ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিরোধে বন্ধ ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

নিরাপত্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী বাজার সংলগ্ন কুমার নদে ১২৫ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা এবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বসা এ মেলা স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম বড় আয়োজন। এবার মেলা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেলজুড়ী বাজার সংলগ্ন কুমার নদে শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মেলাটি ‘তেলজুড়ী নৌকাবাইচের মেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করলেও স্থানীয়দের কাছে ‘ বিশ্বাস বা হাজামের মেলা’ নামেও পরিচিত। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর বাজার বণিক সমিতি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ কমিটির সভাপতি করা হয় বিএনপি নেতা শাকির আহমেদ শাকু ফকিরকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রহমান মেম্বারকে। সম্প্রতি কমিটির বৈঠকে মেলা আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির পদত্যাগ করলে কমিটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির সাবেক সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির ভাষ্য, ‘রাজনৈতিক ও পরিপার্শ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মেলা আয়োজন করা কঠিন।’ তিনি আরও জানান, ‘গত জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের সমর্থক একটি পক্ষ মেলা আয়োজনে বাধা দিচ্ছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই আমি পদত্যাগ করেছি। আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা যে কেউ দায়িত্ব নিয়ে মেলা আয়োজন করুন, আমি সার্বিক সহযোগিতা করব। পরে জানতে পারলাম, মেলা এ বছর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ তবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ নাকচ করে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রহমান মেম্বার জানান, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই এবার মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বছর মেলা-পরবর্তী সময়ে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও মেলার কয়েক দিন আগে ময়েনদিয়া, জয়পাশা, ধুলজোড়া ও পরমেশ্বরদীর লোকজনের সঙ্গে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে মেলা হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। তাছাড়া মেলা আয়োজনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, আমরা প্রতিবছর দুই গ্রামের শিল্পপতিদের মধ্য থেকে কাউকে প্রধান অতিথি করি তারাই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে , বাইরে থেকে কাউকে প্রধান অতিথি করা হয় না, স্পনসরও পাওয়া যায়নি। এসব কারণে মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।’ মেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হলেও মেলা বন্ধের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের ভূমিকা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কতিপয় সমর্থক লোকঐতিহ্যের ধারক এ শতবর্ষী মেলা বন্ধে তৎপর ছিলেন। তাদের তৎপরতার কারণে মেলা কমিটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিরোধের কারণে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নৌকাবাইচ ও মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। মেলার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত মিষ্টির দোকানি আ. জব্বার মোল্যার ভাষ্য, ‘বংশপরম্পরায় আমরা প্রায় ১০০ বছর ধরে এ মেলায় মিষ্টি বিক্রি করে আসছি। আমার দাদা, বাবা এবং পরে আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে আমিত্তি, গজা, দানাদার ও জিলাপি বিক্রি করে আসছি। এ বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ময়দা, চিনি ও বেসন কিনেছি। ইতোমধ্যে কয়েক মণ মিষ্টিও তৈরি করা হয়েছে। মেলা বন্ধ হওয়ায় আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হবে।’ এমন বক্তব্য দিয়েছেন আরও কয়েকজন দোকানী। যারা এ মেলার প্রতিক্ষায় দিন গুনছিলেন। শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ জানান, ‘মেলা বন্ধের বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। মেলা কমিটি আমার সহযোগিতা চাইলে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব।’ এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান জানান, ‘ কয়েকদিন আগে মেলা কমিটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা মেলা করবে বলে জানিয়েছিল। বন্ধের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। আমি যোগাযোগ করে যাতে ঐতিহ্যের ধারক শতবর্ষী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করব। শতবর্ষী ঐতিহ্য বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।’ উল্লেখ্য, গত বছর মেলাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে পার্শ্ববর্তী জয়পাশা গ্রামে ঘটা একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পাশার পক্ষে তেলজুড়ীতে হামলার চালায় খারদিয়ার লোকজন । হামলাকারীরা ১৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। ভোর থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে তেলজুড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিরোধে বন্ধ ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

