ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

কাদা নিচে, মাথার ওপর পানির ধারা-দুই দিকের দুর্ভোগে নাকাল কালীগঞ্জ বাজারের মানুষ

একদিকে হাঁটুসমান কাদা, অন্যদিকে মাথার ওপর ঝরে পড়া ছাদের পানি। মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেন পথ হারিয়ে ফেলেছেন ক্রেতারা। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান বাজারে এখন এমন দৃশ্যই নিত্যদিনের। বর্ষার বৃষ্টিতে বাজারের ভেতরের সড়ক পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের করিডোরে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাজারে কেনাকাটা করতে এসে সেই দুর্ভোগের মুখোমুখি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেক বাবু। বাজারের ভেতরে ঢুকতেই শুরু হয় বৃষ্টি। কাদায় ভরা রাস্তা এড়িয়ে একপাশ দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও মিলেনি স্বস্তি। ভবনের ছাদ থেকে রাস্তার ওপর নামানো পানিনিষ্কাশনের পাইপ দিয়ে বৃষ্টির পানি এসে পড়ে তার মাথা ও শরীরে। শেষ পর্যন্ত ভেজা কাপড় আর বিরক্তি নিয়েই বাজার ছাড়তে হয় তাকে। আবু সালেক বাবু বলেন, এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু বাজারের ভেতরের রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও কঠিন। কাদা এড়াতে পাশে গেলে ভবনের পাইপের পানি গায়ে পড়ে। মনে হয়, পথচারীদের কথা কেউ ভাবেইনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পুরো সড়কজুড়ে কাদা, গর্ত ও জমে থাকা পানি। কয়েক দিন আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে ইটের খোয়া ও বালি ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হলেও টানা বৃষ্টিতে তা কাদার সঙ্গে মিশে আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে ভারী ব্যাগ নিয়ে চলাচল করা নারী, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কালীগঞ্জে শিল্পকারখানার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারের গুরুত্বও বেড়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাজারমুখী হতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। কাপড় ব্যবসায়ী ফারুক দেওয়ান বলেন, সাময়িক সংস্কার করে দায় শেষ করা হয়েছে। এখন সেই ইটের খোয়া কাদার মধ্যে মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। রাস্তার মাঝখান দিয়ে যাওয়া যায় না, আবার পাশে গেলেও পাইপের পানি গায়ে পড়ে। ব্যবসায়ী মো. আলামিন হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় একই অবস্থা হয়। মনে হয় বাজার নয়, ধানক্ষেত। অথচ বছরের পর বছর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ দেখা যায় না। আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক একসঙ্গে সংস্কার না করলে এ সমস্যা দূর হবে না। কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের মুসল্লি ফারুক আহমেদ বলেন, মুসল্লিদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে কিছু কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি টেকসই হয়নি। এখন স্থায়ী সমাধান ছাড়া মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মন্নুর আহমেদ বলেন, বর্ষার আগে সীমিত পরিসরে কিছু কাজ করা হয়েছিল। অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কালীগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বাজারের সমস্যাটি আমাদের জানা আছে। বর্ষা শেষে নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরসিসি সড়ক নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্ষা এলেই কালীগঞ্জ বাজারের পুরোনো ক্ষত আবারও সামনে আসে। প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারে আর কত বছর সাময়িক সংস্কারে দায় সারবে কর্তৃপক্ষ? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার যেন কাদা নয়, টেকসই উন্নয়নের পথেই হাঁটে কালীগঞ্জ বাজার।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

কাদা নিচে, মাথার ওপর পানির ধারা-দুই দিকের দুর্ভোগে নাকাল কালীগঞ্জ বাজারের মানুষ

আপডেট সময় ০৩:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

একদিকে হাঁটুসমান কাদা, অন্যদিকে মাথার ওপর ঝরে পড়া ছাদের পানি। মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেন পথ হারিয়ে ফেলেছেন ক্রেতারা। গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান বাজারে এখন এমন দৃশ্যই নিত্যদিনের। বর্ষার বৃষ্টিতে বাজারের ভেতরের সড়ক পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের করিডোরে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাজারে কেনাকাটা করতে এসে সেই দুর্ভোগের মুখোমুখি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেক বাবু। বাজারের ভেতরে ঢুকতেই শুরু হয় বৃষ্টি। কাদায় ভরা রাস্তা এড়িয়ে একপাশ দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও মিলেনি স্বস্তি। ভবনের ছাদ থেকে রাস্তার ওপর নামানো পানিনিষ্কাশনের পাইপ দিয়ে বৃষ্টির পানি এসে পড়ে তার মাথা ও শরীরে। শেষ পর্যন্ত ভেজা কাপড় আর বিরক্তি নিয়েই বাজার ছাড়তে হয় তাকে। আবু সালেক বাবু বলেন, এটি কালীগঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে আসেন। কিন্তু বাজারের ভেতরের রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও কঠিন। কাদা এড়াতে পাশে গেলে ভবনের পাইপের পানি গায়ে পড়ে। মনে হয়, পথচারীদের কথা কেউ ভাবেইনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পুরো সড়কজুড়ে কাদা, গর্ত ও জমে থাকা পানি। কয়েক দিন আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে ইটের খোয়া ও বালি ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হলেও টানা বৃষ্টিতে তা কাদার সঙ্গে মিশে আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। ফলে বাজারে ভারী ব্যাগ নিয়ে চলাচল করা নারী, বৃদ্ধ ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, কালীগঞ্জে শিল্পকারখানার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারের গুরুত্বও বেড়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় ক্রেতারা ধীরে ধীরে বাজারমুখী হতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। কাপড় ব্যবসায়ী ফারুক দেওয়ান বলেন, সাময়িক সংস্কার করে দায় শেষ করা হয়েছে। এখন সেই ইটের খোয়া কাদার মধ্যে মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। রাস্তার মাঝখান দিয়ে যাওয়া যায় না, আবার পাশে গেলেও পাইপের পানি গায়ে পড়ে। ব্যবসায়ী মো. আলামিন হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় একই অবস্থা হয়। মনে হয় বাজার নয়, ধানক্ষেত। অথচ বছরের পর বছর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ দেখা যায় না। আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক একসঙ্গে সংস্কার না করলে এ সমস্যা দূর হবে না। কালীগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের মুসল্লি ফারুক আহমেদ বলেন, মুসল্লিদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে কিছু কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি টেকসই হয়নি। এখন স্থায়ী সমাধান ছাড়া মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মন্নুর আহমেদ বলেন, বর্ষার আগে সীমিত পরিসরে কিছু কাজ করা হয়েছিল। অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কালীগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, বাজারের সমস্যাটি আমাদের জানা আছে। বর্ষা শেষে নয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় যত দ্রুত সম্ভব টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরসিসি সড়ক নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্ষা এলেই কালীগঞ্জ বাজারের পুরোনো ক্ষত আবারও সামনে আসে। প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারে আর কত বছর সাময়িক সংস্কারে দায় সারবে কর্তৃপক্ষ? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার যেন কাদা নয়, টেকসই উন্নয়নের পথেই হাঁটে কালীগঞ্জ বাজার।