ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী Logo আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষে কৃষক ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য Logo সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন Logo জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার Logo ইলিশ প্রজননের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মা-মেঘনা ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র ফাঁকা Logo সনদ-ক্রেস্ট বিতরণ ও মা সমাবেশে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ Logo জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী Logo কালিয়ায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত Logo প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক Logo মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি

সীতাকুন্ড পৌরসভার খালগুলো দখল দূষণে অস্তিত্ব হুমকির মুখে

সীতাকুন্ড পৌরসভার খালগুলো দিন দিন পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়ে দখল-দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত আবর্জনায় দিন দিন কমছে খালগুলোর গভীরত্ব ও প্রশস্থতা। বেদখল হয়ে যাচ্ছে খালের বিভিন্ন অংশ। খালগুলো যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। আবার খালগুলোর পাড়েই তৈরি হচ্ছে কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে দখলদারদের তালিকা। পৌরসভার খালগুলো পানি নিষ্কাশণে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও এখন দখল-দুষণ অব্যবস্থাপনায় সংকটে পড়ে দিন দিন পরিণত হচ্ছে সরু ড্রেনে। বর্ষামৌসুমে বুকে পানি থৈ-থৈ করলেও শুস্কমৌসুমে ময়লা-আর্বজনার বর্জ্যগুলো পঁচে-গলে খালের পানিতে উৎকট দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে। স্বরূপ হারিয়ে যেন নীরবেই বাঁচার আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে পানি নিষ্কাশণে প্রাণের সঞ্চার জাগানো এ খালগুলো। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় খালগুলোর বর্জ্য ও মাটি অপসারণে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। সীতাকুন্ড পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড (শেখনগর) থেকে পিয়ার আহমেদ পেয়ারু বলেন, বর্ষামৌসুমে অতিবৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষায় এলাকার খালগুলোর দু‘ধারে আগাছা পরিস্কারসহ তলদেশে ভরাট হওয়া মাটি অপসারণ অনেকটা জরুরী হয়ে পড়েছে। আমার এলাকার খালগুলো পানি নিষ্কাশণে সক্ষমতা হারানোয় বর্ষাকালে রাস্তা-ঘাট ও বসতবাড়ি বার বার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাতে বাসা বাড়িতে পানি ওঠে বর্ষাকালে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বাসা বাড়ীর মালিক ও চাষীরা। একই এলাকার দলিল লেখক এনামুল হক বলেন, এক সময় দু‘পাড়ের চাষীরা শুস্কমৌসুমে কৃষিকাজে খালগুলোর পানি ব্যবহার করে আসলেও সবকিছুই এখন সোনালী অতীত। খালগুলোতে বাসা-বাড়িসহ পৌরসদরস্থ বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেলা বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দূর্গদ্ধ জনসাধারণের গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে হচ্ছে। সরেজমিনে দক্ষিণ বাজারের গনচৌশাগার সংলগ্ন খালে দেখা গেছে গৃহস্থালী বর্জ্য, ব্যবহৃত মাক্স, ইনজেকশন, সিরিজ, পঁচা পেয়াজ, ছেঁড়া কাপড়-ছোপড়, পলিথিন ও প্লাষ্টিক বর্জ্যে এ খাল যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় ছাড়াও মশার প্রজনন আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মশার উৎপাত ও কামড়ে যদি ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী বলেন, খাল-নালা ডাস্টবিন নয় বরং পানি চলাচলের পথ। দূর্ভাগ্যজনক যে, পৌরবাসীর একটি অংশ নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে অসচেতন ভাবে খালে ময়লা-আর্বজনা ফেলছে। তাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খালের দু‘পাড় সংলগ্ন বসবাসরত পরিবারগুলো। হারিয়ে যাচ্ছে খালের গভীরত্ব ও পানি নিষ্কাশণের সক্ষমতা। ফলে বর্ষামৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ বার বার প্লাবিত হচ্ছে দু‘পাড় সংলগ্ন বসতবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ইউএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, খালগুলোর বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় বর্ষামৌসুমে পানি নিষ্কাশণে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এই খালগুলোর তলদেশে ভরাটকৃত মাটি অপসারনের কাজ প্রক্রিয়াধিন আছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানে নিত্যপণ্য সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

