ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

১০ শতকের পরীক্ষা এখন কামালের নতুন স্বপ্ন

শুরুটা ছিল পরীক্ষা হিসেবে। কৃষি অফিস থেকে দেওয়া উন্নত জাতের মরিচ নিয়ে মাত্র ১০ শতক জমিতে চাষ শুরু করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ কৃষক কামাল শেখ। কিন্তু জমিতে মরিচ ধরার পর আর সেটিকে শুধু ‘প্রদর্শনী’ মনে হয়নি তাঁর। বাজারে ভালো দাম পেয়ে সেই ছোট্ট জমিই এখন কামালের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর ব্লকের ছৈলাদি গ্রামের কৃষক কামাল শেখের সকাল এখন কাটে মরিচগাছের পরিচর্যায়। কখনো জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কখনো গাছের অবস্থা দেখছেন, আবার কখনো পাকা-কাঁচা মরিচ তুলে ঝুড়িতে ভরছেন। পরে সেসব মরিচ নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাজারে। একদিকে জমিতে উৎপাদন, অন্যদিকে বাজারে নগদ বিক্রি-দুই মিলিয়ে বেশ খুশি কামাল। কামাল শেখ দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবছরই বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেন। তবে এবার সুপার হট জাতের মরিচ চাষ তাঁর কাছে কিছুটা আলাদা অভিজ্ঞতা। কারণ, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প জমিতেও যে ভালো ফলন ও আয় করা সম্ভব, সেটিই তিনি নিজের জমিতে দেখতে পাচ্ছেন। বর্তমানে কাঁচা মরিচের বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় তাঁর উৎসাহ আরও বেড়েছে। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সুপার হট জাতের মরিচ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। কামাল শেখ বলেন, আমি কৃষির মানুষ। নতুন কিছু শিখে জমিতে কাজে লাগাতে পারলে সেটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সুপার হট মরিচ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি, আবার বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। এতে আমি উৎসাহিত হয়েছি। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে মরিচ চাষ করতে চাই। কামালের জমিটি এখন আশপাশের কৃষকদের কাছেও আগ্রহের জায়গা। কারণ, মাত্র ১০ শতক জমিতে উন্নত জাতের মরিচের এমন আবাদ দেখে অনেকেই জানতে চাইছেন-কীভাবে চাষ করেছেন, কীভাবে পরিচর্যা করেছেন এবং ফলন কেমন হচ্ছে। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রদর্শনী প্লটের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষকদের সামনে উন্নত জাত ও প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা। কামাল শেখের জমিতে সুপার হট মরিচের ভালো ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, যাতে তিনি রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কামাল শেখের জমিতে সুপার হট জাতের মরিচের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাতের মরিচ চাষের পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বাস্তব ধারণা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, কৃষকের জমিতে সফল প্রদর্শনী তৈরি করতে পারলে সেটিই অন্য কৃষকদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উদাহরণ হয়। কামাল শেখের জমিতে সুপার হট মরিচের ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। কৃষকদের চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে উন্নত জাতের মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়াতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাব। কামাল শেখের ১০ শতকের জমি তাই এখন আর শুধু একটি মরিচখেত নয়। এটি হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার একটি ছোট্ট মাঠ। সেখানে প্রতিটি মরিচের সঙ্গে যেন তৈরি হচ্ছে নতুন একটি হিসাব-কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উৎপাদনের সঙ্গে বাজার, আর বাজারের সঙ্গে কৃষকের বাড়তি আয়। এই হিসাবই আগামী বছর কামাল শেখকে আরও বড় জমিতে মরিচ চাষে টেনে নিচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

১০ শতকের পরীক্ষা এখন কামালের নতুন স্বপ্ন

আপডেট সময় ০৭:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

শুরুটা ছিল পরীক্ষা হিসেবে। কৃষি অফিস থেকে দেওয়া উন্নত জাতের মরিচ নিয়ে মাত্র ১০ শতক জমিতে চাষ শুরু করেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ কৃষক কামাল শেখ। কিন্তু জমিতে মরিচ ধরার পর আর সেটিকে শুধু ‘প্রদর্শনী’ মনে হয়নি তাঁর। বাজারে ভালো দাম পেয়ে সেই ছোট্ট জমিই এখন কামালের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর ব্লকের ছৈলাদি গ্রামের কৃষক কামাল শেখের সকাল এখন কাটে মরিচগাছের পরিচর্যায়। কখনো জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কখনো গাছের অবস্থা দেখছেন, আবার কখনো পাকা-কাঁচা মরিচ তুলে ঝুড়িতে ভরছেন। পরে সেসব মরিচ নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় বাজারে। একদিকে জমিতে উৎপাদন, অন্যদিকে বাজারে নগদ বিক্রি-দুই মিলিয়ে বেশ খুশি কামাল। কামাল শেখ দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবছরই বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেন। তবে এবার সুপার হট জাতের মরিচ চাষ তাঁর কাছে কিছুটা আলাদা অভিজ্ঞতা। কারণ, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি নতুন জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প জমিতেও যে ভালো ফলন ও আয় করা সম্ভব, সেটিই তিনি নিজের জমিতে দেখতে পাচ্ছেন। বর্তমানে কাঁচা মরিচের বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় তাঁর উৎসাহ আরও বেড়েছে। তাই আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সুপার হট জাতের মরিচ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। কামাল শেখ বলেন, আমি কৃষির মানুষ। নতুন কিছু শিখে জমিতে কাজে লাগাতে পারলে সেটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় সুপার হট মরিচ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি, আবার বাজারেও ভালো দাম পাচ্ছি। এতে আমি উৎসাহিত হয়েছি। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে মরিচ চাষ করতে চাই। কামালের জমিটি এখন আশপাশের কৃষকদের কাছেও আগ্রহের জায়গা। কারণ, মাত্র ১০ শতক জমিতে উন্নত জাতের মরিচের এমন আবাদ দেখে অনেকেই জানতে চাইছেন-কীভাবে চাষ করেছেন, কীভাবে পরিচর্যা করেছেন এবং ফলন কেমন হচ্ছে। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রদর্শনী প্লটের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষকদের সামনে উন্নত জাত ও প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা। কামাল শেখের জমিতে সুপার হট মরিচের ভালো ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, যাতে তিনি রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কামাল শেখের জমিতে সুপার হট জাতের মরিচের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাতের মরিচ চাষের পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বাস্তব ধারণা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, কৃষকের জমিতে সফল প্রদর্শনী তৈরি করতে পারলে সেটিই অন্য কৃষকদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উদাহরণ হয়। কামাল শেখের জমিতে সুপার হট মরিচের ভালো ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। কৃষকদের চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে উন্নত জাতের মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়াতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাব। কামাল শেখের ১০ শতকের জমি তাই এখন আর শুধু একটি মরিচখেত নয়। এটি হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার একটি ছোট্ট মাঠ। সেখানে প্রতিটি মরিচের সঙ্গে যেন তৈরি হচ্ছে নতুন একটি হিসাব-কম জমিতে বেশি উৎপাদন, উৎপাদনের সঙ্গে বাজার, আর বাজারের সঙ্গে কৃষকের বাড়তি আয়। এই হিসাবই আগামী বছর কামাল শেখকে আরও বড় জমিতে মরিচ চাষে টেনে নিচ্ছে।