কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন এবং দেশে-বিদেশে তাদের উগ্র ও সংঘবদ্ধ তৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন তিনি। ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের ওপর হামলার বিচার দাবিও করেছেন তিনি। মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমানে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ, কৃষক-শ্রমিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং আপামর জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, হাজারো ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যাকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন এবং দেশে-বিদেশে তাদের উগ্র ও সংঘবদ্ধ তৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ইতালিতে সংস্কৃতিকর্মী ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যারা জঙ্গি কায়দায় হামলে পড়েছে, তাদের অবশ্যই শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। মেক্সিকোতে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমি আশা করি, ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সেদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইতালির সহযোগিতা চাইবে। বিদেশে ভ্রমণরত প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিক যেন নিজেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের (দূতাবাসগুলোর) দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।
এসময় তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, বাংলাদেশ সফররত কোনো ইতালীয় নাগরিক আজ এমন হামলার শিকার হলে, ইতালীয় মিশনের তৎপরতা এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে তাদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিতভাবেই দৃশ্যমান হতো। শুধু ইতালির এই ঘটনা নয়, বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে এমন অসভ্য, সহিংস ও ঘৃণ্য তৎপরতা চালালে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গিয়েছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।
বাঁধন জানান, স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা করেন। এ সময় তার গায়ে কোক ও ডিম ছোড়া হয়। তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোনও ছুড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।
হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করেন বলেও অভিযোগ বাঁধনের। তার দাবি, তারা তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করেন। এ সময় তাকে গালাগালিও করা হয়।
ভিডিওবার্তায় বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আপনারা এভাবে নিজেদের ফেরাতে পারবেন না।’
এ সময় বিষয়টি সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধও করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন, আশা করি আপনারা তার কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশকিছু ভিডিওতে একদল ব্যক্তিকে নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করতে দেখা গেছে। তারা বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর মধ্যেই শিল্পীদের নিরাপত্তা ও পারস্পরিক ঐক্যের বিষয়টি সামনে এনে বক্তব্য দিয়েছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তার বক্তব্যে মব বা সংঘবদ্ধভাবে কোনো শিল্পীকে হেনস্তা করার বিরোধিতার পাশাপাশি বিপদের সময় সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বানও উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আন্তর্জাতিক এই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময়ই ইতালিতে তাকে হেনস্তার অভিযোগ সামনে এলো।
সংবাদ শিরোনাম
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা আওয়ামী লীগের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন: রাষ্ট্রদূত মুশফিক
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৮:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 40
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

























