অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুওঅ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই এর ভেতরের পর্দায় ফাটল ধরার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, ফোন ব্যবহারের ছয় ঘণ্টার মধ্যে কারো পর্দায় ফাটল ধরেছে, আবার কেউ সেটআপ শেষ করার আগেই এ সমস্যায় পড়েছেন।ব্যবহারকারীদের দাবি, ফোনটি ভাঁজ খুলতে গিয়ে মচমচ শব্দ হয়। এরপর পর্দার ভাঁজের মাঝখানে বা ডান পাশে ফাটল দেখা দেয়। মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান আইফিক্সিটের ধারণা, ফোনের কবজার কাছাকাছি কাঠামোগত সমর্থনব্যবস্থার অংশগুলো একটির ওপর আরেকটি এসে পড়ায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।সমস্যার কারণ খুঁজতে ফাটল ধরা ফোনের ছবি, ত্রিমাত্রিক নকশা ও সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণ করেছে আইফিক্সিট। তাদের মতে, কবজার কোনো অংশ আটকে যাওয়া, ঠিকমতো না নড়া কিংবা ভেতরের পাতলা স্তরগুলোর ঘর্ষণ ও ভুল বিন্যাসের কারণে পর্দায় ফাটল ধরতে পারে। এ বিষয়ে অ্যাপল এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যানকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আইফোন ডুওর অল্পসংখ্যক ইউনিটের ভেতরের পর্দায় সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি তারা জানে।ভাঁজযোগ্য ফোনের পর্দায় সমস্যা নতুন নয়ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যানের মতে, অ্যাপলের ধারণা, আক্রান্ত ফোনগুলো ব্যবহারের কারণে নয়, বরং উৎপাদনের সময় থেকেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল। তবে আইফোন ডুও বাজারে আসার আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উৎপাদনসংক্রান্ত আরও কিছু সমস্যার কথা উঠে এসেছিল। যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকদের কম ত্রুটিমুক্ত পণ্য পাওয়া, নকশা পরিবর্তন ও সরবরাহে বিলম্বের মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।ভাঁজযোগ্য ফোনের পর্দায় সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসার পর দুই দিনের মধ্যেই পর্যালোচকেরা পর্দায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখতে পান। তাদের কেউ কেউ পর্দার ওপরের সুরক্ষাস্তর খুলে ফেলেছিলেন। স্তরটি খোলার জন্য তৈরি নয়, তা তখন অনেকেরই জানা ছিল না। অন্যদিকে আইফোন ডুওর ন্যানো-টেক্সচার সুরক্ষাস্তর খুলে ফেলা বা বদলে ফেলা সম্ভব। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, এই স্তর ছাড়া ফোনটি ব্যবহার করা উচিত নয়।প্রথম প্রজন্মের গুগল পিক্সেল ফোল্ডেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গিয়েছিল। ফোন কেনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ভেতরের পর্দা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেন ব্যবহারকারীরা। কিছু ত্রুটিপূর্ণ ফোনের ভেতরে ময়লা বা ক্ষুদ্র কণা জমে থাকার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেয়।অ্যাপলের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, অন্য ভাঁজযোগ্য ফোনের তুলনায় নিজেদের পণ্যকে আলাদা বলে মনে করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ব্যবহারের মধ্যেই পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রথম প্রজন্মের ভাঁজযোগ্য ফোন তৈরিতে অ্যাপলকেও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে।আইফোন ডুওর কবজা নিয়ে কেন আত্মবিশ্বাসী অ্যাপলসমস্যাটি আরও বাড়বে, নাকি প্রথম দফার অল্প কিছু ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে অ্যাপল জানিয়েছিল, আইফোন ডুও তৈরি করা হয়েছে দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফোনটির শক্তি বাড়াতে গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি কবজার আবরণ এবং শক্তিবর্ধক অভ্যন্তরীণ কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। কবজাটি শতাধিক যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি, যা পর্দার মাঝের অংশে যথাযথ সমর্থন দেয়।তবু ফোনটির পর্দা ফাটার অভিযোগ উঠছে। অ্যাপল বিনা মূল্যে ফোন বদলে দেওয়ার সুযোগ দিলেও, অ্যাপলকেয়ার+ না থাকলে ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের ফোন নষ্ট হওয়া ব্যবহারকারীদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। এদিকে ফোনটির ভেতরের কাঠামো ও পর্দা ফাটার সম্ভাব্য কারণ দেখাতে ইন্টারঅ্যাকটিভ সিটি স্ক্যান প্রকাশ করেছে আইফিক্সিট।সূত্র: বিজিআর
সংবাদ শিরোনাম
বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল
-
আইটি - আপডেট সময় ০৮:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- 4
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























