ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। গত শুক্রবার (২২ মে) বিকালে রাশিয়া থেকে তার এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির।
নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই বন্ধু বর্তমানে একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় ওই বন্ধু দাবি করেন, একটি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মা জাকিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করে বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই।”
স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এতে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, পরে তারা জানতে পারেন তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি।
পরিবার জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তখন তিনি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর এসএসসি পাস করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে আর্থিক সংকটে ভালো চাকরির আশায় চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় যান।
এর আগে ২ মে একই উপজেলার আরেক বাংলাদেশি রিয়াদ রশিদ রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

আপডেট সময় ১০:২৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। গত শুক্রবার (২২ মে) বিকালে রাশিয়া থেকে তার এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির।
নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই বন্ধু বর্তমানে একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় ওই বন্ধু দাবি করেন, একটি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মা জাকিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করে বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই।”
স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এতে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, পরে তারা জানতে পারেন তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি।
পরিবার জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তখন তিনি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর এসএসসি পাস করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে আর্থিক সংকটে ভালো চাকরির আশায় চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় যান।
এর আগে ২ মে একই উপজেলার আরেক বাংলাদেশি রিয়াদ রশিদ রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন।