ঢাকা ১১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

কপোতাক্ষের তীরে মৃত্যুর ফাঁদ: কয়রায় ছাদ ধসে পড়ল কলেজের ভবনের, অলৌকিকভাবে রক্ষা ২৫০ শিক্ষার্থীর

উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী অবস্থিত গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ এই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছিল নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠদান। ছাদ ধসে পড়ার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল দোতলা ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত কঙ্কালসার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১৯৯৫ সালে প্রথম তলা এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো একের পর এক প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায়। বর্তমানে ভবনটির দরজা, জানালা ও দেয়ালের অস্তিত্ব বলতে প্রায় কিছুই নেই। চারদিকের পিলার ও ছাদ ফেটে রড বেরিয়ে এসেছে। এর আগেও ছাদের পলেস্তারা ও চাঙড় খসে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের কারোরই পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় এত শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা ক্লাস করাতে চরম হিমশিম খাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ জানান, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান একসময় অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের এই বেহাল দশার কারণে অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে ও নতুন ভবনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানান শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল মেলেনি। কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে নতুন ভবন আশু প্রয়োজন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নতুন একটি ভবন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এখানে নতুন স্কুল ভবন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আর কোনো আশ্বাস বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নয়; অনতিবিলম্বে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ও জীবন সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এখানে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হোক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

কপোতাক্ষের তীরে মৃত্যুর ফাঁদ: কয়রায় ছাদ ধসে পড়ল কলেজের ভবনের, অলৌকিকভাবে রক্ষা ২৫০ শিক্ষার্থীর

আপডেট সময় ০৩:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

উপকূলীয় উপজেলা কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী অবস্থিত গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ এই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছিল নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠদান। ছাদ ধসে পড়ার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল দোতলা ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত কঙ্কালসার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের অধীনে ১৯৯৫ সালে প্রথম তলা এবং ২০০১ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো একের পর এক প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায়। বর্তমানে ভবনটির দরজা, জানালা ও দেয়ালের অস্তিত্ব বলতে প্রায় কিছুই নেই। চারদিকের পিলার ও ছাদ ফেটে রড বেরিয়ে এসেছে। এর আগেও ছাদের পলেস্তারা ও চাঙড় খসে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় একটি ছোট টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে আমাদের বা শিক্ষার্থীদের কারোরই পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় এত শিক্ষার্থী নিয়ে আমরা ক্লাস করাতে চরম হিমশিম খাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ জানান, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান একসময় অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু ভবনের এই বেহাল দশার কারণে অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে ও নতুন ভবনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানান শিক্ষকরা। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ভবন দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত জানানো হলেও এখনো কোনো সুফল মেলেনি। কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে নতুন ভবন আশু প্রয়োজন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নতুন একটি ভবন বরাদ্দের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, গাজী আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা আমাদের অগ্রাধিকার। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই এখানে নতুন স্কুল ভবন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, আর কোনো আশ্বাস বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নয়; অনতিবিলম্বে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ও জীবন সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে এখানে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হোক।