ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর Logo গজারিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে এসএসসির বৃত্তির ফলাফলে হা-মীমের শিক্ষার্থীদের চমক Logo ক্যান্সার সচেতনতামূলক সংলাপ ও পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo উপকুলের লবনাক্ত আবহাওয়া মাটিতে সাবেক ব্যাংকার জিয়াউদ্দিনের মাল্টা চাষে সফলতা Logo টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে নতুন এডহক কমিটি, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ Logo শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা Logo লোহাগাড়ায় ১০০ মিটারের মধ্যে ৯টি অবৈধ করাতকল গিলে খাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল Logo চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার Logo জামালপুরে ৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরীর মহা তাবু জলসা ও সমাপনী

সাপাহার সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ, দৃঢ় অবস্থানে বিজিবি

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশের (পুশইন) চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর শুক্রবার রাত ২ টার দিকে ওই ব্যক্তিদের আবারো ভারতীয় ভূখ-ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার সকালে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তবে ধোয়াশা তৈরি হয়েছে আদৌ তারা ফিরে গেছে কিনা। তবে এ ঘটনার পর সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার দীঘির হাটে ওই ১৭ জনকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। স্থানীয়দের কাছে সন্দেহ হলে বিজিবি ক্যাম্পে জানানো হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার এলাকা চকচকি বিলের মাঠে শূন্যরেখা (জিরো লাইন) অবস্থান নেয়। এর আগে ভারতের পান্নাছড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে ছিলেন ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৫ জন শিশু। সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করা হলে পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে ওই ব্যক্তিরা শূন্যরেখা (জিরো লাইন) চকচকি বিলের মাঠে অবস্থান করছিলেন। তারা সবাই খুলনা, সাতক্ষিরা ও যশোর জেলার বাসীন্দা বলে জানা গেছে। তবে তারা বাংলাদেশি হিসেবে তার প্রমাণস্বরুপ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা কেউ ৫বছর, কেউবা ৭ বছর ও ১০-১৫ বছর ভারতে অবস্থান করছিলো বলে জানা যায়। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট ও পতœীতলার উপজেলার কিছু অংশ। এ জেলার সাথে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটার। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অধীনে মোট ২২টির মতো বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট বা সীমান্ত ফাঁড়ি) রয়েছে। যা ১৬-বিজিবি নওগাঁ ও ১৪-বিজিবি পতœীতলা দ্বারা পরিচালিত হয়। কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাবু, মামুন রশিদ ও সোহেল রানা সহ কয়েকজন বলেন, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যে কোন ভাবে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃরে দীঘির হাট নামক এলাকায় গিয়েছিল। স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ হলে বিজিবি ক্যাম্পে সংবাদ দিলে তাদের ধরে কলমুডাঙ্গা সীমান্তের চকচকি বিলের মাঠে শূন্যরেখায় নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘসময় বিজিবি-বিএসএফ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার পর প্রায় দেয় ঘন্টা ভারতের সীমানার আলোকসজ্জা বন্ধ ছিলো। এতো সময় ধরে কখনো তাদের লাইট বন্ধ থাকে না। সর্বোচ্চ ২মিনি লাইট বন্ধ থাকে। তাদের সীমানা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আলোকিত হয়। দীর্ঘ সময় লাইট বন্ধ থাকার সুযোগে হয়ত তাদের আবারো ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের দাবী- দিনের আলোয় তারা সীমানা পরিয়ে বাংলাদেশে আসছে, কিন্তু রাতে তারা কোথায় গেলো। আদৌ কি তারা ভারতে ফিরে গেছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিজিবির টহল বাড়ানো সহ নজরদারি আরো বাড়ানো হোক। ভারত থেকে কেউ যেন অবৈধভাবে আসতে না পারে। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ওই ১৭ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলো। রাত ১২ টার পর ভারতের সীমান্তের আলোকসজ্জা (লাইট) দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিলো। পরে তারা পুশইনের চেষ্টা থেকে সরে এসে ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন- সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীদের সচেতন করা হয়েছে এবং আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথপুরে বাঁশের সাঁকোর বদলে ব্রিজ নির্মাণের দাবি, কয়ছর আহমদ এমপির সহযোগিতা কামনা এলাকাবাসীর

