ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

গাড়ির এসিতে ঠান্ডা কম হচ্ছে, যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

  • আইটি
  • আপডেট সময় ০৮:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 69

গরমের দিনে গাড়িতে ওঠার পর প্রথমেই এসি চালু করাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছুদিন পর যদি দেখা যায় আগের মতো ঠান্ডা হচ্ছে না, বাতাসের গতি কমে গিয়েছে কিংবা এসি চালু করলেই অদ্ভুত গন্ধ বেরোচ্ছে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছোটখাটো সমস্যা থেকেই পরে বড় খরচ হতে পারে।
গাড়ি পার্ক করার জায়গার দিকেও নজর দিন
সম্ভব হলে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি সরাসরি রোদে রাখবেন না। প্রচ- গরমে গাড়ির কেবিনের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে ইঞ্জিন চালুর পর এসি-কে ভেতরের গরম পরিবেশ ঠান্ডা করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ছায়ায় পার্ক করা বা উইন্ডশিল্ডে সানশেড ব্যবহার করা এই চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
এসি চালুর আগে গরম বাতাস বের করে দিন
রোদে রাখা গাড়িতে উঠে সঙ্গে সঙ্গে এসি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানোর বদলে প্রথমে কয়েক মুহূর্ত জানালা খুলে রাখুন। এতে কেবিনের জমে থাকা গরম বাতাস বেরিয়ে যাবে। তারপর জানলা বন্ধ করে এসি চালালে তুলনামূলক দ্রুত ঠান্ডা পরিবেশ পাওয়া যায়।
শুরুতেই ফ্যান ফুল স্পিডে নয়
গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যানের গতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে মাঝারি গতিতে এসি চালিয়ে কেবিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে দিন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান স্পিড বাড়ানো যেতে পারে। এতে আরামদায়কভাবে কুলিং পাওয়া যায়।
রিসার্কুলেশন মোডকে কাজে লাগান
গাড়ির ভিতর একবার ঠান্ডা হয়ে গেলে রিসার্কুলেশন মোড ব্যবহার করতে পারেন। এই মোডে বাইরের গরম বাতাসের বদলে কেবিনের বাতাসই ফের ঠান্ডা করে ব্যবহার করা হয়। ফলে এসি সিস্টেমকে বারবার অতিরিক্ত গরম বাতাস ঠান্ডা করতে হয় না।
কেবিন ফিল্টার অবহেলা করবেন না
এসি ঠিকমতো চললেও কেবিন ফিল্টার নোংরা হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ধুলাবালি জমে গেলে ব্লোয়ারের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। তাই গাড়ির ব্যবহার ও পরিবেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফিল্টার পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে বদলে ফেলা জরুরি।
রেফ্রিজারেন্ট কমে গেলে সতর্ক হন
এসি চালানোর পরও যদি দীর্ঘ সময় লাগে ঠান্ডা হতে, তাহলে রেফ্রিজারেন্টের মাত্রা পরীক্ষা করানো দরকার। শুধু গ্যাস ভরে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এমন নয়। কোথাও লিক থাকলে সেটি খুঁজে মেরামত করাও জরুরি।
কন্ডেন্সার পরিষ্কার রাখুন
গাড়ির সামনের অংশে থাকা কন্ডেন্সারের উপর ধুলা, কাদা বা অন্যান্য ময়লা জমলে তাপ বাইরে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা কমতে পারে। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় দক্ষ মেকানিক দিয়ে এটি পরীক্ষা ও পরিষ্কার করানো ভালো।
দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক শব্দকে উপেক্ষা নয়
এসি থেকে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ এলে ভেতরে আর্দ্রতা, ময়লা বা ছত্রাক জমার সম্ভাবনা থাকে। আবার এসি চালুর সময় অস্বাভাবিক শব্দ, কম্পন বা পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে নিজে পরীক্ষা না করে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে দেখানো উচিত।
শুধু গরমের মরশুমে নয়, বছরের অন্য সময়ও মাঝে মাঝে এসি চালানো যেতে পারে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল নির্দিষ্ট সময় অন্তর এসি সিস্টেম, ফিল্টার, রেফ্রিজারেন্ট এবং কন্ডেন্সার পরীক্ষা করানো। সামান্য যতœই এসির কর্মক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি বড়সড় মেরামতির খরচ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

