ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

নেত্রকোনায় ১০ কোটি টাকার সেতু এখন মরণ ফাঁদে পরিণত

সদর উপজেলার শত গ্রামের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল গজারিয়া নদের ওপর একটি সেতু। সেই স্বপ্ন বাস্তবেও রূপ নিলেও এখন চলাচলে অনুপোযোগী। সরকারি টাকা প্রায় ৯,৮৭,৪৫,২০৭৯৪ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বহুল প্রত্যাশিত সেতু। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পার হতে না হতেই এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প এর আওতায় লক্ষীগঞ্জ জিসি নেত্রকোনা -কেন্দুয়া আর এস এইচ এর বায়রাউড়া মোড় ভায়া মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে ১২৫০মিঃ চেইনেজ গজারিয়া নদীর উপর ৯৬.০০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার নির্মাণ কাজ ৮ ফেব্রুয়ারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শেখ হেমায়েত আলী (জেবি) এর মাধ্যমে ২০২১-২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়। ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোনা সদর উপজেলার গজারিয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালে শেষ হয়। কিন্তু ব্রিজের কাজ শেষ না হতেই সেতু দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ ব্রিজ জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। ফলে প্রতিদিন নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মোঃ জালাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বয়স হয়ে গেছে, কি বলবো ৭-৫ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করলে এমনতো হবেই। একটু অসাবধান হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী? বায়রাউড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বলেন, সেতুর কাজ প্রায় তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সেতুটি এখনো কোনো কাজে আসছে না। মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী সাজেদুল হক জানায়, ওপারের অনেক শিক্ষার্থী তাদের স্কুলে পড়াশোনা করে। তারা এই ব্রিজে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্রিজ এখন খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নতুন করে কাজ শেষ করে সেতু দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের দাবি জানায় এলাকাবাসী। ব্রিজ নির্মাণে এলজিডি কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের প্রশ্ন ১০ কোটি টাকার সেতু যদি ৩ বছরের পর যদি অব্যবহৃতই পড়ে থাকে, তাহলে এমন উন্নয়ন প্রকল্পের দায় নেবে কে? নেত্রকোনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডি এর একটি অপরিকল্পিত সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত সেতুতে অপচয় হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা এ কারণে ব্রিজে চলাচলে এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এই অপরিকল্পিত কাঠামো পার হতে গিয়ে সাধারণ পথচারী ও যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পরিকল্পিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। উল্টো যাতায়াত ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়েছে। ব্রিজের হযবরল অবস্থার বিষয়ে নেত্রকোনা এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ অয়াহিদুজ্জামান বলেন, সদর এলজিডি প্রকৌশলীকে বলে দচ্ছি দ্রুত গতিতে এপ্রোচ এর কাজ শেষ করার জন্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

নেত্রকোনায় ১০ কোটি টাকার সেতু এখন মরণ ফাঁদে পরিণত

আপডেট সময় ১০:২৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সদর উপজেলার শত গ্রামের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল গজারিয়া নদের ওপর একটি সেতু। সেই স্বপ্ন বাস্তবেও রূপ নিলেও এখন চলাচলে অনুপোযোগী। সরকারি টাকা প্রায় ৯,৮৭,৪৫,২০৭৯৪ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বহুল প্রত্যাশিত সেতু। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পার হতে না হতেই এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প এর আওতায় লক্ষীগঞ্জ জিসি নেত্রকোনা -কেন্দুয়া আর এস এইচ এর বায়রাউড়া মোড় ভায়া মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে ১২৫০মিঃ চেইনেজ গজারিয়া নদীর উপর ৯৬.০০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার নির্মাণ কাজ ৮ ফেব্রুয়ারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শেখ হেমায়েত আলী (জেবি) এর মাধ্যমে ২০২১-২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়। ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোনা সদর উপজেলার গজারিয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালে শেষ হয়। কিন্তু ব্রিজের কাজ শেষ না হতেই সেতু দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ ব্রিজ জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। ফলে প্রতিদিন নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মোঃ জালাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বয়স হয়ে গেছে, কি বলবো ৭-৫ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করলে এমনতো হবেই। একটু অসাবধান হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। এত বড় সেতু বানিয়ে যদি মানুষ ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে লাভ কী? বায়রাউড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বলেন, সেতুর কাজ প্রায় তিন বছর আগেই শেষ হয়েছে কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সেতুটি এখনো কোনো কাজে আসছে না। মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থী সাজেদুল হক জানায়, ওপারের অনেক শিক্ষার্থী তাদের স্কুলে পড়াশোনা করে। তারা এই ব্রিজে চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্রিজ এখন খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নতুন করে কাজ শেষ করে সেতু দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের দাবি জানায় এলাকাবাসী। ব্রিজ নির্মাণে এলজিডি কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের প্রশ্ন ১০ কোটি টাকার সেতু যদি ৩ বছরের পর যদি অব্যবহৃতই পড়ে থাকে, তাহলে এমন উন্নয়ন প্রকল্পের দায় নেবে কে? নেত্রকোনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডি এর একটি অপরিকল্পিত সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। অপরিকল্পিত সেতুতে অপচয় হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা এ কারণে ব্রিজে চলাচলে এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল এই অপরিকল্পিত কাঠামো পার হতে গিয়ে সাধারণ পথচারী ও যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পরিকল্পিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। উল্টো যাতায়াত ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়েছে। ব্রিজের হযবরল অবস্থার বিষয়ে নেত্রকোনা এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ অয়াহিদুজ্জামান বলেন, সদর এলজিডি প্রকৌশলীকে বলে দচ্ছি দ্রুত গতিতে এপ্রোচ এর কাজ শেষ করার জন্য।