ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কাজী নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা : রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ছবি: বাসস

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে কোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, যে কোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন তিনি। নজরুল যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রধান অনুপ্রেরণাও।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান, কাজী নজরুলই ছিল মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কেউ ষড়যন্ত্র করলে কাজী নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের শক্তির একটি উৎস। আমি এবং আমার দল আজকে নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
রিজভী বলেন, কাজী নজরুলের মত মহীরুহ প্রতিভা সম্পর্কে যে চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, দেশে সেটি আবার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তাঁর লেখনি, তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর বাণী বুকে নিয়ে আমরা পথ চলি। নজরুল আমাদেরকে নির্ভয় করে, সামনে এগিয়ে যেতে নির্ভীক করে।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সমাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ।
উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন চিরপ্রেমেরও কবি।
ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দ্রোহ ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে সকালে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী, পরিবারের সদস্য এবং কবির ভক্ত-অনুরাগীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত মঞ্চে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। সমাজের বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়। সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও আমরা নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকেই পাই। তিনি বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য উপাচার্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়া’য় কোরানখানি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনেও তাঁর চেতনা প্রেরণা জুগিয়েছে।
তবে জাতীয় কবিকে ঘিরে পরিবারের বেশ কিছু দাবি এখনো পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। জাতীয় জাদুঘরে নজরুল কর্নার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুল কর্নার স্থাপনের দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কাজী নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা : রিজভী

আপডেট সময় ০১:০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শক্তির উৎস ও অনুপ্রেরণা। জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে কোনো আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি জীবনভর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, যে কোনো অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন তিনি। নজরুল যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রধান অনুপ্রেরণাও।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান, কাজী নজরুলই ছিল মূল অনুপ্রেরণা। আজও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কেউ ষড়যন্ত্র করলে কাজী নজরুলের বাণী রুখে দাঁড়াতে শেখায়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আমাদের শক্তির একটি উৎস। আমি এবং আমার দল আজকে নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
রিজভী বলেন, কাজী নজরুলের মত মহীরুহ প্রতিভা সম্পর্কে যে চর্চা ও অনুশীলন প্রয়োজন, দেশে সেটি আবার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রেরণা। তাঁর লেখনি, তাঁর সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর বাণী বুকে নিয়ে আমরা পথ চলি। নজরুল আমাদেরকে নির্ভয় করে, সামনে এগিয়ে যেতে নির্ভীক করে।
কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সমাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীগণ।
উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯৯ সালের ২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর। নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কবি নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি ছিলেন চিরপ্রেমেরও কবি।
ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দ্রোহ ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে সকালে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী, পরিবারের সদস্য এবং কবির ভক্ত-অনুরাগীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত মঞ্চে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। সমাজের বৈষম্য, অনাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়। সাম্য, সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রাখার শিক্ষাও আমরা নজরুলের সাহিত্যকর্ম থেকেই পাই। তিনি বহুমাত্রিক গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য উপাচার্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া, জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বাদ ফজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়া’য় কোরানখানি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনেও তাঁর চেতনা প্রেরণা জুগিয়েছে।
তবে জাতীয় কবিকে ঘিরে পরিবারের বেশ কিছু দাবি এখনো পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। জাতীয় জাদুঘরে নজরুল কর্নার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরুল কর্নার স্থাপনের দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা।