দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও ডাকাত দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কোস্ট গার্ড।বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাত দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানাবিধ অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী ২ জন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করলে কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ডাকাত চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার(৪৩), মোঃ সালাম বক্স(২৪), মেহেদী হাসান(১৯), আলম মাতব্বর(৩৮), অয়ন কুন্ডু(৩০), মোঃ ইফাজ ফকির(২৫), জয়নবী বিবি(৫৫) এবং মোছা দৃধা(৫৫)কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার কোস্ট গার্ড খুলনার তেরোখাদা থানাধীন ধানখালী সংলগ্ন এলাকা হতে বাহিনীটির প্রধান মাসুম মৃধা(২৩)কে আটক করে। পরবর্তীতে ডাকাত মাসুম মৃধার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩টি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ২ টি দেশীয় কুড়াল, ১টি দা, ১টি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের ৫টি মোবাইল ফোন এবং ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জনবল বৃদ্ধি, কৌশলগত অবস্থানে নতুন স্টেশন স্থাপন, দ্রুতগামী স্পিডবোট সংযোজন এবং আধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির বৃদ্ধি করা অতীব প্রয়োজন। পাশাপাশি বন বিভাগের সমন্বিত অংশগ্রহণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে মর্মে প্রতিয়মান। যা বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক সুরক্ষা তথা জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরো ফলপ্রসূ হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে।