ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানি জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগটি অস্বীকার করেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকেই তারা একটি ভালো সড়কের অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘদিন পর সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে তাদের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। বর্ষার আগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে আরও সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পর কাদাপানিতে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। খালপাড় এলাকার শাহজাহান সিরাজ ও নাজমা বেগম বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রিকশাচালকেরা অনেক সময় আসতে চান না। এলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। তাদের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করা হোক। স্থানীয় শিক্ষার্থী ইসরাফিল ইসলাম শান্ত জানায়, বৃষ্টি হলে সড়কে কাদাপানি জমে যায়। এতে স্কুলে যেতে কষ্ট হয় এবং বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে স্থানীয় হকার অর্জুন ঘোষ বলেন, ভালো সড়ক হলে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের আয়-রোজগারে সুবিধা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান-মোস্তফা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিল। তবে কাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। গজরাপাড়ার আমান উল্লাহ ও আবু আজম বলেন, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন বলেন, ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬১৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০ ফুট। সড়কটি পাকা করতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মদিনা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বর্ষার কারণে কিছুদিন কাজ করার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি চলছে। নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করেও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে এবং এখন সাব-বেইজের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা। নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, মানসম্মত সামগ্রী দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৩:৫০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত সড়কের নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানি জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ কয়েক হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগটি অস্বীকার করেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকেই তারা একটি ভালো সড়কের অপেক্ষায় ছিলেন। দীর্ঘদিন পর সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে তাদের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। বর্ষার আগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে আরও সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পর কাদাপানিতে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। খালপাড় এলাকার শাহজাহান সিরাজ ও নাজমা বেগম বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রিকশাচালকেরা অনেক সময় আসতে চান না। এলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। তাদের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করা হোক। স্থানীয় শিক্ষার্থী ইসরাফিল ইসলাম শান্ত জানায়, বৃষ্টি হলে সড়কে কাদাপানি জমে যায়। এতে স্কুলে যেতে কষ্ট হয় এবং বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে স্থানীয় হকার অর্জুন ঘোষ বলেন, ভালো সড়ক হলে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের আয়-রোজগারে সুবিধা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান-মোস্তফা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী খুশি হয়েছিল। তবে কাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। গজরাপাড়ার আমান উল্লাহ ও আবু আজম বলেন, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন বলেন, ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬১৫ মিটার এবং প্রস্থ ১০ ফুট। সড়কটি পাকা করতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মদিনা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বর্ষার কারণে কিছুদিন কাজ করার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি চলছে। নির্মাণকাজে নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করেও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে এবং এখন সাব-বেইজের কাজ চলছে। আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা। নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে তিনি বলেন, মানসম্মত সামগ্রী দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।