে মাসাহ করতাম।
সাথে সাথে মনে হত যেন কোন পাথর পড়ে গেল (ব্যথা উধাও হয়ে যেত)। আমি এটি বহুবার পরীক্ষা করেছি। আমি এক পেয়ালা জমজম পানি নিতাম এবং তাতে বারবার সুরা ফাতিহা পড়ে পান করতাম। এর ফলে আমি এমন উপকার ও শক্তি অনুভব করতাম যা সাধারণ ওষুধে কখনো পাইনি।(মাদারিজুস সালেকিন, খন্ড : ১, পৃষ্ঠা : ৮০)
সালাফে সালেহিন যেভাবে জমজমকে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার সাথে গ্রহণ করেছেন, তা আমাদের জন্যও অনুসরণীয় আদর্শ। তারা জমজমের মাধ্যমে শুধু শারীরিক তৃপ্তিই খুঁজেননি; বরং আল্লাহর রহমত, অন্তরের প্রশান্তি এবং দোয়া কবুলের আশা লালন করেছেন।