ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। গত শুক্রবার (২২ মে) বিকালে রাশিয়া থেকে তার এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির।
নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই বন্ধু বর্তমানে একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় ওই বন্ধু দাবি করেন, একটি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মা জাকিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করে বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই।”
স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এতে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, পরে তারা জানতে পারেন তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি।
পরিবার জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তখন তিনি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর এসএসসি পাস করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে আর্থিক সংকটে ভালো চাকরির আশায় চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় যান।
এর আগে ২ মে একই উপজেলার আরেক বাংলাদেশি রিয়াদ রশিদ রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে ‘মাইন বিস্ফোরণে’ নিহত কিশোরগঞ্জের যুবক

আপডেট সময় ১০:২৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে কিশোরগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন। গত শুক্রবার (২২ মে) বিকালে রাশিয়া থেকে তার এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর জানান বলে নিশ্চিত করেছেন করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির।
নিহত জাহাঙ্গীর উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের প্রয়াত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ বলেন, রাশিয়ায় অবস্থানরত তাদের এক বন্ধু ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই বন্ধু বর্তমানে একটি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত এবং তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
ভিডিও বার্তায় ওই বন্ধু দাবি করেন, একটি এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে তাদের রাশিয়ায় পাঠানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং যুদ্ধে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই এজেন্সিকে দায়ী করা হচ্ছে।
এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মা জাকিয়া বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করে বলেন, “আমি আর কিছু চাই না, আমার ছেলেটাকে ফেরত চাই।”
স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় তিনি রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এতে পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম জানান, পরে তারা জানতে পারেন তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফেরার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি আর ফিরতে পারেননি।
পরিবার জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তখন তিনি নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর এসএসসি পাস করে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে আর্থিক সংকটে ভালো চাকরির আশায় চার মাস আগে শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় রাশিয়ায় যান।
এর আগে ২ মে একই উপজেলার আরেক বাংলাদেশি রিয়াদ রশিদ রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় নিহত হন।