উপকূলীয় জনপদ কয়রার লোকালয়ে ফের দেখা মিলল সুন্দরবন থেকে পথ ভুলে লোকালয়ে চলে আসা ১০ ফুট দীর্ঘ এক বিশালাকার অজগার।যাকে ঘিরে হুলস্থুল পড়ে যায় উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে। তবে কোনো ক্ষতি নয়, বরং পরম যতেœ সাপটিকে উদ্ধার করে পুনরায় তার আপন নিবাস সুন্দরবনে ফিরিয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর। প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের ঝোপঝাড়ে হঠাৎই নজরে আসে অস্বাভাবিক এক নাড়াচাড়া। কৌতূহলী স্থানীয়রা কাছে গিয়েই পিলে চমকানো দৃশ্য দেখেনসেখানে কু-লী পাকিয়ে শুয়ে আছে প্রকা- এক অজগার। মুহূর্তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে মঠবাড়ি গ্রামে। আতঙ্ক আর কৌতুহল নিয়ে ভিড় জমান শত শত মানুষ। বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে সাপটিকে আঘাত না করে তাৎক্ষণিক খবর দেন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনে। খবর পেয়ে বনরক্ষীদের একটি চৌকস দল, ভিটিআরটি (ঠঞজঞ) ও সিপিজি (ঈচএ) সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের নিপুণ দক্ষতায় কোনো প্রকার চোট ছাড়াই উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০ ফুট লম্বা এই সাপটিকে। উদ্ধারের পর সাপটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর বিকেলে এক আবেগঘন পরিবেশে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সুন্দরবনের গহীনে ‘বুষ্টুমখালী’ খালের পাড়ে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়। খাঁচা থেকে বেরিয়ে অবলীলায় বনের লতাগুল্মের আড়ালে হারিয়ে যায় সাপটিফিরে পায় তার আপন ঠিকানা। কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন জানান-খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা সাপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। উপকূলীয় মানুষের মাঝে বন্যপ্রাণী রক্ষার সচেতনতা বেড়েছে বলেই আজ সাপটি অক্ষত অবস্থায় বনে ফিরতে পেরেছে। সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষায় এটি একটি ইতিবাচক দিক। সুন্দরবনের সীমান্ত ঘেষা এই জনপদে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা নতুন নয়, তবে স্থানীয়দের এই দায়িত্বশীল আচরণ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।