ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

থাইল্যান্ডের লংগান ফল চাষে ধনবাড়ীতে উন্মোচিত নতুন সম্ভাবনা

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে থাইল্যান্ডের হুতি জাতের লংগান চাষ করে সফলতা পেয়েছে ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের। ৫ বছর আগে বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার হতে আনা ৪ টি ৫ বছর বয়সী গাছে এখন থোকায় থোকায় ধরে আছে লংগান। বাদামি খোসা আর মার্বেল আকারের গোল লিচু হলো লংগান। আকারে সাধারণ লিচুর সঙ্গে পার্থক্য থাকলেও স্বাদে বেশ মিল আছে। খোসা ছাড়ালে চোখের মতো দেখতে, তাই চীনে লংগানকে বলা হয় ‘ড্রাগনস আই’। ফলটির উৎপত্তি চীন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভারতের কিছু অঞ্চলে। ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মোঃ রাসেল পারভেজ (তমাল) বলেন, বাগানের গাছ গুলোতে দুই বছর ধরে থাইল্যান্ডের একটি জাতের লংগান ধরছে। লংগান ফল হিসেবে লিচু পরিবারের সদস্য। তিন বছরের মধ্যেই ফল ধরতে শুরু করে। প্রতিটি ডালের মাথায় থোকায় থোকায় ধরে লংগান। ছাদবাগানের উপযোগী এই লংগান। বড় টবে ১০-১২ বছর পর্যন্ত রাখা যায়। দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়। রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। তাই কীটনাশক ছাড়াই এর ফলন পাওয়া যায়। লিচু ঝরে পড়ে। কিন্তু লংগান ঝরে পড়ে না। বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশে আনা এই ফল ধনবাড়ী সহ ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও বড় ফলের দোকানে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বাজারে লিচু শেষ হয়ে যাওয়ার এক মাস পর, অর্থাৎ জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে লংগান পাকতে শুরু করে। থাকে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এই সময়ে লিচুর বিকল্প হিসেবে লংগান জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা উদ্যানতত্ত্ববিদদের। হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মোঃ এনামুল কবির জানান, গুটি কলমের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়ে থাকে। এর চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লংগানের বাগান করতে চাইলে ৮-১০ ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববি মোঃ মাসুদ পারভেজ তমাল আরো বলেন, লিচু ফুরিয়ে যাওয়ার পর লংগান পাওয়া যাবে। এর সংরক্ষণক্ষমতা লিচুর চেয়ে বেশি। ফ্রুকটোজ দিয়ে এর মিষ্টতা তৈরি হয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারবেন। সংরক্ষণক্ষমতার কারণে এটি বিদেশেও রপ্তানিযোগ্য। সারা দেশের হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে এর মাতৃগাছ লাগানো হয়েছে। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এর চারা আগ্রহী ফলচাষিদের দেওয়া সম্ভব হবে। এই লংগান চাষ করে অনেক যুবক তাদের বেকারত্ব দূর করতে পারবে বলেও মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

থাইল্যান্ডের লংগান ফল চাষে ধনবাড়ীতে উন্মোচিত নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে থাইল্যান্ডের হুতি জাতের লংগান চাষ করে সফলতা পেয়েছে ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের। ৫ বছর আগে বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার হতে আনা ৪ টি ৫ বছর বয়সী গাছে এখন থোকায় থোকায় ধরে আছে লংগান। বাদামি খোসা আর মার্বেল আকারের গোল লিচু হলো লংগান। আকারে সাধারণ লিচুর সঙ্গে পার্থক্য থাকলেও স্বাদে বেশ মিল আছে। খোসা ছাড়ালে চোখের মতো দেখতে, তাই চীনে লংগানকে বলা হয় ‘ড্রাগনস আই’। ফলটির উৎপত্তি চীন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভারতের কিছু অঞ্চলে। ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মোঃ রাসেল পারভেজ (তমাল) বলেন, বাগানের গাছ গুলোতে দুই বছর ধরে থাইল্যান্ডের একটি জাতের লংগান ধরছে। লংগান ফল হিসেবে লিচু পরিবারের সদস্য। তিন বছরের মধ্যেই ফল ধরতে শুরু করে। প্রতিটি ডালের মাথায় থোকায় থোকায় ধরে লংগান। ছাদবাগানের উপযোগী এই লংগান। বড় টবে ১০-১২ বছর পর্যন্ত রাখা যায়। দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন হয়। রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। তাই কীটনাশক ছাড়াই এর ফলন পাওয়া যায়। লিচু ঝরে পড়ে। কিন্তু লংগান ঝরে পড়ে না। বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশে আনা এই ফল ধনবাড়ী সহ ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও বড় ফলের দোকানে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বাজারে লিচু শেষ হয়ে যাওয়ার এক মাস পর, অর্থাৎ জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে লংগান পাকতে শুরু করে। থাকে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এই সময়ে লিচুর বিকল্প হিসেবে লংগান জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা উদ্যানতত্ত্ববিদদের। হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মোঃ এনামুল কবির জানান, গুটি কলমের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়ে থাকে। এর চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লংগানের বাগান করতে চাইলে ৮-১০ ফুট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববি মোঃ মাসুদ পারভেজ তমাল আরো বলেন, লিচু ফুরিয়ে যাওয়ার পর লংগান পাওয়া যাবে। এর সংরক্ষণক্ষমতা লিচুর চেয়ে বেশি। ফ্রুকটোজ দিয়ে এর মিষ্টতা তৈরি হয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারবেন। সংরক্ষণক্ষমতার কারণে এটি বিদেশেও রপ্তানিযোগ্য। সারা দেশের হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে এর মাতৃগাছ লাগানো হয়েছে। আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এর চারা আগ্রহী ফলচাষিদের দেওয়া সম্ভব হবে। এই লংগান চাষ করে অনেক যুবক তাদের বেকারত্ব দূর করতে পারবে বলেও মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।