ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মালয়েশিয়া যুবদলের সহ-সভাপতি টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল হাকিম দেওয়ান, নিজ এলাকায় ফুলেল সংবর্ধনা Logo পাবনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতিমূলক সভা Logo নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে কুড়িগ্রামে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ Logo নিরাপদ সড়কের দাবিতে লালমনিরহাট বুড়িমারী সড়কের পাটগ্রামের ঘুন্টিবাজারে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন Logo মিরসরাইয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্রদল Logo কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ৮ বছরেও চালু হয়নি বারোবাজার হাটচাঁদনী Logo ইলিয়াস-নয়নের নেতৃত্বে লালমোহনে ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল Logo চান্দগাঁও থানা মধ্যম মোহরায় ফ্রী চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন লায়ন্সক্লাব অব তিলোত্তমা Logo কেরাণীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক সভা Logo সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন

বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উত্তরণের পরও পাশে থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসেবে দেখে না ইইউ। দুই পক্ষের মধ্যে আরও বড় পরিসরে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন আর প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে বিশ্ব এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের পক্ষে ইইউর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ দ্রুত এগোচ্ছে। একইসঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে দেশটি।
এফটিএ সফল করতে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মাইকেল মিলার বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ অর্থনীতি, রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উন্নত মানদ-, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। জনশাসন সংস্কারেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ। শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্মেলনটিতে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং ১,০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী সমবেত হয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক এবং তরুণ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সোমবার এ সম্মেলনের পর্দা নামবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া যুবদলের সহ-সভাপতি টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল হাকিম দেওয়ান, নিজ এলাকায় ফুলেল সংবর্ধনা

বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার

আপডেট সময় ০৮:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উত্তরণের পরও পাশে থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসেবে দেখে না ইইউ। দুই পক্ষের মধ্যে আরও বড় পরিসরে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন আর প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে বিশ্ব এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের পক্ষে ইইউর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশটির গুরুত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিতেও বাংলাদেশ দ্রুত এগোচ্ছে। একইসঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে দেশটি।
এফটিএ সফল করতে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মাইকেল মিলার বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ অর্থনীতি, রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে বের করা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উন্নত মানদ-, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। জনশাসন সংস্কারেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ। শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সম্মেলনটিতে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং ১,০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী সমবেত হয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক এবং তরুণ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সোমবার এ সম্মেলনের পর্দা নামবে।