গত কয়েক দিনের বিরামহীর মুষোলধারে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির নিচে তলিয়ে গেছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওর এলাকার কৃষিজমি।একদিকে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান ক্ষেত ক্ষতির মুখে দিশেহারা হয়ে গেছে প্রান্তিক কৃষক। আগাম বৃষ্টির আশংকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী অফিসার রেহানা মজুমদার মুক্তি গত ২৬ এপ্রিল আধাপাকা ধান হলেও আগাম কেটে ফেলার নির্দশনা প্রদান করেন। তবে শ্রমিক সংকট, ডিজেল সংকট এবং ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকায় কৃষকরা ধান কাটতে পারেনি। এই মৌসুম ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে নিকলী হাওরের কৃষক। লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ করে এক মৌসুমে কৃষি কাজ করতে গিয়ে এই ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে এবছর। কৃষকরা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত টাকায় শ্রমিক না পাওয়া এবং সরকারের পক্ষ থেকে ধান কাটার মেশিন সময় মত না পাওয়ায় আজকে পানির নিচে ধান তলিয়ে গেছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর নিকলী উপজেলার হাওরে ১৩৩৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। শুকনো মৌসুমে ধান কাটা শুরু করলেই কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নি¤œাঞ্চল গুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যার কারণে এই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষক। তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবি, বর্তমান হাওরে ১৯২৫ একর জমির ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৫৮% জমি থেকে কৃষক ধান কর্তন করেছে। কিন্তু কৃষকরা এখনো পর্যন্ত ৩০% ধান কর্তন করতে পারেনি বলেও দাবি করেন। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিকলী উপজেলার সিংপুরের, ডুবি, ঘোরাধিঘা, দামপাড়া, নিকলী সদর, ছাতিরচর, গুরই ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল গুলো পানিতে প্লাবিত হয়ে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটে কৃষকরা হাহাকার করছে। সরকারের নিকট দ্রুত কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান। জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার আবদুস সামাদ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এবছর হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ চাষাবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিতে প্রায় ১৯২৫ একর কৃষি জমিতে ধান ক্ষেত ক্ষতি হয়েছে। তবে ৫৮%ধান জমি থেকে কর্তন করেছে কৃষক। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এবং হাওরে বজ্রপাত হওয়ায় আপাতত ধান কাটা বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে হাওরের যে স্থান থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে ধান কাটা যায় সে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এ সংকট নিরসন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় কৃষককদের জন্য তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে ও ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়াসহ ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকরা ধান কর্তন করতে পারেনি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি জানানোর পর বাড়তি শ্রমিকের ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত ডিজেল বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। বৃষ্টি কমলেই দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে কৃষক বলে তিনি জানান।
সংবাদ শিরোনাম
নিকলীতে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে ধান ক্ষেত, শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক!
-
মাহমুদ আল আজাদ (নিকলী) কিশোরগঞ্জ - আপডেট সময় ০৯:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- 137
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























