ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

কালীগঞ্জে বাল্যবিবাহ রুখতে পরিবার-সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান

একটি বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, থামিয়ে দিতে পারে তার শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নও। অন্যদিকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা তৈরি করে পরিবার ও সমাজে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত। এসব বিষয়কে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সভাটির আয়োজন করে। সভায় নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে কিশোরীদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে রক্ষা এবং তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মীর তারিন বাশার লিমা, মসলিন কটন মিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন, শিক্ষক আব্দুর রহমান আরমান প্রমুখ। সভায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহকে শুধু পারিবারিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষার অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে একটি শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে কোনো পরিবারে বাল্যবিবাহের উদ্যোগ দেখা দিলে তা প্রতিরোধে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা গেলে একটি সুস্থ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য পরিবার থেকেই শিশুদের সচেতন করে তুলতে হবে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সভা শেষে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

কালীগঞ্জে বাল্যবিবাহ রুখতে পরিবার-সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:৪১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

একটি বাল্যবিবাহ শুধু একটি মেয়ের শৈশব কেড়ে নেয় না, থামিয়ে দিতে পারে তার শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নও। অন্যদিকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা তৈরি করে পরিবার ও সমাজে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত। এসব বিষয়কে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মসলিন কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সভাটির আয়োজন করে। সভায় নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে কিশোরীদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি থেকে রক্ষা এবং তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মীর তারিন বাশার লিমা, মসলিন কটন মিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন, শিক্ষক আব্দুর রহমান আরমান প্রমুখ। সভায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহকে শুধু পারিবারিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষার অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে একটি শিশুর শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে কোনো পরিবারে বাল্যবিবাহের উদ্যোগ দেখা দিলে তা প্রতিরোধে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা গেলে একটি সুস্থ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য পরিবার থেকেই শিশুদের সচেতন করে তুলতে হবে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সভা শেষে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।