সীতাকুন্ড পৌরসভার খালগুলো দখল দূষণে অস্তিত্ব হুমকির মুখে

আপডেট সময় ০১:৪২:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

সীতাকুন্ড পৌরসভার খালগুলো দিন দিন পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়ে দখল-দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত আবর্জনায় দিন দিন কমছে খালগুলোর গভীরত্ব ও প্রশস্থতা। বেদখল হয়ে যাচ্ছে খালের বিভিন্ন অংশ। খালগুলো যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। আবার খালগুলোর পাড়েই তৈরি হচ্ছে কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে দখলদারদের তালিকা। পৌরসভার খালগুলো পানি নিষ্কাশণে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও এখন দখল-দুষণ অব্যবস্থাপনায় সংকটে পড়ে দিন দিন পরিণত হচ্ছে সরু ড্রেনে। বর্ষামৌসুমে বুকে পানি থৈ-থৈ করলেও শুস্কমৌসুমে ময়লা-আর্বজনার বর্জ্যগুলো পঁচে-গলে খালের পানিতে উৎকট দূর্গন্ধ সৃষ্টি করে। স্বরূপ হারিয়ে যেন নীরবেই বাঁচার আকুতি জানিয়ে যাচ্ছে পানি নিষ্কাশণে প্রাণের সঞ্চার জাগানো এ খালগুলো। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় খালগুলোর বর্জ্য ও মাটি অপসারণে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। সীতাকুন্ড পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড (শেখনগর) থেকে পিয়ার আহমেদ পেয়ারু বলেন, বর্ষামৌসুমে অতিবৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষায় এলাকার খালগুলোর দু‘ধারে আগাছা পরিস্কারসহ তলদেশে ভরাট হওয়া মাটি অপসারণ অনেকটা জরুরী হয়ে পড়েছে। আমার এলাকার খালগুলো পানি নিষ্কাশণে সক্ষমতা হারানোয় বর্ষাকালে রাস্তা-ঘাট ও বসতবাড়ি বার বার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাতে বাসা বাড়িতে পানি ওঠে বর্ষাকালে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বাসা বাড়ীর মালিক ও চাষীরা। একই এলাকার দলিল লেখক এনামুল হক বলেন, এক সময় দু‘পাড়ের চাষীরা শুস্কমৌসুমে কৃষিকাজে খালগুলোর পানি ব্যবহার করে আসলেও সবকিছুই এখন সোনালী অতীত। খালগুলোতে বাসা-বাড়িসহ পৌরসদরস্থ বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেলা বর্জ্য থেকে সৃষ্ট দূর্গদ্ধ জনসাধারণের গুরুতর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি হতে হচ্ছে। সরেজমিনে দক্ষিণ বাজারের গনচৌশাগার সংলগ্ন খালে দেখা গেছে গৃহস্থালী বর্জ্য, ব্যবহৃত মাক্স, ইনজেকশন, সিরিজ, পঁচা পেয়াজ, ছেঁড়া কাপড়-ছোপড়, পলিথিন ও প্লাষ্টিক বর্জ্যে এ খাল যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় ছাড়াও মশার প্রজনন আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মশার উৎপাত ও কামড়ে যদি ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী বলেন, খাল-নালা ডাস্টবিন নয় বরং পানি চলাচলের পথ। দূর্ভাগ্যজনক যে, পৌরবাসীর একটি অংশ নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে অসচেতন ভাবে খালে ময়লা-আর্বজনা ফেলছে। তাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খালের দু‘পাড় সংলগ্ন বসবাসরত পরিবারগুলো। হারিয়ে যাচ্ছে খালের গভীরত্ব ও পানি নিষ্কাশণের সক্ষমতা। ফলে বর্ষামৌসুমে জলাবদ্ধতাসহ বার বার প্লাবিত হচ্ছে দু‘পাড় সংলগ্ন বসতবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। ইউএনও অফিস সূত্রে জানা যায়, খালগুলোর বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় বর্ষামৌসুমে পানি নিষ্কাশণে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এই খালগুলোর তলদেশে ভরাটকৃত মাটি অপসারনের কাজ প্রক্রিয়াধিন আছে।