ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

‘কত কাজ বাকি রয়ে গেল কারিনা!’

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই ১৫ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী হিসেবে রেজাউর রহমানের তিনটি প্রকল্পে কাজ করেছিলেন কারিনা। প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণা করেছেন এই নির্মাতা।
২০১৮ সালের আগস্টের দিকে কারিনার সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন ‘দেখো’ নামের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। ওর একটি কনটেন্ট দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। তখন কারিনার বয়স কত আর হবে—২৩ কী ২৪। ওর রসবোধ ও কাজের প্রতি একাগ্রতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর আমরা পুরো টিম ওকে নিয়মিত এখানে কাজ করার অনুরোধ করি। কত প্ল্যান করতাম দুজন। বয়স কম হলেও ভালো ভালো এত আইডিয়া দিত, সবাই অবাক হয়ে যেতাম, আরে, এভাবে তো ভেবে দেখিনি!
আমাদের সুন্দর একটি আগামী হারিয়ে গেল: কারিনার মৃত্যুতে তারিক আনাম
২০২০ সালের দিকে নিজেরা কিছু করার পরিকল্পনা করি। দুজন মিলে শুরু করি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হাউস অব কেওস’। খুব একটা ভেবেচিন্তে শুরু করিনি। আসলে এটি ছিল আমাদের দুজনের একটি একান্ত ‘ক্রিয়েটিভ স্পেস’, যেখানে নিজেদের পরিকল্পনাগুলো স্বাধীনভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। আস্তে আস্তে এটি আজকের চেহারা পায়।
হাউস অব কেওসের ব্যানারে গত কয়েক বছরে আমরা শতাধিক বিজ্ঞাপন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাণ করি। চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের সিনেমা ৩৬-২৪-৩৬, ওয়েব সিরিজ ইন্টার্নশিপ থেকে সবশেষ হইচইয়ের সিনেমা একসাথে আলাদা—প্রতিটা কাজের পেছনে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে কারিনা। বিশেষ করে কোথাও যখন পিচ করতাম, ও এত সুন্দর করে গল্পটা বলত, উপস্থিত সবাই ভিজ্যুয়ালটা যেন সামনে দেখতে পেত।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও কারিনার একটা নাম ছিল। মিডিয়ার বাইরের মানুষদের কাছে যখন যেতাম, ওর ক্রেজটা টের পেতাম। ওর সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং কমিউনিকেশনের বিষয়গুলো আমিই সামলেছি।
কারিনা নেই, এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। কত কাজ বাকি রয়ে গেল। ৩ মে ওর শরীর খারাপ শুনে বাসায় গেলাম, প্রচ- জ্বর। চিকিৎসক দেখানোর কথা বললে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল, ‘জ্বর হলে ডাক্তার লাগে নাকি!’ আড্ডা দিয়ে চলে এলাম। পরের দিনও অনলাইনে কিছু কথা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। ভেবেছি, অসুস্থতায় শরীর ক্লান্ত, হয়তো ঘুমিয়ে আছে।
৫ মে ওর মা ফোনে জানান, ও অনেক বেশি অসুস্থ, রাত থেকে কিছুই খাচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গেই বাসায় গিয়ে দেখি শরীরের অবস্থা ভীষণ খারাপ। হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকেরা ইমার্জেন্সি থেকে ওকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। এরপর আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে। এই শেষ। আর ফিরে আসবে না আমাদের কারিনা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

‘কত কাজ বাকি রয়ে গেল কারিনা!’

আপডেট সময় ১০:২৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই ১৫ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী হিসেবে রেজাউর রহমানের তিনটি প্রকল্পে কাজ করেছিলেন কারিনা। প্রয়াত শিল্পীর সঙ্গে কাজের স্মৃতিচারণা করেছেন এই নির্মাতা।
২০১৮ সালের আগস্টের দিকে কারিনার সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন ‘দেখো’ নামের নতুন একটি প্ল্যাটফর্মে একসঙ্গে কাজ করছিলাম। ওর একটি কনটেন্ট দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। তখন কারিনার বয়স কত আর হবে—২৩ কী ২৪। ওর রসবোধ ও কাজের প্রতি একাগ্রতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর আমরা পুরো টিম ওকে নিয়মিত এখানে কাজ করার অনুরোধ করি। কত প্ল্যান করতাম দুজন। বয়স কম হলেও ভালো ভালো এত আইডিয়া দিত, সবাই অবাক হয়ে যেতাম, আরে, এভাবে তো ভেবে দেখিনি!
আমাদের সুন্দর একটি আগামী হারিয়ে গেল: কারিনার মৃত্যুতে তারিক আনাম
২০২০ সালের দিকে নিজেরা কিছু করার পরিকল্পনা করি। দুজন মিলে শুরু করি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘হাউস অব কেওস’। খুব একটা ভেবেচিন্তে শুরু করিনি। আসলে এটি ছিল আমাদের দুজনের একটি একান্ত ‘ক্রিয়েটিভ স্পেস’, যেখানে নিজেদের পরিকল্পনাগুলো স্বাধীনভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। আস্তে আস্তে এটি আজকের চেহারা পায়।
হাউস অব কেওসের ব্যানারে গত কয়েক বছরে আমরা শতাধিক বিজ্ঞাপন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাণ করি। চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রজেক্টের সিনেমা ৩৬-২৪-৩৬, ওয়েব সিরিজ ইন্টার্নশিপ থেকে সবশেষ হইচইয়ের সিনেমা একসাথে আলাদা—প্রতিটা কাজের পেছনে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছে কারিনা। বিশেষ করে কোথাও যখন পিচ করতাম, ও এত সুন্দর করে গল্পটা বলত, উপস্থিত সবাই ভিজ্যুয়ালটা যেন সামনে দেখতে পেত।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও কারিনার একটা নাম ছিল। মিডিয়ার বাইরের মানুষদের কাছে যখন যেতাম, ওর ক্রেজটা টের পেতাম। ওর সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট এবং কমিউনিকেশনের বিষয়গুলো আমিই সামলেছি।
কারিনা নেই, এখনো আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। কত কাজ বাকি রয়ে গেল। ৩ মে ওর শরীর খারাপ শুনে বাসায় গেলাম, প্রচ- জ্বর। চিকিৎসক দেখানোর কথা বললে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল, ‘জ্বর হলে ডাক্তার লাগে নাকি!’ আড্ডা দিয়ে চলে এলাম। পরের দিনও অনলাইনে কিছু কথা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। ভেবেছি, অসুস্থতায় শরীর ক্লান্ত, হয়তো ঘুমিয়ে আছে।
৫ মে ওর মা ফোনে জানান, ও অনেক বেশি অসুস্থ, রাত থেকে কিছুই খাচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গেই বাসায় গিয়ে দেখি শরীরের অবস্থা ভীষণ খারাপ। হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকেরা ইমার্জেন্সি থেকে ওকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। এরপর আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে। এই শেষ। আর ফিরে আসবে না আমাদের কারিনা।