সাপাহার সীমান্তে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ, দৃঢ় অবস্থানে বিজিবি

আপডেট সময় ০৭:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে প্রবেশের (পুশইন) চেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর শুক্রবার রাত ২ টার দিকে ওই ব্যক্তিদের আবারো ভারতীয় ভূখ-ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার সকালে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তবে ধোয়াশা তৈরি হয়েছে আদৌ তারা ফিরে গেছে কিনা। তবে এ ঘটনার পর সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থান স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার দীঘির হাটে ওই ১৭ জনকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। স্থানীয়দের কাছে সন্দেহ হলে বিজিবি ক্যাম্পে জানানো হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে উপজেলার কলমুডাঙ্গা সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার এলাকা চকচকি বিলের মাঠে শূন্যরেখা (জিরো লাইন) অবস্থান নেয়। এর আগে ভারতের পান্নাছড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে ছিলেন ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৫ জন শিশু। সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করা হলে পুশইনের চেষ্টা সফল হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে ওই ব্যক্তিরা শূন্যরেখা (জিরো লাইন) চকচকি বিলের মাঠে অবস্থান করছিলেন। তারা সবাই খুলনা, সাতক্ষিরা ও যশোর জেলার বাসীন্দা বলে জানা গেছে। তবে তারা বাংলাদেশি হিসেবে তার প্রমাণস্বরুপ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা কেউ ৫বছর, কেউবা ৭ বছর ও ১০-১৫ বছর ভারতে অবস্থান করছিলো বলে জানা যায়। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট ও পতœীতলার উপজেলার কিছু অংশ। এ জেলার সাথে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটার। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অধীনে মোট ২২টির মতো বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট বা সীমান্ত ফাঁড়ি) রয়েছে। যা ১৬-বিজিবি নওগাঁ ও ১৪-বিজিবি পতœীতলা দ্বারা পরিচালিত হয়। কলমুডাঙ্গা গ্রামের বাবু, মামুন রশিদ ও সোহেল রানা সহ কয়েকজন বলেন, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে যে কোন ভাবে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃরে দীঘির হাট নামক এলাকায় গিয়েছিল। স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ হলে বিজিবি ক্যাম্পে সংবাদ দিলে তাদের ধরে কলমুডাঙ্গা সীমান্তের চকচকি বিলের মাঠে শূন্যরেখায় নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘসময় বিজিবি-বিএসএফ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার পর প্রায় দেয় ঘন্টা ভারতের সীমানার আলোকসজ্জা বন্ধ ছিলো। এতো সময় ধরে কখনো তাদের লাইট বন্ধ থাকে না। সর্বোচ্চ ২মিনি লাইট বন্ধ থাকে। তাদের সীমানা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আলোকিত হয়। দীর্ঘ সময় লাইট বন্ধ থাকার সুযোগে হয়ত তাদের আবারো ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের দাবী- দিনের আলোয় তারা সীমানা পরিয়ে বাংলাদেশে আসছে, কিন্তু রাতে তারা কোথায় গেলো। আদৌ কি তারা ভারতে ফিরে গেছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিজিবির টহল বাড়ানো সহ নজরদারি আরো বাড়ানো হোক। ভারত থেকে কেউ যেন অবৈধভাবে আসতে না পারে। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ওই ১৭ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলো। রাত ১২ টার পর ভারতের সীমান্তের আলোকসজ্জা (লাইট) দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিলো। পরে তারা পুশইনের চেষ্টা থেকে সরে এসে ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন- সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীদের সচেতন করা হয়েছে এবং আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।