ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ Logo রৌমারী রাজিবপুরে পূজামন্ডপ ও বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসন Logo দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে বহুমুখী হিসাব-নিকাশ, আলোচনায় ১১ নেতা Logo ফটিকছড়িতে সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ Logo কলমাকান্দায় ১০ নারী ক্ষমতায়ন ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি Logo দুর্গাপূজায় দিনাজপুর সীমান্তে ৪২ বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৮৬ ম-প Logo গাসিকের উন্নয়ন কর্মকা-ে সক্রিয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাকঅবকাঠামো নির্মাণ, প্রকল্প তদারকি ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব Logo পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর টি-বাঁধ পরিদর্শন করেছেন Logo সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন ডাঃ সোহাগ Logo নাজিরপুরে অবৈধ সার বিক্রেতার দোকানে কৃষি কর্মকর্তার অভিযানের জেরে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপরে হামলা, থানায় মামলা

প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সামরিক শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও খুব দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবার ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে তেহরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়েই ইরান নতুন করে কিছু ড্রোন উৎপাদন শুরু করে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের ধারণা ছিল, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আরও দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত এগোচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দ্রুত পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান। এর ফলে ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার নির্ধারিত প্রায় সব সময়সীমাকেই ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে।
এই সময়সীমা এতটা কমে আসার পেছনে আংশিক কারণ হলো রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে ইরানের পাওয়া সহায়তা। তাদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও অভিযোগ করেছিলেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান দিচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনটি ‘তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়’।
সূত্রগুলোর মতে, ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি এখনও অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলেও ইরান বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ভিন্ন দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের সামরিক শিল্পভিত্তির প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করেছে এবং দেশটি বহু বছরেও আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।
পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ‘প্রেসিডেন্টের বেছে নেওয়া সময় ও স্থানে যেকোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে’।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপকরণ সামগ্রী বিতরণ

প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সামরিক শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইরান

আপডেট সময় ০১:২৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও খুব দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবার ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে তেহরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সিএনএন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়েই ইরান নতুন করে কিছু ড্রোন উৎপাদন শুরু করে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের ধারণা ছিল, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আরও দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত এগোচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দ্রুত পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান। এর ফলে ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার নির্ধারিত প্রায় সব সময়সীমাকেই ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারে।
এই সময়সীমা এতটা কমে আসার পেছনে আংশিক কারণ হলো রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে ইরানের পাওয়া সহায়তা। তাদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও অভিযোগ করেছিলেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান দিচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনটি ‘তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়’।
সূত্রগুলোর মতে, ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি এখনও অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলেও ইরান বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ভিন্ন দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের সামরিক শিল্পভিত্তির প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করেছে এবং দেশটি বহু বছরেও আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।
পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ‘প্রেসিডেন্টের বেছে নেওয়া সময় ও স্থানে যেকোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে’।