বিগত সরকারের আমলে বদলী হয়ে আসা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ এর বিরুদ্ধে ডিলার ভিত্তিক নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দে বৈষম্যমুলক আচরনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নন ইউরিয়া সার ডিলার মো: ফেরদাউস শেখ বলেন ঐ কর্মকর্তা পতিত সরকারের আমলে যেমন আমার সাথে সার বন্ঠনে বৈষম্যমুলক আচরন করেছেন এখনও তা অব্যহত রেখেছেন। কারন হিসেবে তিনি বলেন চলতি জানুয়ারী মাসে একজন বিসিআইসি সার ডিলারকে ৯৯ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেন ঐ কর্মকর্তা। পক্ষান্তরে আমাকে বরাদ্দ দেওয়া হয় মাত্র ২০ মেট্রিকটন। এই অসম সার বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। চরম বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কোন সুফল পাননি। ফেরদাউস শেখ আরো বলেন, যেখানে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ এ পরিস্কার উল্লেখ রয়েছে, বিএডিসি সার ডিলারদের জন্য নন-ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বরাদ্দের কোনো নির্দিষ্ট একক সংখ্যা নেই, কারন এটি জেলা, উপজেলা, মাস, চাহিদা এবং ফসলের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; তবে, বরাদ্দ কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী মাসিক চাহিদার ভিত্তিতে ডিলারদের মধ্যে সমহারে বরাদ্দ দেওয়া হয়, যেখানে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না, বরং সবাই নীতিমালা অনুযায়ী সার পায়। এই নীতিমালা উপেক্ষা করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত অ মারুফ পতিত সরকার আমল থেকে এপর্যন্ত বৈষম্য মূলক আচরন করে আসছেন। মঙ্গলবার (৭ডিসেম্বর) সকালে ফেরদাউস শেখ বলেন, উপজেলা সদর বাজারে আমার মেসার্স শেখ ব্রাদার্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি উপজেলার একমাত্র বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে অত্র উপজেলার কৃষকদের সাথে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। এ উপজেলায় কৃষি, মৎস্য ও ফসল উৎপাদনে ক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাসিক বরাদ্দ বন্টনের সময় পক্ষপাতিত্ব করার কারণে আমি কৃষকদের সঠিক ভাবে সার দিতে পারছি না। শুধু তাই নয় তিনি আমাকে ইতিপুর্বে নোটীশ দিয়ে বলেছেন আপনাকে আগামীকে নন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেয়া হবে না। কেন দেয়া হবেনা তার কোন ব্যাখ্য তিনি দেননি। আমাদের পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা গুলোতে বিএডিসি নন ইউরিয়া সার বিএডিসি ডিলার ও বিসিআইসি ডিলাদের মধ্যে সমান হারে বন্টন করা হয়। কিন্তু একমাত্র আমাদের উপজেলায় একজন বিসিআইসি সার ডিলারকে ৯৯ মেট্রিকটন দেওয়া হলেও আমাকে দেওয়া হয় মাত্র ২০ মেট্রিকটন এর ্রহস্য সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি আরো বলেন ইতিপুর্বে এই কর্মকর্তা সার ডিলার নিয়োগ বিষয়ে উপজেলা মনিটরিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে জেলায় একটি চুড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করেন। সেখানে তার মনোনিত ব্যক্তির পক্ষে কাজ করেন। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে পূনরায় তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এখানেও গনেশ উল্টে জায়কি না’ তা নিয়েও আমি সন্ধিহান। চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মোঃ সিফাত-আল-মারুফ বলেন, ‘এ উপজেলায় ৭ জন বিসিআইসি ও ১ জন বিএডিসি সার ডিলার রয়েছেন। বিএডিসি সার ডিলারকে বরাদ্দ বেশী দিলে কিছু বিসিআইসি সার ডিলার ক্ষিপ্ত হন। অন্য উপজেলায় কিভাবে সমান হারে বন্টন করেন সেটা আমার জানা নেই।