আপডেট সময় ০৩:৩২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের তেলজুড়ী বাজার সংলগ্ন কুমার নদে ১২৫ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলা এবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বসা এ মেলা স্থানীয় লোকসংস্কৃতি ও বিনোদনের অন্যতম বড় আয়োজন। এবার মেলা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেলজুড়ী বাজার সংলগ্ন কুমার নদে শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মেলাটি ‘তেলজুড়ী নৌকাবাইচের মেলা’ নামে পরিচিতি লাভ করলেও স্থানীয়দের কাছে ‘ বিশ্বাস বা হাজামের মেলা’ নামেও পরিচিত। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর বাজার বণিক সমিতি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে মেলা পরিচালনার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ কমিটির সভাপতি করা হয় বিএনপি নেতা শাকির আহমেদ শাকু ফকিরকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. রহমান মেম্বারকে। সম্প্রতি কমিটির বৈঠকে মেলা আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির পদত্যাগ করলে কমিটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরে মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির সাবেক সভাপতি শাকির আহমেদ শাকু ফকির ভাষ্য, ‘রাজনৈতিক ও পরিপার্শ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মেলা আয়োজন করা কঠিন।’ তিনি আরও জানান, ‘গত জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের সমর্থক একটি পক্ষ মেলা আয়োজনে বাধা দিচ্ছে। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই আমি পদত্যাগ করেছি। আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা যে কেউ দায়িত্ব নিয়ে মেলা আয়োজন করুন, আমি সার্বিক সহযোগিতা করব। পরে জানতে পারলাম, মেলা এ বছর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ তবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ নাকচ করে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রহমান মেম্বার জানান, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই এবার মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বছর মেলা-পরবর্তী সময়ে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও মেলার কয়েক দিন আগে ময়েনদিয়া, জয়পাশা, ধুলজোড়া ও পরমেশ্বরদীর লোকজনের সঙ্গে খারদিয়া গ্রামের লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে মেলা হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। তাছাড়া মেলা আয়োজনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, আমরা প্রতিবছর দুই গ্রামের শিল্পপতিদের মধ্য থেকে কাউকে প্রধান অতিথি করি তারাই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করে , বাইরে থেকে কাউকে প্রধান অতিথি করা হয় না, স্পনসরও পাওয়া যায়নি। এসব কারণে মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।’ মেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হলেও মেলা বন্ধের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের ভূমিকা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কতিপয় সমর্থক লোকঐতিহ্যের ধারক এ শতবর্ষী মেলা বন্ধে তৎপর ছিলেন। তাদের তৎপরতার কারণে মেলা কমিটি বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বিরোধের কারণে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নৌকাবাইচ ও মেলা পুনরায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। মেলার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত মিষ্টির দোকানি আ. জব্বার মোল্যার ভাষ্য, ‘বংশপরম্পরায় আমরা প্রায় ১০০ বছর ধরে এ মেলায় মিষ্টি বিক্রি করে আসছি। আমার দাদা, বাবা এবং পরে আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে আমিত্তি, গজা, দানাদার ও জিলাপি বিক্রি করে আসছি। এ বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ময়দা, চিনি ও বেসন কিনেছি। ইতোমধ্যে কয়েক মণ মিষ্টিও তৈরি করা হয়েছে। মেলা বন্ধ হওয়ায় আমার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হবে।’ এমন বক্তব্য দিয়েছেন আরও কয়েকজন দোকানী। যারা এ মেলার প্রতিক্ষায় দিন গুনছিলেন। শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ জানান, ‘মেলা বন্ধের বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। মেলা কমিটি আমার সহযোগিতা চাইলে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব।’ এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান জানান, ‘ কয়েকদিন আগে মেলা কমিটির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা মেলা করবে বলে জানিয়েছিল। বন্ধের বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। আমি যোগাযোগ করে যাতে ঐতিহ্যের ধারক শতবর্ষী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করব। শতবর্ষী ঐতিহ্য বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।’ উল্লেখ্য, গত বছর মেলাকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে পার্শ্ববর্তী জয়পাশা গ্রামে ঘটা একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জয়পাশার পক্ষে তেলজুড়ীতে হামলার চালায় খারদিয়ার লোকজন । হামলাকারীরা ১৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। ভোর থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে তেলজুড়ী ব্রিজসংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।