একসময় টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন নুরু মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সময়ের সঙ্গে তার জীবনযাত্রা ও আর্থিক অবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার সম্পদ ও প্রভাব বৃদ্ধির পেছনে মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততা রয়েছেÑএমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও সূত্রের অভিযোগ, টঙ্গীর হাজীর মাজার বস্তি এলাকায় মাদক কারবারের একটি অংশ নেপথ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন নুরু মিয়া। তবে তিনি সরাসরি খুচরা বিক্রিতে না থেকে অন্যদের মাধ্যমে মাদক বিক্রি ও সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে খুচরা বিক্রেতারা আটক হলেও মাদক সরবরাহের মূল উৎস ও নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় বস্তি এলাকায় মাদকের কারবার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। ‘খুচরা বিক্রেতারা সামনে, নিয়ন্ত্রকরা আড়ালে’ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়াতে মাদক কারবারে জড়িত ছোট পর্যায়ের কয়েকজনকে সামনে রাখা হয়। তারা আটক বা গ্রেপ্তার হলেও বড় পর্যায়ের সরবরাহব্যবস্থায় খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। অভিযোগ রয়েছে, বড় চালান আসা, তা বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখেন নুরু মিয়া। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সিকিউরিটি গার্ড থেকে বিত্ত-বৈভবের মালিকÑউঠছে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরু মিয়া একসময় হাজীর মাজার বস্তিতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। বর্তমানে তার জীবনযাপন, আর্থিক সামর্থ্য ও সামাজিক প্রভাব আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে দাবি তাদের। এ পরিবর্তনের পেছনে তার বৈধ আয়ের উৎস কীÑএ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা নুরু মিয়ার দৃশ্যমান ও অপ্রকাশ্য সম্পদের উৎস যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বস্তি উচ্ছেদ নিয়েও অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে হাজীর মাজার বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করেও নুরু মিয়াকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, উচ্ছেদের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে নুরু মিয়া আলোচনায় আসেন। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বস্তির জায়গা নিয়ে ব্যবসায়িক বিরোধ ও দখলসংক্রান্ত স্বার্থের নেপথ্যে নুরু মিয়ার ভূমিকা থাকতে পারে। কেউ কেউ তাকে বস্তি উচ্ছেদের ‘নেপথ্যের কারিগর’ হিসেবেও দাবি করছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া না গেলে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ‘আয়নার সামনে এক চেহারা, আড়ালে আরেক?’ স্থানীয়দের কেউ কেউ নুরু মিয়ার কর্মকা-কে ‘আয়নাবাজি’ বলে আখ্যায়িত করছেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে তিনি নিজেকে এক ধরনের পরিচয়ে উপস্থাপন করলেও আড়ালে তার কর্মকা- ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্নÑএকসময় সাধারণ একজন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ব্যক্তি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও প্রভাবের মালিক হলেন? তার আয়ের উৎস ও সম্পদের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা মাদক ব্যবসা, বস্তি উচ্ছেদে নেপথ্য ভূমিকা এবং সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হাজীর মাজার বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্ট আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার করা হোক। তবে নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের কাছে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাদক ব্যবসায়ী বা ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে আখ্যায়িত করা সমীচীন নয়। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী প্রতিবেদনে: নুরু মিয়ার কথিত সম্পদ, ব্যবসা, আয়ের উৎস ও স্থানীয়ভাবে তার প্রভাব নিয়ে প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান।
সংবাদ শিরোনাম
সিকিউরিটি গার্ড থেকে বিত্ত-বৈভব: নুরু মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ, সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি
-
বশির আলম (টঙ্গী) গাজীপুর - আপডেট সময় ০২:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 45
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