গাড়ির এসিতে ঠান্ডা কম হচ্ছে, যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

আপডেট সময় ০৮:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গরমের দিনে গাড়িতে ওঠার পর প্রথমেই এসি চালু করাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছুদিন পর যদি দেখা যায় আগের মতো ঠান্ডা হচ্ছে না, বাতাসের গতি কমে গিয়েছে কিংবা এসি চালু করলেই অদ্ভুত গন্ধ বেরোচ্ছে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছোটখাটো সমস্যা থেকেই পরে বড় খরচ হতে পারে।
গাড়ি পার্ক করার জায়গার দিকেও নজর দিন
সম্ভব হলে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি সরাসরি রোদে রাখবেন না। প্রচ- গরমে গাড়ির কেবিনের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে ইঞ্জিন চালুর পর এসি-কে ভেতরের গরম পরিবেশ ঠান্ডা করতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ছায়ায় পার্ক করা বা উইন্ডশিল্ডে সানশেড ব্যবহার করা এই চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
এসি চালুর আগে গরম বাতাস বের করে দিন
রোদে রাখা গাড়িতে উঠে সঙ্গে সঙ্গে এসি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালানোর বদলে প্রথমে কয়েক মুহূর্ত জানালা খুলে রাখুন। এতে কেবিনের জমে থাকা গরম বাতাস বেরিয়ে যাবে। তারপর জানলা বন্ধ করে এসি চালালে তুলনামূলক দ্রুত ঠান্ডা পরিবেশ পাওয়া যায়।
শুরুতেই ফ্যান ফুল স্পিডে নয়
গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যানের গতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রথমে মাঝারি গতিতে এসি চালিয়ে কেবিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে দিন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান স্পিড বাড়ানো যেতে পারে। এতে আরামদায়কভাবে কুলিং পাওয়া যায়।
রিসার্কুলেশন মোডকে কাজে লাগান
গাড়ির ভিতর একবার ঠান্ডা হয়ে গেলে রিসার্কুলেশন মোড ব্যবহার করতে পারেন। এই মোডে বাইরের গরম বাতাসের বদলে কেবিনের বাতাসই ফের ঠান্ডা করে ব্যবহার করা হয়। ফলে এসি সিস্টেমকে বারবার অতিরিক্ত গরম বাতাস ঠান্ডা করতে হয় না।
কেবিন ফিল্টার অবহেলা করবেন না
এসি ঠিকমতো চললেও কেবিন ফিল্টার নোংরা হয়ে গেলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ধুলাবালি জমে গেলে ব্লোয়ারের কার্যক্ষমতাও কমে যেতে পারে। তাই গাড়ির ব্যবহার ও পরিবেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফিল্টার পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে বদলে ফেলা জরুরি।
রেফ্রিজারেন্ট কমে গেলে সতর্ক হন
এসি চালানোর পরও যদি দীর্ঘ সময় লাগে ঠান্ডা হতে, তাহলে রেফ্রিজারেন্টের মাত্রা পরীক্ষা করানো দরকার। শুধু গ্যাস ভরে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এমন নয়। কোথাও লিক থাকলে সেটি খুঁজে মেরামত করাও জরুরি।
কন্ডেন্সার পরিষ্কার রাখুন
গাড়ির সামনের অংশে থাকা কন্ডেন্সারের উপর ধুলা, কাদা বা অন্যান্য ময়লা জমলে তাপ বাইরে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা কমতে পারে। নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় দক্ষ মেকানিক দিয়ে এটি পরীক্ষা ও পরিষ্কার করানো ভালো।
দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক শব্দকে উপেক্ষা নয়
এসি থেকে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ এলে ভেতরে আর্দ্রতা, ময়লা বা ছত্রাক জমার সম্ভাবনা থাকে। আবার এসি চালুর সময় অস্বাভাবিক শব্দ, কম্পন বা পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে নিজে পরীক্ষা না করে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে দেখানো উচিত।
শুধু গরমের মরশুমে নয়, বছরের অন্য সময়ও মাঝে মাঝে এসি চালানো যেতে পারে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল নির্দিষ্ট সময় অন্তর এসি সিস্টেম, ফিল্টার, রেফ্রিজারেন্ট এবং কন্ডেন্সার পরীক্ষা করানো। সামান্য যতœই এসির কর্মক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি বড়সড় মেরামতির খরচ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।