ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

টক দইয়ে চিনি ও লবণ মেশানোর আগে সতর্ক হোন

গরমের দিনে এক বাটি ঠান্ডা টক দই শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে। সকালের নাস্তায় কিংবা হালকা খাবার হিসেবে টক দই অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে। শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণেও এই খাবারটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে টক দইয়ের স্বাভাবিক টক স্বাদ অনেকেই পছন্দ করেন না। তাই কেউ এতে চিনি মিশিয়ে খান, কেউ আবার লবণ বা বিট লবণ যোগ করে রায়তা তৈরি করেন। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস টক দইয়ের প্রকৃত উপকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
কেন টক দই এত উপকারী?
টক দইকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্রোবায়োটিক’ খাবার বলা হয়। অর্থাৎ এতে থাকে কোটি কোটি জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো খাবার দ্রুত হজম করতে, পুষ্টি শোষণ বাড়াতে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত টক দই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যাও অনেকাংশে কমে যেতে পারে।
চিনি মেশালে যেসব ক্ষতি হতে পারে
অনেকেই টক দইয়ের টকভাব কমাতে চিনি মিশিয়ে খান। কিন্তু এতে দইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন-
উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে যায়
অতিরিক্ত চিনি দইয়ের স্বাভাবিক অম্লতা বা পিএইচের ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে এতে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে দই খাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই অনেকটা ব্যাহত হয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে
সাধারণ টক দই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি ও মেদ জমার ঝুঁকি
চিনি যোগ করলে দইয়ের ক্যালোরি অনেক বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। ফলে নিয়মিত চিনি মেশানো দই খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
লবণ মিশিয়ে খাওয়া কি নিরাপদ?
অনেকে মনে করেন, চিনি না দিয়ে লবণ বা বিট লবণ মিশিয়ে দই খাওয়া স্বাস্থ্যকর। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত লবণও কিছু সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন-
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
লবণের প্রধান উপাদান সোডিয়াম। টক দইয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ যোগ করলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা ও বদহজমের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হতে পারে।
টক দই খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, টক দইয়ের পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে হলে এটি কোনো কিছু না মিশিয়ে প্রাকৃতিক অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে থাকা প্রোবায়োটিক, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তখন সর্বোচ্চ কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে। তবে যারা একেবারেই সাদা টক দই খেতে পারেন না, তারা কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন।
মধু ব্যবহার করতে পারেন
পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে অল্প পরিমাণ খাঁটি মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্বাদও বাড়বে এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি গ্রহণের ঝুঁকিও কমবে।
ফলের টুকরো যোগ করুন
আপেল, কলা, ডালিম, স্ট্রবেরি কিংবা পেঁপের মতো ফল ছোট ছোট করে কেটে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনি ফলের ভিটামিন ও ফাইবারও পাওয়া যাবে।
ভাজা জিরা বা গোলমরিচ
লবণের পরিবর্তে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া বা গোলমরিচের গুঁড়া ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং দইয়ের স্বাদেও ভিন্নতা আনে।
টক দই নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে এর প্রকৃত উপকারিতা পেতে হলে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ মেশানোর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা ভালো। প্রাকৃতিক অবস্থায় বা স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করে টক দই খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে, পাশাপাশি হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

টক দইয়ে চিনি ও লবণ মেশানোর আগে সতর্ক হোন

আপডেট সময় ১২:৪০:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

গরমের দিনে এক বাটি ঠান্ডা টক দই শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে। সকালের নাস্তায় কিংবা হালকা খাবার হিসেবে টক দই অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে। শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কারণেও এই খাবারটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। টক দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে টক দইয়ের স্বাভাবিক টক স্বাদ অনেকেই পছন্দ করেন না। তাই কেউ এতে চিনি মিশিয়ে খান, কেউ আবার লবণ বা বিট লবণ যোগ করে রায়তা তৈরি করেন। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস টক দইয়ের প্রকৃত উপকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
কেন টক দই এত উপকারী?
টক দইকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্রোবায়োটিক’ খাবার বলা হয়। অর্থাৎ এতে থাকে কোটি কোটি জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো খাবার দ্রুত হজম করতে, পুষ্টি শোষণ বাড়াতে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত টক দই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যাও অনেকাংশে কমে যেতে পারে।
চিনি মেশালে যেসব ক্ষতি হতে পারে
অনেকেই টক দইয়ের টকভাব কমাতে চিনি মিশিয়ে খান। কিন্তু এতে দইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন-
উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে যায়
অতিরিক্ত চিনি দইয়ের স্বাভাবিক অম্লতা বা পিএইচের ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে এতে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে দই খাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই অনেকটা ব্যাহত হয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে
সাধারণ টক দই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি ও মেদ জমার ঝুঁকি
চিনি যোগ করলে দইয়ের ক্যালোরি অনেক বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে। ফলে নিয়মিত চিনি মেশানো দই খাওয়ার অভ্যাস ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
লবণ মিশিয়ে খাওয়া কি নিরাপদ?
অনেকে মনে করেন, চিনি না দিয়ে লবণ বা বিট লবণ মিশিয়ে দই খাওয়া স্বাস্থ্যকর। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত লবণও কিছু সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন-
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
লবণের প্রধান উপাদান সোডিয়াম। টক দইয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিমাণ সোডিয়াম থাকে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ যোগ করলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা ও বদহজমের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি হতে পারে।
টক দই খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, টক দইয়ের পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে হলে এটি কোনো কিছু না মিশিয়ে প্রাকৃতিক অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এতে থাকা প্রোবায়োটিক, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান তখন সর্বোচ্চ কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে। তবে যারা একেবারেই সাদা টক দই খেতে পারেন না, তারা কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন।
মধু ব্যবহার করতে পারেন
পরিশোধিত চিনির পরিবর্তে অল্প পরিমাণ খাঁটি মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্বাদও বাড়বে এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি গ্রহণের ঝুঁকিও কমবে।
ফলের টুকরো যোগ করুন
আপেল, কলা, ডালিম, স্ট্রবেরি কিংবা পেঁপের মতো ফল ছোট ছোট করে কেটে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনি ফলের ভিটামিন ও ফাইবারও পাওয়া যাবে।
ভাজা জিরা বা গোলমরিচ
লবণের পরিবর্তে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়া বা গোলমরিচের গুঁড়া ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং দইয়ের স্বাদেও ভিন্নতা আনে।
টক দই নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে এর প্রকৃত উপকারিতা পেতে হলে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ মেশানোর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা ভালো। প্রাকৃতিক অবস্থায় বা স্বাস্থ্যকর উপাদান যোগ করে টক দই খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে, পাশাপাশি হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক