ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির Logo বাংলাদেশে পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ। সেচ মৌসুমে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইতোমধ্যেই “আশার আলো” দেখাচ্ছে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, কমছে কৃষি খরচ—তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না এই প্রযুক্তি। রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষির মাঠে বইছে বদলের হাওয়া।
ঝামেলাহীন ও তুলনামূলক কম খরচে সূর্যের আলোই হয়ে উঠছে সেচের প্রধান শক্তি। সৌরচালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা। ডিজেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহজনিত ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন সৌর পাম্প ব্যবহারের ফলে খরচ কমেছে, সেচ কার্যক্রমও সহজ হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এ খাতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে প্রায় ৬ মাস সেচ কাজে ব্যবহৃত হলেও বাকি ৬ মাস এসব সৌরচালিত পাম্প প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ মৌসুমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক ও সরকার উভয়েই উপকৃত হবে। এতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, “নেট মিটারিং চালু করা গেলে এই সৌরচালিত সেচযন্ত্রগুলো শুধু কৃষিকাজেই নয়, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এসৌর বিদুত্য দিয়ে ৮০ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে বর্তমানে মোট ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এ উদ্যোগ কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং কার্যকর নীতিমালা। তাহলেই রংপুরের সৌরবিদ্যুতের এই সম্ভাবনা শুধু কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও রাখতে পারবে উল্লেখযোগ্য অবদান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ

আপডেট সময় ১০:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ। সেচ মৌসুমে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইতোমধ্যেই “আশার আলো” দেখাচ্ছে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, কমছে কৃষি খরচ—তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না এই প্রযুক্তি। রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষির মাঠে বইছে বদলের হাওয়া।
ঝামেলাহীন ও তুলনামূলক কম খরচে সূর্যের আলোই হয়ে উঠছে সেচের প্রধান শক্তি। সৌরচালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা। ডিজেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহজনিত ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন সৌর পাম্প ব্যবহারের ফলে খরচ কমেছে, সেচ কার্যক্রমও সহজ হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এ খাতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে প্রায় ৬ মাস সেচ কাজে ব্যবহৃত হলেও বাকি ৬ মাস এসব সৌরচালিত পাম্প প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ মৌসুমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক ও সরকার উভয়েই উপকৃত হবে। এতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, “নেট মিটারিং চালু করা গেলে এই সৌরচালিত সেচযন্ত্রগুলো শুধু কৃষিকাজেই নয়, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এসৌর বিদুত্য দিয়ে ৮০ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে বর্তমানে মোট ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এ উদ্যোগ কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং কার্যকর নীতিমালা। তাহলেই রংপুরের সৌরবিদ্যুতের এই সম্ভাবনা শুধু কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও রাখতে পারবে উল্লেখযোগ্য অবদান।