বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

চলনবিলে সজনে ডাঁটার বাম্পার ফলন

খবরপত্র অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০

 

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রীষ্মকালীন সবজি সজনে ডাঁটার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে বেশী উৎপাদন হযেছে। তাড়াশ উপজেলার সদর থেকে চলনবিলের রায়গঞ্জ,সলঙা,চাটমোহর গুরুদাসপুর ,সিংড়া,উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, এলাকার গ্রামে,গঞ্জে, সবখানে গাছেগাছে প্রচুর পরিমাণে সজনে ডাঁটা ধরেছে। বাজারে আমদানিও বেড়েছে দ্বিগুন। স্থানীয় হাট বাজারে সজনে ডাঁটার ব্যাপক চাহিদা রযেছে। মুখরোচক ও পুষ্টিগুনে ভরপুর সজনে ডাঁটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন উপজেলার যে কোন হাট বাজারে শত শত মন সজনে ডাঁটা আমদানি হচ্ছে। দাম গত বারের চেয়ে কিচু টা কম হলেও প্রতিমন সাজনে প্রাইকারী ভাবে বিক্রি হে চ্ছ ৮শ থেকে ৮৫০ টাকা। উপজেলার দেশীগ্রামের ইউনিয়নের ডাঃ ইসাহাক আলীর ৩টি গাছে ১৮ মন সাজনে ডাটার ফলন হয়েছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এ ছাড়া মাধাইনগর ইউনিয়নের মালশীন গ্রামের আঃ বারির তার ৪টি সাজনে গাছে ২০ মন সজনে ডাটা বিক্রি করে অনেক টাকার লাভবান হয়েছেন। নিজের চাহিদা মিটিয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে দিয়েছেন। অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাঁটা পুষ্টিগুণ ও স্বাদে বেশি হওয়ায় যে কোন বয়সের মানুষ খেতে ভালবাসে। চিকিৎসাবিদদের মতে সজনে সবজিতে ক্যালসিয়াম,খনিজ লবন,আয়রন সহ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় ,খাদ্য প্রনালী প্রচুর পরিমাণে থাকে। এ ছাড়া ভিটামিন এ ,বি, সি ,সমৃদ্দ সজনে ডাঁটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীরের পুষ্টির জন্য গর্ভবর্তী ও প্রসুতি মায়েদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে বলে সজনে ডাঁটা ঔষুধী সবজি হিসেবে ও ব্যাপক সমাদ্দৃত। এ ছাড়া সজনে গাছের ছাল এবং পাতা রক্তামাশয় , পেটের পিরাও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা রাখে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সজনে ডাঁটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এর মধ্যে এক প্রজাতি বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়াযায়। স্থানীয়ভাবে এর নাম বলা হয় রাইখঞ্জন । অন্য প্রজাতির সজনে বছরে গ্রীস্ম মওসুমে একবারই পাওয়া যায়। সজনে চাষের জন্য বিশেষ কোন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়না এর জন্য আলাদা কোন জমির ও প্রয়োজন হয়না। তাড়াশর কম্পিউটার প্রশিক্ষক জমির উদ্দিন বলেন সজনে বেশী খেলে বসন্তরোগ হয়না । শিক্ষাবিদ ইদ্রিস আলী ও আয়নুল হক বলেন দেহের কোন অংগ ফুলে গেলে অথবা টিউমারে, বাত ব্যাথায় সজনে গাছের ছাল বেটে খেলে উপশম হয়। আধা গ্লাস পানির সাথে ৯-১০ ফোটা সাজনে পাতার রস মিশিয়ে খেলে সাথে সাথে হেচকি ওঠা সেরে যায়। যে কোন পতিত জমি, পুকুর পার রাস্তার বা বাধের ধার, বাড়ির আঙ্গিনায় এমনকি শহরে যে কোন ফাকা শুস্ক জায়গায়ন সজনে গাছ লাগানো যায়। এর কোন বীজ বা চারা ও প্রয়োজন হয় না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে রাখলেই সজনে গাছ জন্মায়। এর জন্য কোন সার বা পরিচর্যার প্রয়োজন হয়না। অবহেলা অযত্নে প্রাকৃতিক ভাবেই বেড়ে উঠে সজনে গাছ। বড়ও মাজারি ধারনের এক একটি সজনে গাছে ৬ থেকে ৮ মন পর্যন্ত সজনে পাওয়া যায়। পতিত জমি , রাস্তার ধার , বাড়ীর আঙ্গিনা বা শহরে বাসা বাড়ির আনাচে,কানাচে ,সজনের ডার লাগিয়ে অনেকেই বাড়ির চাহিদা মিটিয়ে ও বাজারে বিক্রিকরে বাড়তি আয় করতে পারছেন। বিনা খরচে অধিক আয় পাওয়ায় অনেকেই বানিজ্যিক ভাবেও সজনে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ কওে তাড়াশ উপজেলার মাটি, পানি ও আবহাওয়া সজনে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এই উপজেলায় সবত্রই প্রচুর পরিমাণে সজনে উৎপাদন হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার লুতফুন নাহার লুনা বলেন, তাড়াশ উপজেলা সর্বত্র সজনে চাষে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া রয়েছে। এখানে বানিজ্যিক ভাবেসজনে চাষ করে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ই-খ/খবরপত্র




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com